ডিজিটাল ক্ষমতার নীলদংশন
ডিজিটাল ক্ষমতার নীলদংশন

ডিজিটাল ক্ষমতার নীলদংশন

জসিম উদ্দিন

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে ছাত্রলীগের এক নেতা ছয় নারীকে ফাঁদে ফেলে তাদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। সংবাদমাধ্যম এটিকে শোভন আকার দিয়ে ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ বললেও ঘটনার বিস্তৃত বিবরণে এটা যে ধর্ষণ ছিল, তা প্রতীয়মান হয়। ওই সব দৃশ্য গোপন ভিডিও করে আবার ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ওই নারীদের একজন লজ্জায় ভয়ে এলাকা ছেড়ে গেছেন। দু’জন কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এক গৃহবধূকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। এত মানুষের জীবন ওলটপালট হয়ে যাওয়ার পরও ওই নেতাকে ছোঁয়া যাচ্ছে না। 

ওই নেতা আরিফ হোসেন। ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোন স্তরে পড়েন অনেক ক্ষেত্রে তার হদিস পাওয়া যায় না। তবে আরিফ রীতিমতো স্থানীয় একটি কলেজে স্নাতক শ্রেণীতে পড়েন। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনটির সদস্যদের যেকোনো অপরাধ আয়োজন পান্তাভাত। এসব ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করার ক্ষমতাও সাধারণ মানুষের নেই। তবে অপরাধ যদি ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছে, সেটা আর সামাল দেয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। যেমন পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। আইন-আদালতের মুখোমুখি করা হয়। ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায় তার জন্য স্পেশাল ট্রিটমেন্ট থাকে। তবে সাধারণ মানুষ কোনোভাবে পুলিশ কাস্টডিতে গেলে তাকে মারধরের শিকার হতে হয়। অনেক সময় যেই সব অপরাধ সে করেনি তাও তার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয়। তবে এ ক্ষেত্রে ঘুষ কাজে লাগে, পুলিশের ডলা খাওয়ার পেরেশানি কিছুটা কমে। ক্ষেত্রবিশেষে সাধারণ নাগরিকদের অনেকে পুলিশ কাস্টডিতে প্রাণ হারান। এমন উদ্বেগজনক ঘটনার কোনো তদন্ত হয় না। পুলিশ নিজেদের পক্ষে যেসব সাফাই গায় সেটাই মেনে নিতে হয়। সেটাই চূড়ান্ত বিচার হয়ে থাকে বাংলাদেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থায়।

নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফের অপরাধটি যদি ছাত্রদলের কোনো নেতা করতেন তাহলে কী হতো। সে মুহূর্তের মধ্যে গ্রেফতার হয়ে যেত। বিচারের আগে সরকার পুলিশ ও মিডিয়া মিলে একটা ট্রায়াল আগেই করে ফেলা হতো। দেখা যেত শুধু ধর্ষণ নয় সে আরো অনেক অপরাধের সাথে জড়িত। এরপরে সে এবং তার পরিবার ঠিকভাবে টের পেত বাংলাদেশের আইন কতটা কঠিন ও কঠোর। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলত। চলতে গিয়ে কখনো তা পথ হারাত না। এ কারণে এ জামানায় বিরোধীরা অনেকটা ধোয়া তুলসী পাতা হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বিরোধীদের সাদা মনের মানুষে পরিণত করার জন্য বর্তমান আমলটি খুবই উপযোগী হয়েছে।

দলের নেতারা ক্ষমতার ঠাট ব্যবহার করে যখন খুন ধর্ষণের মতো কাজ করে ফেলেন, আর সেটা একেবারে প্রকাশ্যে প্রমাণ হয়ে যায় ছাত্রলীগ তখন একটি বহিষ্কার নাটক সাজায়। এটা দারুণ একটা নাটক। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেয়াল করে কেউ যদি দেখেন তাহলে তারা দেখতে পাবেন, সবচেয়ে বড় অপরাধীদের জন্য কিভাবে তারা বড় প্রমোশনের আয়োজন করে।

আরিফের ব্যাপারটি একটু জটিল হয়ে যায় একসাথে অনেক নারীর ওপর ডিজিটাল থেরাপি প্রয়োগের কারণে। এটা আর গোপন রাখা যায়নি। ভুক্তভোগীদের মধ্যে একটা আউটবার্স্ট হয়েছে। তারা আর মুখ গুঁজে থাকতে পারেননি। ডিজিটাল পদ্ধতিকে অভিনব কায়দায় ব্যবহার করেছে আরিফ। ফাঁদে ফেলার তার এ কৌশল ছিল একটা সময় পর্যন্ত অভ্রান্ত। এক গৃহবধূর গোসলখানায় ভিডিও ক্যামেরা বসিয়ে গোসল করার দৃশ্য ধারণ করে। সেই ভিডিও আবার তাকে দেখানো হয়। তাকে ভয় দেখানো হয় এই ভিডিও দৃশ্য ছড়িয়ে দেয়া হবে। এরপর ওই নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে সে। এই সম্পর্ক স্থাপন না করে ওই নারী তখন কোনো বিকল্প দেখতে পাননি। কারণ, ক্ষমতার জাল এতটাই শক্তিশালী ‘না’ বলা যায় না। এবারো তার সাথে স্থাপন হওয়া যৌন সম্পর্কের ভিডিও সে ধারণ করে। অর্থাৎ একটার পর একটা ফাঁদ পাতা হয়েছে। ফাঁদের চক্রে পড়ে ওই নারী ও তার জীবন যায় যায় অবস্থা। ছয়জনের সাথেই অভিনব কায়দায় ব্যবহার করা হয়। তাদের কারো মুখ খোলার কোনো রাস্তা আরিফ বাকি রাখেনি।

অপরাধের অনুকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ডিজিটাল আমল চ্যাম্পিয়ন। কোনো একটি অভিনব অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথে নকল করতে অনেকে প্রস্তুত হয়ে যায়। এমনিতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নড়বড়ে। তার ওপর যারা এটি নকল করতে যায় তারা একই অপরাধ সংঘটনের ব্যাপারে আরো সাবধানী হয়। ফলে তারা ধরা পড়ার ফুটাকে আরো সাফল্যজনকভাবে বন্ধ করতে পারে। অন্য দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধের নতুন ধরনের ব্যাপারে সর্বদাই পেছনে পড়ে থাকে। কারণ তাদের আছে অনেক কাজ, এ ব্যাপারে মনোযোগ দেবে কখন! ফলে অপরাধ বাড়ছে ভুক্তভোগী ও নির্যাতিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে বাংলাদেশে।

আরিফের কর্মকাণ্ডে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য খুব একটা বেশি পাপ দেখতে পাচ্ছে না। নারী অধিকার আন্দোলনকারীরাও এটাকে সেভাবে আমলে নেয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না। এর কারণ এখানে খুব একটা রাজনৈতিক ফায়দা তারা দেখছেন না। বাংলাদেশে মানবাধিকার আন্দোলন ও নারী আন্দোলন প্রকৃতপক্ষে মানবাধিকার রক্ষা ও নারী অধিকার রক্ষার জন্য গড়ে যে ওঠেনি তা প্রায় টের পাওয়া যায়। এরা যেভাবে অন্যায়কে শনাক্ত করে সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। মূলত রাজনৈতিক ফায়দা এনে দেয়ার জন্য এরা কাজ করে থাকে। ফলে কোনো রাজনৈতিক সরকারের আমলে এই অপরাধ ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও সেটা পাত্তা পায় না। কারণ, তারা এটি সামনে আনতে চায় না সরকারে রাজনৈতিক ক্ষতির কথা চিন্তা করে। অন্য দিকে একই ধরনের ঘটনা তাদের বিরোধী রাজনৈতিক আদর্শের সরকারের আমলে ঘটলে ঘটনা যতটা না তার চেয়ে বেশি হাইলাইট করা হয়। আবার অনেক সময় এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটা ছাড়াই ইস্যু উঠিয়ে দেয়া হয়। ফলে বাংলাদেশে মানবাধিকার ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটি পেছনে পড়ে রয়েছে। এটি অনেকটাই হয়ে উঠছে রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধা পাইয়ে দেয়ার হাতিয়ার হিসেবে। বর্তমান সরকারের আমলে এই ধরনের পরজীবীদের তৎপরতা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।

মানবাধিকার সংগঠনের যারা মাথা, তারা ঢাকা থেকে কোনো হুঙ্কার ছাড়ার প্রয়োজন মনে করেননি। ছাত্রলীগের আরিফের ছয় নারীর বিরুদ্ধে করা অপরাধকে তারা এমন গুরুতর মনে করছেন না। তবে জাতীয় মহিলা সংস্থা শরীয়তপুর শাখা একটি পত্রিকার কাছে মন্তব্য করেছে, ‘এভাবে নারীদের সম্মানহানি আর সহ্য করা হবে না’। কিভাবে সহ্য করা হবে না তার আর ফলোআপ নেই। আরিফকে থানা ও জেলা পুলিশ খুঁজছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তাকে ধরতে অত্যন্ত তৎপর। ঘটনার প্রায় এক মাস হতে চললেও তাকে কেউ ধরতে পারেনি। তিনি এতটাই পালিয়ে থাকতে সক্ষম। অথচ কয়েক দিন আগেও তার মোবাইল ফোন সচল পাওয়া যায়। সাংবাদিকদের ফোন জানতে পেরে তিনি কেটে দেন। অপরাধী ধরার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সফলতা অন্তত বিশ্বে রেকর্ড হয়ে থাকবে। মাটির দশ হাত নিচ থেকে কিংবা কবর থেকে অপরাধী ধরে আনার কৌশলও তারা রপ্ত করেছে। তবে এই অপরাধীদের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক লেবেল থাকতে হবে। তাদেরকে অবশ্যই সরকারের বিরোধী কিংবা সমালোচক হতে হবে। তারা যদি সরকারি দলের হয় কিংবা অপহরণকারী হয় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ হয়ে যায়!

সন্তান যখন এমন নিকৃষ্ট যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়ায় তখন বাবার প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে? আরিফ ভুল করে একটি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছে এমন নয়। সে পেশাদার অপরাধী, কয়েক বছর থেকে রাজনৈতিক শেল্টারে থেকে দুষ্কর্ম সে করছে। তার অপরাধের প্রমাণ রয়েছে। সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। তা সবাই জেনে গেছে। মানুষ কতটা নির্লজ্জ-বেহায়া হয়ে গেছে তার বাবার প্রতিক্রিয়া থেকে অনুমান করা যায়। আর কোনো ধরনের মানুষ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে তার একটা আদর্শ মাপও বোঝা যায় এই ঘটনা থেকে। এই প্রজন্মের মানুষের অনেকে শুধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে। আরিফের বাবা মিন্টু হাওলাদার বলেন, ‘আমার ছেলে রাজনীতি করত। অনেকের শত্রু ছিল। ষড়যন্ত্র করে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন কিছু ব্যক্তিগত জিনিস প্রচার করছে।’

ছয়জন নারীর ইজ্জত লুটে নেয়ার পর মিন্টু হাওলাদারের কাছে এটি ব্যক্তিগত। আর জাতীয় রাজনীতির যে অবক্ষয় তারও প্রতিধ্বনিত হলো তার কথায়। তার মতে, বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ‘কিছু ব্যক্তিগত জিনিস’ প্রচার করছে। একটি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরপরই রাজনৈতিক নেতাদের পাল্টাপাল্টি দোষারোপের অপসংস্কৃতি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে একটা কাজই হয়েছে সেটা হচ্ছে অপরাধীদের পোয়াবারো হয়েছে। এই নিকৃষ্ট ঘটনার জন্য বাবার কোনো অনুশোচনা নেই। নেই কোনো গ্লানি, তার কোনো আত্মসম্মান ও অপরাধকে ঘৃণা করার চেতনা নেই। সামান্য ক্ষমতার মোহে ব্যক্তি তার নিজেকে এভাবে শেষ করে দিচ্ছে। বাংলাদেশে এমন অপরাজনীতির চর্চা অনেক বেড়ে গেছে।

১২ নভেম্বর মানবজমিন ডিজিটাল প্রেমের মহামারির একটি খবর দিয়েছে। বাংলাদেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে এটা কাজ করছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে বর্তমানে দশম স্থানে উঠে এসেছে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বে ৩৪তম। বাংলাদেশে কেন আত্মহত্যার প্রবণতার বাড়ছে। প্রযুক্তির ক্ষতিকর ব্যবহার এজন্য কতটা দায়ী সেটা নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুসারে সারা দেশে গত ৪৬ মাসে ৩৯ হাজার ৬০০ জন আত্মহত্যা করেছেন।

পত্রিকাটি ঠাকুরগাঁও শহরের একটি যুগল আত্মহত্যার খবর দিয়েছে। শহরে কলেজপাড়া এলাকার তরুণী প্রত্যাশা, তার সাথে ভাইবোনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তন্ময় নামের এক তরুণের। তারা প্রায়ই একে অপরের সাথে ইন্টারনেটে আলাপ করতেন। ২৯ জুলাই ফেসবুকে ‘সব বলা হয়তো শেষ হয় না। অবশেষে শেষ নিঃশ্বাস (কেউ কমেন্ট করবেন না প্লিজ)।’ এরকম একটি স্ট্যাটাস দিয়ে প্রত্যাশা ঘুমের ওষুধ খেয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
তার আত্মহত্যার কয়েক দিন পর শহরের গোয়ালপাড়া এলাকায় তন্ময়ও ফেসবুকে ‘আমি তোমাকে অনেক মিস করেছি, তুমি জানতে আমি একটু পাগল টাইপের, তুমি তো মানিয়ে নিতে পারতে। তোমার নাম্বারটাও আমি রেগে ডিলিট করে দেই, কিন্তু আমি সত্যি তোমাকে অনেক মিস করেছি।’ স্ট্যাটাস দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

মানুষের মধ্যে কৃত্রিম সম্পর্ক পাতানোর একটা রেওয়াজ রয়েছে। আন্তরিকতা হৃদ্যতা ও ভালোবাসা থেকে এই ধরনের সম্পর্কর সূচনা হয়। একটা পবিত্র অনুভূতি থেকে এর যাত্রা শুরু হলেও এই সম্পর্কটা যে ঠুনকো তাও প্রমাণ হয়। বেশির ভাগ সময়ই সম্পর্ক শুরুর পবিত্রতা রক্ষা করা যায় না। এতে আশ্রয় নেয় প্রধানত কামনা। ভাইবোনের এই পাতানো সম্পর্ক কখন নারী-পুরুষের স্বাভাবিক সম্পর্কের দিকে টার্ন করে তারা বুঝতেই পারে না। এই ধরনের জেগে ওঠা আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ে পাতানো ভাইবোনের মধ্যে। সেটা আসলে সামাজিক মাধ্যম ভর করে হয়ে উঠেছিল প্রেমের সম্পর্কে। তার যবনিকাপাত হয়েছে করুণ পরিণতির মাধ্যমে।
jjshim146@yahoo.com

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.