ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

অপরাধ

খুন আতঙ্কে সহস্রাধিক রিক্রুটিং এজেন্সি

মনির হোসেন

১৭ নভেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০৫:৫৩


প্রিন্ট
খুন আতঙ্কে

খুন আতঙ্কে

জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার সদস্য ও ‘এস মুন্সী ওভারসিজ’-এর স্বত্বাধিকারী সিদ্দিক হোসেন মুন্সী (৫৫) খুনে জড়িত চিহ্নিত খুনিরা তিন দিনেও ধরা পড়েনি। খুনের ঘটনার সময় ওই অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাক হোসেন, মিরাজ পারভেজ ও মোখলেছুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

এ দিকে খুনিরা গ্রেফতার না হওয়ায় এই পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট সহস্রাধিক লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও অফিসের সাথে সম্পৃক্ত হাজার হাজার প্রতিনিধি এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বায়রার সব সদস্য দিনভর কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

এর আগে বুধবার ইস্কাটনের বায়রা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিককে খুনের ঘটনাকে নজিরবিহীন ঘটনা বলে উল্লেখ করেন বায়রা সভাপতি বেনজির আহমেদ। তিনি বলেন, এ ঘটনার পর অনেক ব্যবসায়ীই আমাদের টেলিফোন করে বলছেন, তারা এখন চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছেন।

গতকাল রাতে জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার যুগ্ম সম্পাদক ও সাদিয়া ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান নয়া দিগন্তকে বলেন, বুধবার বায়রা ভবনে সিদ্দিককে খুনের প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আমাদের সভাপতি বলেছেন, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। বায়রা মনে করে, যারা এ কাজ করেছে তারা মূলত ট্রেড ধসের উদ্দেশ্য করতে চাচ্ছে। নোমান চৌধুরী বলেন, আমাদের সবাইকে তো অফিস করতে হয় লোকজন নিয়ে। তার মধ্যে অপরিচিত লোকের সংখ্যা বেশি। যার দরুন সিদ্দিক খুনের ঘটনায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৯৫৭ জনসহ সহস্রাধিক মালিক আতঙ্কের মধ্যে আছি। তিনি বলেন, এ ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমাদের সভাপতি সাক্ষাৎ করেন। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী তাকে বলেছেন, দুই-চার দিনের মধ্যে একটা অগ্রগতি হতে পারে।

গতকাল জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও এভিয়েট ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী নুরুল আমিন নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা সহস্র্রাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক গ্রামীণ ও জাতীয় অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখছি। সেই হিসেবে আমরা কিন্তু সরকারের কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা পাচ্ছি না। প্রায় সময়ই আমাদের অফিসে ঢুকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী আবার কখনো মাস্তানরা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। টাকা নিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন ও অতিষ্ঠ। যার কারণে আমরা ব্যবসায়ীরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। সিদ্দিক খুনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি দ্রুত আসল খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানান সরকারের কাছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে রিক্রুটিং এজেন্সির ভেতরে যেন সন্ত্রাসীদের হাতে কোনো ব্যবসায়ী খুন বা আহত হওয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে সরকারের কাছে তিনি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান।

এর আগে বায়রার সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল আমিন স্বপন প্রতিবাদ সভায় বলেন, সিদ্দিক হোসেন মুন্সী একজন ভালো রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ছিলেন। দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনে তার রিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক কথা শুনিনি। তার ব্যবসায়িক শত্রু আছে বলেও জানা নেই। আমরা সরকারের কাছে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতারের দাবি করছি।

এ দিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনার সাথে জড়িতরা গ্রেফতার না হওয়ায় পরিবার ও তার ব্যবসায়ী বন্ধুরা অনেকটা হতাশ। তারা বলছেন, খুনিদের ছুবিসহ বর্ণনা পাওয়ার পরও এখনো তাদের গ্রেফতার না হওয়াটা হতাশার।

তবে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই মিল্টন দত্ত গতকাল রাতে নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা এখনো এজাহারভূক্ত একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারিনি। তবে আসামিদের ধরতে একাধিক টিম কাজ করছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে একদল দুর্বৃত্ত বনানীতে রাত পৌনে ৮টার দিকে বনানী বি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১১৩ নম্বর বাড়িতে এস মুন্সী ওভারসিসে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক সিদ্দিক হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে মামলা করেন। এরপরই পুলিশ ওই বাড়ি ও আশপাশ থেকে সিসি টিভির মাধ্যমে খুনিদের ফুটেজ সংগ্রহ করেন। তবে খুনের পেছনে কী কী কারণ থাকতে পারে সে ব্যাপারে পুলিশ এখনো অন্ধকারেই রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫