ঢাকা, সোমবার,১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

আন্তর্জাতিক সংস্থা

যৌন হয়রানি বুলেটের চেয়ে সস্তা অথচ নিষ্ঠুর: অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৬ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৬:৪৬


প্রিন্ট
যৌন হয়রানি বুলেটের চেয়ে সস্তা অথচ নিষ্ঠুর: অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

যৌন হয়রানি বুলেটের চেয়ে সস্তা অথচ নিষ্ঠুর: অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

যৌন হয়রানি নারী ক্ষমতায়ন ও মানবাধিকারের জন্য একটি বড় হুমকি। যৌন হয়রানি এক ধরণের ভয়াবহ অস্ত্র, যেটি বুলেটের চেয়ে সস্তা অথচ নিষ্ঠুর।

সম্প্রতি কানাডার ভ্যানকুভারে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের আয়োজনে পিস কনফারেন্স-২০১৭ এর বক্তৃতায় নারী অধিকার রক্ষা ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে এসব কথা বলেন হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেন, বিশ্ব এখন বেশ অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ থেকে বিশ্বকে মুক্তি দিতে হবে। যেকোন সহিংসতায় নারী ও শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এক শান্তিময় পৃথিবীর বার্তাও শোনান এ হলিউড অভিনেত্রী।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের ওপর যে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে তার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি রোহিঙ্গাদের দেখতে বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করছেন বলেও জানিয়েছেন।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি একজন অভিনেত্রী হিসেবে নয়, মানবাধিকার কর্মী হিসেবেও বিশ্বব্যাপী পরিচিত । জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন দীর্ঘদিন থেকে।

সু চিকে মুখ খোলার আহ্বান অ্যাঞ্জেলিনা জোলির

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তিনি মিয়ানমার সরকার ও এর নেত্রী অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেনÑ আর নীরব থাকবেন না। খবর বার্তা সংস্থা এপির।

এতে বলা হয়, সাপ্তাহিক ওয়েল্ট অ্যাম সোনটাগকে তিনি রোববার বলেছেন, সুস্পষ্ট করে বলছি, সেনাবাহিনীর এই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। শরণার্থীদের তাদের ঘরে ফিরে যেতে দিতি হবে। রোহিঙ্গাদের দিতে হবে নাগরিক অধিকার। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেন, আমরা আশা করব, বর্তমান পরিস্থিতিতে অং সান সু চি মানবাধিকারের বিষয়ে কথা বলবেন।

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর নৃশংসতায় সারাবিশ্বে তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া অং সান সু চি। এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে তিনি নিন্দা জানাননি। এ জন্য তার সমালোচনা করছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূস, মালালা ইউসুফজাই, ডেসমন্ড টুটুসহ অসংখ্য বিজ্ঞ ও পণ্ডিতজন।

শুধু তা-ই নয়, বিবিসির মতো টেলিভিশন চ্যানেলও রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে বিশেষ টকশো আয়োজন করছে। তাতে অং সান সু চির তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে। সিএনএনও সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। এক কথায় বিশ্বের বিবেকবোধসম্পন্ন সব মানুষকে নাড়া দিয়েছে রোহিঙ্গা সঙ্কট। এ মিছিলে শরিক হলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

উল্লেখ্য, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি যুক্তরাষ্ট্রের অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, মানবাধিকার কর্মী। তিনি হলিউডে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড, দু’টি স্ক্রিন এক্টর গিল্ড অ্যাওয়ার্ড, তিনটি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড। তিনি হলিউডের সবচেয়ে বেশি সম্মানিতে কাজ করা অভিনেত্রী। তার অভিনীত ছবির মধ্যে রয়েছে : ‘জর্জ ওয়ালেস’ ‘জিয়া’ ‘এ মাইটি হার্ট’ প্রভৃতি।

জোলিকে ফিরে পেতে যা করছেন ব্রাড

অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে নিজের জীবনে ফিরে পেতে মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছেন ব্র্যাড পিট। সূত্রের খবর, তাদের বিবাহবিচ্ছেদও হচ্ছে না। প্রায় এক দশক ধরে প্রেম, তারপর দুবছরের বিবাহিত জীবন। কিন্তু সবকিছুতে ইতি টেনে ২০১৬-র সেপ্টেম্বরে বিবাহবিচ্ছেদ ঘোষণা করেন হলিউডের এই পাওয়ার কাপল। অবশেষে নিজের কিছু বদভ্যাস বদলে ফের অ্যাঞ্জেলিনাকে নিজের জীবনে ফিরিয়ে আনতে চলেছেন ব্র্যাড, সূত্রের এমনই দাবি।

ব্র্যাডের নেশা করার স্বভাবের জন্যেই ব্র্যাঞ্জেলিনার সম্পর্ক একসময় বিষিয়ে ওঠে। তারপর ছেলে ম্যাডক্সের সঙ্গে ব্র্যাডের ইওরোপ সফর থেকে ফেরার সময় কিছু কথা কাটাকাটি হয়। এমনকি সেই কথা কাটাকাটি মারধর পর্যন্ত গড়ায়। এরপরই অ্যাঞ্জেলিনা সিদ্ধান্ত নেন বিচ্ছেদের।

জানুয়ারিতে হলিউডের এই জুটি একজন ব্যক্তিগত বিচারক নিয়োগ করেন, তাদের বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্যে। সেইসময় ব্র্যাডের ওপর থেকে সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন জোলি।
তবে সমস্ত অভিযোগ থেকে অব্যহতি দিলেও, নিজের মন থেকে ব্র্যাডকে ছেঁটে ফেলতে পারেননি জোলি। ছয় সন্তানকে নিয়ে নিজেদের প্রাসাদের মতো বাড়ি থেকে অ্যাঞ্জেলিনা বেরিয়ে আসতে পারলেও, ব্র্যাডকে মন থেকে বের করতে পারেননি তিনি।

এদিকে ব্র্যাডও জোলিকে ফিরে পেতে ছিলেন মরিয়া। অবশেষে দুজনেই সমঝোতার কথা ভাবছেন।
সূত্রের খবর, বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে দুপক্ষই এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও উদ্যোগ নেননি।

এদিকে ব্র্যাড মদ্যপান ছেড়ে দেওয়ায়, সম্পর্কটাকে দ্বিতীয় সুযোগ দিতে হয়তো মনে মনে কিছুটা প্রস্তুত অ্যাঞ্জেলিনা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫