ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

শেষের পাতা

নরসিংদীতে স্বামীর হাতে স্ত্রী ও মেয়ে খুন

নরসিংদী সংবাদদাতা

১৫ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

নেশার টাকা না পাওয়ায় নেশাখোর স্বামী কবির হোসেন, তার অন্ধ স্ত্রী হাফেজা বেগম (৩৫) ও মেয়ে সাদিয়া বেগমকে (৬) গলা কেটে হত্যা করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার রাতে নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নে পূর্ব ঘোড়াদিয়া গ্রামের মো: দেলোয়ার সওদাগরের বাড়িতে।
পুলিশ ও আশপাশের লোকজন জানান, কবির হোসেন পেশায় একজন রিকশাচালক। সে দীর্ঘ দিন ধরে ওই বাড়িতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে বসবাস করত। স্ত্রী হাফেজা বেগম ছিলেন অন্ধ। তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে ভিক্ষা করতেন। এ দিকে রিকশাচালক কবির হোসেন প্রতিনিয়ত নেশা করত। ঘটনার দিন সে রিকশা নিয়ে বের হয়নি। সারা দিন বাড়িতেই ছিল। রাতে তার স্ত্রী হাফেজা বেগম ভিক্ষা করে কিছু টাকা নিয়ে ঘরে ফিরলে কবির হোসেন নেশা করার জন্য তার কাছে টাকা দাবি করে। হাফেজা বেগম টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে কবির হোসেন উত্তেজিত হয়ে বঁটি দিয়ে প্রথমে স্ত্রী হাফেজা বেগমকে এবং পরে তার মেয়ে সাদিয়া বেগমকে গলা কেটে হত্যা করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন মঙ্গলবার ভোরে বাড়ির লোকজন কবির হোসেনের কাছ থেকে গেটের চাবি আনতে গেলে অনেক ডাকাডাকির পরও তার কোনো উত্তর না পেয়ে ঘরের দরজা ধাক্কা দিলে দরজা খুলে যায়। পরে হাফেজা বেগম ও সাদিয়া বেগমের লাশ দেখতে পায়। বিষয়টি নরসিংদী সদর থানা পুলিশকে অবহিত করার পর নরসিংদী থানার এসআই তাপনকান্ত রায় লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যান।
কবির হোসেনের বড় মেয়ে শামীমা বেগম (১২) এক ব্যক্তির বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করত। ঘটনার দিন শামীমা বাড়িতে ছিল না। কবির হোসেনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাড্ডা গ্রামে বলে জানা গেছে। হাফেজা বেগমের বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া গ্রামে। এ ব্যাপারে নিহত হাফেজা বেগমের বাবা রমজান আলী বাদি হয়ে নরসিংদী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫