ঢাকা, মঙ্গলবার,২১ নভেম্বর ২০১৭

মধ্যপ্রাচ্য

এখনো ঘরের বাইরে অবস্থান করছে ভূমিকম্পে আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ

পার্সটুডে

১৪ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৭:১২ | আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৮:১৪


প্রিন্ট
এখনো ঘরের বাইরে অবস্থান করছে ভূমিকম্পে আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ

এখনো ঘরের বাইরে অবস্থান করছে ভূমিকম্পে আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ

ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে রোববার রাতের মূল ভূমিকম্পের পর গত দুই দিনে সেখানে ১৯৩ বার কম্পন অনুভূত হয়েছে। ইরানের সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুতগতিতে ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে।

অনেক আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ এখনও ঘরের বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের জন্য মানসম্পন্ন তাবুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও পুরোপুরি সচল করার চেষ্টা চলছে।

অনেক দেশই ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

কেন বার বার ভূমিকম্প হয় ইরানে?

বিশ্বের যেসব এলাকায় বার বার এধরনের ভূমিকম্প হয় ইরান তার একটি। এর আগেও দেশটিতে বেশ কিছু বড় আকারের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর কারণ হচ্ছে, সাধারণভাবে বলা যায়, আরাবিয়া এবং ইউরেশিয়া টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ। আরাবিয়া প্লেটটি প্রতি বছর কয়েক সেন্টিমিটার করে উত্তরে সরে যাচ্ছে।

ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে আরাবিয়া প্লেট ইউরেশিয়া প্লেটটিকে নিচ থেকে ধাক্কা দিচ্ছে। কিন্তু দেশটির উত্তর-পশ্চিমে এই দুটো প্লেট একে অপরকে সরাসরি ধাক্কা দিচ্ছে। এসব সংঘর্ষ থেকেই সেখানে সৃষ্টি হয়েছে জাগরস পর্বতমালার।

প্রাথমিকভাবে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, থ্রাস্ট ফল্টের (চাপের কারণে একটি প্লেট যখন আরেকটি প্লেটের উপর উঠে যায়) কারণে এই ভূমিকম্প হয়েছে। এই ভূমিকম্পে কতো মানুষ হতাহত হতে পারেন তার একটি হিসাব অনুমান করার চেষ্টা চলছে।

এটা করা হয় ভূমিকম্পের মাত্রা, জনবসতির ঘনত্ব এবং স্থানীয় বাড়িঘর কি ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে। এই মডেল থেকে হয়তো প্রকৃত হিসাব পাওয়া যায় না। কিন্তু এই দুর্যোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়।

ভূমিকম্প কেন হয়?

ভূমিকম্প হয় মূলত মাটির নিচের শিলা আচমকা ভেঙে যাওয়ার ফলে। হঠাৎ করে এই ভাঙন মাটির তলার প্রচণ্ড শক্তির সৃষ্টি করে এবং এটা ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে মাটি কেঁপে ওঠে এবং মাটির ওপরে থাকা সবকিছু দুলতে থাকে।

যখন মাটির নিচে দুটি ব্লক অথবা দুটি শিলার মধ্যে সংঘর্ষ হয়, তখন সেগুলো নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে যায়। তবে এটি খুব ধীরে ধীরে হয় এবং ভেঙে যাওয়া শিলাগুলো একে অপরের সাথে গায়ে গায়ে লেগে থাকে এবং একে অপরের ওপর চাপ দিতে থাকে।

ভেঙে যাওয়া শিলাগুলো চাপের মধ্যে থাকায় একসময় সেগুলো ভাঙতে শুরু করে। যখন শিলাগুলো ভেঙে যায়, তখনই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। যে স্থানে শিলাগুলো ভেঙে যায়, সেটাকেই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বলা হয়।

একটা ছোট্ট পরীক্ষা করলে নিজেরাই ব্যাপারটা বুঝতে পারবে।

১. এক টুকরো ফোমকে দুই টুকরো করে ছিঁড়ে নিয়ে একটা সমতল টেবিলের ওপরে রাখো।

২. ফোমের টুকরো দুটির ওপর হাত রেখে দুটি ফোমকে দুদিকে এমনভাবে চাপ দাও যাতে ফোম দুটির একটির সাথে আরেকটির জোরে ঘষা লাগে।

৩. বেশ কিছুক্ষণ এভাবে ঘষা দিলে দেখবে দুটি ফোম থেকেই একটু একটু করে টুকরা আলাদা হয়ে পড়ছে।

ঠিক এভাবেই দুটি শিলার সংঘর্ষের মাধ্যমে মাটির নিচে ভূমিকম্প হয়। এ ছাড়া মাটির নিচে বড় ধরনের বিস্ফোরণ হলেও ভূমিকম্প হতে পারে। মাটির নিচে রেলপথ, টানেল ইত্যাদি নির্মাণের জন্য বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে এ ধরনের বিস্ফোরণের প্রভাব অতটা টের পাওয়া যায় না।

ভূমিকম্পে করণীয়

প্রকৃতপক্ষে ভূমিকম্পের সময় আমাদের করণীয় কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু ভূমিকম্পের কোনো পূর্বাভাস দেয়ার যন্ত্র নেই, তাই নিজেদের সতর্কতা ও সচেতনতাই হচ্ছে একমাত্র ভরসা।
আসুন জেনে নিই ভূমিকম্পের সময় আমাদের করণীয় কী?
* ভূমিকম্প শুরু হলে আতংকিত হবেন না। ঘরের মধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার চেষ্টা করুন।
* বিম, কলাম ও পিলার ঘেঁষে আশ্রয় নিন।
* আলমারি, খাট বা টেবিলের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।
* শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকলে ব্যাগ মাথায় দিয়ে শক্ত বেঞ্চ অথবা টেবিলের নিচে অবস্থান করুন।
* অফিস-কারখানা-হাসপাতাল, মার্কেট প্রভৃতি স্থানে থাকলে বের হওয়ার জন্য দরজার সামনে ভিড় কিংবা ধাক্কাধাক্কি করবেন না। দু’হাতে মাথা ঢেকে বসে পড়ুন।
* একবার ভূকম্পন হয়ে গেলে কিছুক্ষণের ভেতরে আরও একবার হওয়ার আশংকা থাকে। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে খালি জায়গায় আশ্রয় নিন।
* ওপরের তলায় থাকলে কম্পন বা ঝাঁকুনি না থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কম্পন থামলে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়ুন এবং খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করুন।
* চুলা জ্বালানো থাকলে তা বন্ধ করে দিন।
* বহুতল ভবনের লিফট থাকলে এ সময় ব্যবহার করবেন না।
* জানালার পাশে দাঁড়ানো যাবে না। দেয়ালে চাপা পড়লে কোনোরকম নড়াচড়া করবেন না। যথাসম্ভব নাক-মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রাখুন। যেন শ্বাসনালিতে ধুলাবালি প্রবেশ না করে।
* ভূকম্পনের সময় যানবাহনে চলাচল অবস্থায় থাকলে গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে খোলা জায়গায় গাড়ির ভেতর অবস্থান করতে হবে।
পূর্ব প্রস্তুতি : খাবার পানি ও শুকনো খাবার সংগ্রহ করে রাখতে হবে।
* ব্যাটারিচালিত (রেডিও, টর্চলাইট ও প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম বাড়িতে মজুদ রাখুন।
* বাসাবাড়ির শেলফ ও আলমারিতে বড় এবং ভারি মালামাল নিচের দিকে রাখা ভালো।
* ত্রুটিমুক্ত বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং এবং গ্যাসের লাইন মেরামত করতে হবে।
* বাড়ির ছাদ বা দেয়ালে ফাটল থাকলে তা চিহ্নিত করে মেরামত করতে হবে।
* বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সব নিয়মকানুন মেনে চলুন। বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করুন।
* ভবনের উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী শক্ত ভিম দিতে হবে।
* বহুতল ভবনের প্রত্যেকটি তলা একই রকম রাখতে হবে।
* জলাশয় ভরাট করেই বাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। অবশ্যই মাটি পরীক্ষা করে নিতে হবে।

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫