ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

অর্থনীতি

১৩ হাজার ৯২০টি ফ্ল্যাট হচ্ছে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল প্রকল্পে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১৬ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৮:৫০


প্রিন্ট

সরকারী বেসরকারী অংশীদারিত্বে (পিপিপি) রাজধানী সংলগ্ন কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল প্রকল্পে ১৩ হাজার ৯২০টি আবাসিক ফ্ল্যাট হচ্ছে। এতে প্রতি বর্গফুট সাড়ে চার হাজার টাকা হারে ফ্ল্যাট বিক্রি করা হবে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও মালয়েশিয়ার বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিংস এসডিএন বিএইচডি অ্যান্ড কনসোর্টিয়াম যৌথভাবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলায় আমরা আবাসন করতে যাচ্ছি।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আজ বৃহস্পতিবার প্রকল্পের ব্যাপারে রাজউক ও মালয়েশিয়ান কোম্পানির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্যগুলো জানান।

রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রহমান ও মালয়েশিয়ান কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ড. শরিফা সাবরিনা নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

অনুষ্ঠানে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নাসরুল হামিদ, রাজউকের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, মালয়েশিয়ান কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ড. শরিফা সাবরিনা, পিপিপি কর্তৃপক্ষের সিইও সৈয়দ আফছর এইচ উদ্দিন, প্রকল্প পরিচালক আব্দুল লতিফ হেলালি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

চুক্তির আওতায় আগামী চার বছরের মধ্যে এসব ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এজন্য মালয়েশিয়ান কোম্পানিটি বিনিয়োগ করবে। এটি পিপিপির আওতায় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম আবাসন প্রকল্প হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের লোকদের জন্য এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এক সময়ে রাজউক শুধুই আবাসিক প্লট উন্নয়নের কাজ করতো। কিন্তু দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফ্ল্যাট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অল্প জমিতে অধিক লোকের বসতির সুবিধা গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ।

তিনি বলেন, স্বল্প মূল্যে এসব ফ্ল্যাট দেয়া হবে। এতে প্রতি বর্গফুট মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। ঢাকার মধ্যে এই মূল্য বিরল। এছাড়া পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্রায় ৭০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করার উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সরকার সবার জন্য স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, কেরানীগঞ্জে ঝিলমিল আবাসিক পার্ক নামে এই প্রকল্পে ১৬০ একর জমির উপর মোট ৮৫টি বিভিন্ন আকারের ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ৬০টি ২০ তলা ভবনে ১৪০০ বর্গফুটের নয় হাজার ১২০টি, ১৪টি ২৫ তলা ভবনে ১৬০০ বর্গফুট আয়তনের দুই হাজার ৬৮৮টি এবং ১১টি ২৫ তলা ভবনে ২২০০ বর্গফুট আয়তনের দুই হাজার ১১২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের মোট জমির ২৩ শতাংশের উপর ভবনগুলো নির্মিত হবে। বাকী জমিতে ১৩ হাজার ৯২০টি গাড়ি পার্ক করার সুবিধা, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার, লেক, পার্ক, খেলার মাঠ, ঝর্নাসহ নানা সুবিধা রাখা হচ্ছে।

সর্বাধুনিক ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড বিল্ডিং ব্যবস্থায় (আইবিএস) এটি নির্মিত হবে। আগামী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে বলে জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী নাসরুল হামিদ বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় এই প্রকল্পটি হচ্ছে। সুতরাং তা আমার এলাকার জনগণের জন্য সুবিধা বয়ে আনবে। তিনি দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি কেরানীগঞ্জের লোকদের ওই প্রকল্পে প্লট পেতে কোটা বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫