ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

আইন ও বিচার

আদালতে খালেদা জিয়া

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৫:৩৩ | আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৫:৫৯


প্রিন্ট
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদালতে বলেছেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে কোনোরকম দুর্নীতি হয়নি। এ মামলায় আমাকে কেন অভিযুক্ত করা হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জনগণের কাছে এই প্রতিটি মামলাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে দায়ের করা হয়েছে। সবগুলো মামলা করা হয়েছে অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগে। আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা কোনো মামলারই কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। আমি রাজনীতিতে সক্রিয় বলে এবং আমাকে ক্ষমতাসীনদের জন্য সবচে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। অথচ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলাগুলো তুলে নেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগে ক্রমাগত অপপ্রচার চালিয়েও জনগণ থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ হয়ে তারা এসব মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছে।’

আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি এ মামলার বিবরণ থেকে জেনেছি এবং কুয়েত দূতাবাসের চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে এতিমখানা প্রতিষ্ঠার জন্য অনুদান দিয়েছিলো। আমি আরো জেনেছি কুয়েতের দেয়া অনুদানের অর্থ দুই ভাগ করে দু'টি ট্রাস্টকে দেয়া হয়। এতে আইনের কোনো লঙ্ঘন হয়নি এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি কিংবা অন্য কারো লাভবান হওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া, ট্রাস্ট দু’টির কোনো পদে আমি কখনো ছিলাম না বা এখনো নেই। প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিলো না।’

তিনি বলেন, ‘মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে আরো জানতে পেরেছি যে, বগুড়ায় এতিমখানা স্থাপনের লক্ষ্যে যে জমি ক্রয় করা হয়েছে সে জমি ক্রয় সম্পর্কেও অনিয়মের কোনো অভিযোগ নেই। এই ট্রাস্টের বাকি টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে এবং তা সুদাসলে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশিবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. মো: আকতারুজ্জামানের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে পঞ্চম দিনের মতো বক্তব্য রেখেছেন।

খালেদা জিয়া আদালতে বেলা ১১টা ৫০ মিনিট থেকে ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত এক ঘন্টা ৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন। এরপর খালেদা জিয়া তার বক্তব্য অসমাপ্ত অবস্থায় বাকি বক্তব্য রাখার জন্য সময় আবেদন করলে আদালত ২৩ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এরআগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য রাখতে আদালতে আসেন বেগম খালেদা জিয়া।

আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনবিদ জমিরউদ্দিন সরকার, মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুর রেজাক খান, এ জে মোহাম্মদ আলী, আমিনুল হক, জয়নুল আবেদীন, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সানাউল্লা মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বদরুদ্দোজা বাদল, জাকির হোসেন ভূইয়া প্রমুখ।

বিএনপি নেতাদের আদালতে উপস্থিত ছিলেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল আউয়াল মিন্টু, রুহুল কবির রিজভী, বরকতউল্লাহ বুলু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আফরোজা আব্বাস প্রমুখ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

গত ১২ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে দুই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. মো: আকতারুজ্জামানের আদালত। ওইদিন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

বেগম খালেদা জিয়া জিয়া লন্ডনে পা ও চোখের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে গত ১৯ অক্টোবর অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। ওই দিন তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে প্রায় এক ঘণ্টা বক্তব্য রাখেন। এর গত ২৬ অক্টোবর খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা দিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫