ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

এশিয়া

রোহিঙ্গা প্রশ্নে সুকি ও সেনাবাহিনীকে চাপ দিতে মিয়ানমারে টিলারসন

এএফপি

১৫ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৩:৪৯ | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৪:০৮


প্রিন্ট
এবার মার্কিন চাপের মুখে সুচি আর মিয়ানমার সেনাবাহিনী

এবার মার্কিন চাপের মুখে সুচি আর মিয়ানমার সেনাবাহিনী

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক বুধবার মিয়ানমারে পৌঁছেছেন। দেশটির সহিংসতাপূর্ণ রাখাইন রাজ্যের ব্যাপারে বেসামরিক নেতা অং সান সুকি এবং সেনা প্রধানকে চাপ দেয়াই তার এ সফরের লক্ষ্য।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমনপীড়ন চালানো নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠার প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন একদিনের এ সফরে এলেন। সামরিক দমনপীড়নের কারণে গত আগস্ট মাসের শেষের দিক থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
জাতিসঙ্ঘ রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক নৃশংসতা চালানোকে জাতিগত নিধন হিসেবে অভিহিত করেছে।
তবে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী জোর দিয়ে জানায়, তারা কেবলমাত্র রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করেই অভিযান চালায়।

এ সফরের প্রাক্কালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, সফরকালে টিলারসন প্রথমে মিয়ানমারের সেনা কমান্ডার-ইন-চিফ মিন অং হলাংয়ের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। তিনি এ সহিংসতা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার এবং এ নৃশংসতার ‘সঠিক তদন্ত’ করার আহবান জানাবেন।

এরপর তিনি নোবেল বিজয়ী নেত্রী সুকির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
এ সময় টিলারসন সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো হুমকি দেবেন কিনা সে ব্যাপারে ওই কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করেননি ।

৩৬ হাজার রোহিঙ্গা এতিম শিশু শনাক্ত

কক্সবাজার (দক্ষিণ) সংবাদদাতা

উখিয়া-টেকনাফের ১২টি অস্থায়ী ক্যাম্পে ‘রোহিঙ্গা এতিম শিশু সুরক্ষা প্রকল্পে’ জরিপের প্রাথমিক কাজ শেষ করেছে সমাজসেবা অধিদফতর। জরিপে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাখাইন উগ্রবাদীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৩৭৩ এতিম শিশু শনাক্ত করা হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ জরিপের প্রাথমিক কাজ ১০ নভেম্বর শেষ হয়।

এসব এতিমের মধ্যে কুতুপালং (লম্বাশিয়া) শরণার্থী শিবিরে রুবিনা নামে এক এতিম শিশুকন্যার সাথে কথা হয়। সাত বছরের রোহিঙ্গা এতিম শিশু রুবিনা মাতৃভাষায় এ প্রতিবেদককে জানায়,‘আধা রাতিয়া ঘুমত্ চমকি চমকি উড়ি। ঘুমত্ মাম্মা আঁরে ডাকে। বাবারে গুলি মারেদ্দে দেখিলে ঘুম ভাঙ্গি যা-গই।’ অর্থাৎ মধ্যরাতে ঘুমের মধ্যে চমকে উঠি। ঘুমে মা এসে আমাকে ডাকেন। বাবাকে গুলি করে হত্যার দৃশ্য দেখে ঘুম ভেঙে যায়।

মংডু প্রাংপ্রু গ্রামের আব্দুল্লাহ ও জুনুবাহারের সন্তান রুবিনা। বর্তমানে কুতুপালং (লম্বাশিয়া) শরণার্থী শিবিরে একমাত্র ভাইয়ের কাছে থাকে। বাবা-মাকে চোখের সামনে মারা যেতে দেখেছে সে। গত কুরবানির ঈদের দুই দিন পর তার বাবাকে মিলিটারি গুলি করে হত্যা করে। তার মা জুনুবাহার স্বামী শোকে পাথর হয়ে যান। মগ, উগ্রপন্থী বৌদ্ধ ও মিলিটারি মিলে তাদের গ্রাম পুড়িয়ে দিলে, অন্য গ্রামে তারা এক মাস অবস্থান করে। মিলিটারি একের পর এক রোহিঙ্গা গ্রাম পুড়াতে থাকায় বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে পাড়ি দেয়।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার এক দিন আগে রুবিনার মা জুনু বাহার মারা যান। বাবা-মায়ের মৃত্যুর দৃশ্য বলতে গিয়ে এক রকম চুপ হয়ে যায় রুবিনা। শিশু রুবিনার চোখেমুখে এখনো ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে।

তার একমাত্র বড় ভাই জানায়, এখনো তার ছোটবোন ঠিকমতো খেতে চায় না। কারো সাথে তেমন কথা বলে না। একা একা বসে থাকে। মাঝ রাতে ঘুমের মধ্যে কান্নাকাটি করে। চিৎকার করে জেগে ওঠে। ছোটবোনের অস্বাভাবিক আচরণে সে চিন্তিত। রুবিনার মতো হাজারো এতিম শিশু বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে।


খেলে ক্ষুধা চলে যায়, ওষুধে শরীরের ক্ষত সেরে যায়। কিন্তু হৃদয়ের ক্ষত সহজেই সেরে ওঠে না। সার জীবন দুর্বিষহ স্মৃতি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করবে রুবিনাদের। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ জরিপের প্রাথমিক কাজ ১০ নভেম্বর শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও রোহিঙ্গা এতিম শিশু সুরক্ষা প্রকল্পের ফোকাল কর্মকর্তা মো: আল আমিন জামিলী। তিনি বলেন, জরিপের প্রাথমিক কাজ শেষ হলেও রোহিঙ্গা আসা অব্যাহত থাকায় জরিপের কাজ পরেও চলমান থাকবে। ফলে এতিম শিশুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। তবে এ পর্যন্ত প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ডাটা এন্ট্রির কাজ চলছে।
তিনি আরো বলেন শূন্য থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত রোহিঙ্গা এতিম শিশুদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতিম শিশু শনাক্তের ক্ষেত্রে কারো মা আছে; বাবা নেই। আবার কারো বাবা-মা কেউ নেই। অথবা মা, বাবা থাকার পরও পরিত্যক্ত শিশুদের এতিম বলেই গণ্য করা হয়েছে। পরে এসব রোহিঙ্গা এতিম শিশুকে সুরক্ষার মাধ্যমে সেবাযতœ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।


২৫ আগস্ট মিয়ানমারে চলমান সহিংসতার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫