ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

অর্থনীতি

বিআইবিএম’র গবেষণা প্রতিবেদন

অনলাইন ব্যাংকিংয়ে জালিয়াতির ঘটনায় ৬৭ শতাংশ ব্যাংকার জড়িত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১৬ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৯:১৬


প্রিন্ট

ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জাল-জালিয়াতির ঘটনা। আর এ জালিয়াতির সাথে জড়িয়ে পড়ছে ব্যাংকাররা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন ব্যাংকিংয়ে জাল-জালিয়াতির ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৬৭ শতাংশ ব্যাংকার জড়িত। ৫০টি ঘটনা বিশ্লেষণ করে এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করে বিআইবিএম।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘অলটারনেটিভ ডেলিভারি চ্যানেল : অপরচুনিটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ অব দ্য নিউ ব্যাংকিং ইনভারমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালায় এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইবিএম’র মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যন্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আবুল বশর।

কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান আলমের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং জালিয়াতির ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে এটিএম ও প্লাস্টিক কার্ডের মাধ্যমে। জালিয়াতি ঘটনার মধ্যে ২৫ শতাংশ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘটছে। এসিপিএস এবং ইএফটির মাধ্যমে ঘটছে ১৫ শতাংশ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে ১২ শতাংশ, ব্যাংকিং সফট্ওয়ায়ের মাধ্যমে তিন শতাংশ এবং সুইফটের মাধ্যমে দুই শতাংশ জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর বলেন, অনলাইনভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয় অনেকাংশে কমে গেছে। মাত্র দুই লাখ জনবল দিয়ে এতোগুলো ব্যাংক কয়েক হাজার শাখা পরিচালনা করছে। অনলাইন ব্যাংকিং চালু না হলে এতোগুলো শাখা পরিচালনায় ১০ লাখেরও বেশি জনবল প্রয়োজন হতো।

তিনি বলেন, বিকল্প ব্যাংকিং ব্যবস্থা খুবই ভালো। কিন্তু এর অপব্যবহার হলে আর্থিক খাতে বড় ধরণের বিপর্যয় ঘটতে পারে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিদেশ থেকে রেমিটেন্স আনা হচ্ছে। ব্যাংকারদের প্রযুক্তির অপব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে যাতে আর্থিক খাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি হয়েছে। ১০ টাকার হিসাব খোলার সুযোগ দিয়ে শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাইকে যে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি করা যায়, তার পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের আইটিতে দক্ষতা বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, বাংলাদেশের সব নাগরিককে ১০ টাকার হিসাব খোলা বাধ্যতামূলক করতে হবে। এসময় জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এর ফলে ব্যাকিং খাতে জালিয়াতি অনেক কমে এসেছে।

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট মো. আরফান আলী বলেন, আগামী দিনে ব্যাংকিং খাতের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুতি না থাকলে ভয়াবহ সমস্যার মুখে পড়বে ব্যাংকিং খাত।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫