ঢাকা, মঙ্গলবার,২১ নভেম্বর ২০১৭

মধ্যপ্রাচ্য

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রেসিডেন্ট রুহানি

পার্সটুডে

১৪ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৭:০৪ | আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৮:০৯


প্রিন্ট
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রেসিডেন্ট রুহানি

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রেসিডেন্ট রুহানি

ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে দেখতে এবং তাদেরকে সমবেদনা জানাতে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ কেরমানশাহ সফরে গেছেন প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি। রোববার রাতে আঘাত হানা ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেরমানশাহ প্রদেশের সারপোলে জাহাব শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট রুহানির সফরের আগেই ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুর রেজা রাহমানি ফাজলি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসান কাজিজাদেহ হাশেমি এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান আলী আসগর পেইভান্দি বিশাল প্রতিনিধিদল নিয়ে গতকালই দুর্গত এলাকায় ছুটে গেছেন।

এদিকে, কেরমানশাহ প্রদেশ সফরে যাওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট রুহানি এক শোক বার্তায় বলেছেন, ‘এই বির্যয়ের শিকার হয়ে যেসব মানুষ আহত হয়েছেন আমি তাদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি এবং যারা নিহত হয়েছেন সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।’

ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের সাহায্যের জন্য প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রাণলয় এবং সংস্থাকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার রাতে কেরমানশাহ প্রদেশসহ ইরানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে ৭.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এ পর্যন্ত ৪৪৫ জন নিহত ও সাত হাজার ১৫৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘর-বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত কিংবা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায় নি।

ড. হাসান রুহানির পরিচয়
ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ইরানের সেমনান প্রদেশের সোরখেহ শহরে ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ধর্মীয় পরিবারের সন্তান রুহানি ১৯৬০ সালে সেমনানের ধর্মতত্ত্ব কেন্দ্রে ইসলামের ওপর পড়াশোনা শুরু করেন। একবছর অধ্যয়নের পর তিনি ইরানের পবিত্র নগরী কোম চলে যান।

১৯৬৯ সালে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন হাসান রুহানি। তিন বছর পর আইনশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। এরপর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো কালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে এমএ ও পিএইচডি লাভ করেন হাসান রুহানি।

রুহানি বর্তমানে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী’র প্রতিনিধিত্ব করছেন। এ ছাড়া, ইরানের নীতি নির্ধারণী পরিষদ এবং বিশেষজ্ঞ পরিষদেরও সদস্য তিনি। পাশাপাশি নীতি নির্ধারণী পরিষদের কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রেরও পরিচালকের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।

তরুণ বয়সেই রুহানি ইরানের ততকালীন অত্যাচারি শাসক রেজা শাহ’র বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন রুহানি। ইমাম খোমেনী (রহ.) ১৯৭৯ সালে ফ্রান্স থেকে নির্বাসন শেষে স্বদেশে ফিরে আসার সময় হাসান রুহানি ইউরোপে রাজনৈতিকভাবে ততপর ছিলেন। ব্রিটেন ও ফ্রান্সে ছাত্রদের সঙ্গে ইসলাম নিয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দেয়ার ততপরতা অব্যাহত রাখেন তিনি।

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০০০ সাল পর্যন্ত একাধারে পাঁচ বার তিনি সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। রুহানি সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইরানের ওপর ইরাকের চাপিয়ে দেয়া আগ্রাসী যুদ্ধ চলাকালে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রতিরক্ষা উচ্চ পরিষদ, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বিভাগের কমান্ডার এবং সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফের দায়িত্ব পালন করেন।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর এ পরিষদে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর প্রতিনিধি হিসেবে তার নাম প্রস্তাব করা হয়। ২০০৫ সাল পর্যন্ত একাধারে ১৬ বছর এ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ ছাড়া, আলী আকবর হাশেমি রাফসানজানি এবং তার উত্তরসূরি মোহাম্মদ খাতামির শাসনামলে এ পরিষদের সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

১৯৯১ সাল থেকে রুহানি নীতি নির্ধারণী পরিষদের সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন। শতাধিক বইয়ের লেখক রুহানি ইংরেজি, আরবি এবং ফার্সিতে অনর্গল কথা বলতে পারেন। তিনি প্রায় একশ’ বই অথবা প্রবন্ধ লিখেছেন। তার গবেষণাপত্রের সংখ্যা সাতশ’র বেশি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫