ঢাকা, মঙ্গলবার,২১ নভেম্বর ২০১৭

মধ্যপ্রাচ্য

ইসরাইলের স্মোক গ্রেনেড

পার্সটুডে

১৪ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৬:৪১ | আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৭:৫৯


প্রিন্ট
ইসরাইলের স্মোক গ্রেনেড

ইসরাইলের স্মোক গ্রেনেড

ইসরাইলের সেনাদের ছোঁড়া স্মোক গ্রেনেডে আহত ও অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন লেবাননের কয়েকজন সেনা। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বিলদা এলাকায় গোয়েন্দা সেনাদের একটি নিয়মিত টহল দলের ওপর এ হামলা চালায় ইসরাইলি সেনারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লেবাননের একটি নিরাপত্তা সূত্র বৈরুত থেকে প্রকাশিত ডেইলি স্টার পত্রিকাকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্মোক গ্রেনেডে কয়েক সেনা জ্ঞান হারায় এবং দ্রুত তাদেরকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

সূত্রটি জানাচ্ছে- লেবাননে মোতায়েন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা ইসরাইলের এ হামলার সম্পর্কে অবগত রয়েছে।

 

ইহুদিদের কর্মকৌশল ও ইসরাইলের ভবিষ্যত

মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধকামী শক্তিগুলোকে দুর্বল করে দেয়া ইসরাইলের প্রধান লক্ষ্য। সৌদি আরবের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান গোপনে ইসরাইল সফর করেছেন। লেবানন সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যখন অস্ত্র প্রয়োগ করে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ করছে তখনও মিয়ানমারের এসব সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ দেয়ার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলের বিমানবাহিনী সিরিয়ার হোমস প্রদেশে একটি অস্ত্র গুদামে বোমা বর্ষণ করেছে। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা সংগ্রাম দমনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাশ্মিরিদের স্বাধীনতা আন্দোলন দমনে ভারতকে কৌশল শেখাচ্ছে ইসরাইল।

এসব নানা কারণে ইসরাইলের ব্যাপারে বিশ্বের অনেক মুসলমানই নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছে। ইসরাইল আয়তনে বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশের সমান হলেও পারমাণবিক শক্তি হিসেবে দেশটি ভারত ও পাকিস্তানের চেয়েও অগ্রগামী। ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের প্রতিরোধ, ইরানের রক্তচক্ষু, ইরান-তুরস্ক-রাশিয়ার হাত মিলানো, কুয়েতের তিরস্কার এসবেই কী দমে যাবে ইসরাইল? এতটা সহজ নয়!

ইসরাইলেই শুধু ইহুদিরা বাস করে এমন নয়। ইহুদিরা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তবে ইসরাইলকেই তারা তাদের দেশ মনে করে। তাদের কর্মকৌশল এমন নয় যে সহজেই পরিবর্তিত হবে।বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই ইহুদিরা কেন্দ্রীয় সংগঠনের অধীনে অনেক শাখা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে, শিক্ষা বিস্তার ও জনকল্যাণমূলক কাজ উপলক্ষে বিভিন্ন ক্লাব ও সমিতি গঠন করে, সমগ্র দুনিয়াব্যাপী সংঘবদ্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তুলে। কোনো কোনো সময় কৌশলগত কারণে বিভিন্ন শাখা সংগঠন ও নেতৃত্ব গোপন রাখে। এনজিও, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে সুযোগ-সুবিধা নেয়। সংগঠনের সদস্যদের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে। এমন নিয়ম থাকে যে, কোনো কোনো শ্রেণির সদস্যরা অন্য শ্রেণির সদস্যদের পরিচয় ও কার্যকলাপ সম্পর্কে কিছুই জানতে পারে না।

প্রতিটি শ্রেণির সদস্যদের জন্য পৃথক পৃথক উপাধি ও ব্যাজ থাকে। ব্যাজগুলো অনুমোদিত এলাকার বাইরে ব্যবহার করা যায় না। বিভিন্ন ধরনের সাংকেতিক শব্দ থাকে, যার দ্বারা পারস্পরিক মনোভাব প্রকাশ করা যায়। এগুলোর কারণে সাধারণ পার্টি ও অনুষ্ঠানাদিতে পরস্পর পরস্পরকে চিনতে পারে। পোশাকে বিশেষ ধরণের চিহ্ন বা দাঁড়ানোর বিশেষ ভঙ্গি থেকে একজন সদস্য অপরজনকে চিনতে পারে।

এমনকি দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনেই বাড়ির মালিক বুঝতে পারে তারই মত সদস্য দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। সর্বোচ্চ শ্রেণির সদস্যগণকে উপাধি দানের জন্য একটি Supreme authority থাকে। ক্লাবগুলোর আদর্শ, উদ্দেশ্য, কার্যসূচি ও সংগঠন পদ্ধতি অত্যন্ত গোপন থাকে। প্রত্যেক সদস্যকে কখনো সজ্ঞানে গোপন তথ্য ও রহস্যবাণী ফাঁস করবে না এবং গুপ্ত জ্ঞান ও কলাকৌশল সংগোপনে যা অর্জন করেছে তা সংরক্ষণের জন্য পূর্ণরূপে চেষ্টা করবে ও শপথ করানো হয়।

ইহুদিরা সুপরিকল্পিত উপায়ে কৃষি ও ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে অগ্রসর হয়। প্রবল জাতীয় চেতনা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করে। প্রয়োজনীয় চেষ্টা তদ্বির অব্যাহত রেখে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে, ধর্মীয় নেতাদের ব্যবহার করে, যুব সমাজকে কাজে লাগায়। অর্থের আকর্ষণ বৃদ্ধির পাশাপাশি মানবতা, শান্তি, সেবা, কল্যাণ প্রসঙ্গগুলো গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে। জনগণের মন মানসিকতা বুঝে আবেগকে কাজে লাগায়, সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে, সম্পদ ও সমৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেয়, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতাকে গুরুত্ব দেয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশেষ পোষাক পরিধান করে।

ব্যবসা ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত থাকে, সভা-সমিতি গঠন করে। উচ্চ শ্রেণির লোকদের মাধ্যমে সুযোগ সুবিধামত স্বার্থের অনুকুলে কাজ আদায় করিয়ে নেয় তারা বিভিন্ন সালিশী প্রতিষ্ঠান গঠন করে, তাদের নিজস্ব সংবাদ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান থাকে। তারা অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকাকে সঙ্গত মনে করে না, অমুখাপেক্ষী থাকতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমগ্র বিশ্বে কার্যক্রম বিস্তৃতির একটি পরিকল্পনা তৈরি করে, পরিকল্পনার কার্যকরী করার বাস্তব কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে।

ইহুদিরা দু’টি দৃষ্টিকোণ থেকে কর্মধারাকে বিশ্লেষণ করে। একটি নিজস্ব দৃষ্টিকোণ, আরেকটি অপরের দৃষ্টিকোণ। প্রাকৃতিক জগতের স্বাভাবিক নিয়ম হচ্ছে প্রতিটি মানুষই ক্ষমতা ভালবাসে। বুদ্ধিমান ব্যক্তির কৃতিত্ব হচ্ছে জনগণকে নিজের দলে শামিল করা, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব অদৃশ্য রাখা। তারা বুদ্ধিমান ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োগ করে। কেননা অভিজ্ঞ ব্যক্তি নির্বোধ হলেও কার্য চালাতে পারে। পক্ষান্তরে অনভিজ্ঞ ব্যক্তি প্রতিভাবান হলেও অনেক কাজেরই প্রকৃতি বুঝতে অক্ষম।

বিজয় সহজ করার জন্য যে সমস্ত মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া হয় তাদের অন্তরের দুর্বলতম স্থানগুলো চিহ্নিতকরে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। কোনো বাধা বিপত্তিই তাদের সদাজাগ্রত চোখগুলোকে দৃষ্টিশক্তিকে সীমিত করে না। ভবিষ্যতের কার্যসূচি স্থির করতে গিয়ে তারা তাদের পরিকল্পনা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে, ইতিহাসের ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।

প্রতিটি মুহূর্ত দেশের ঘটনাবলীকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতের কর্মসূচি স্থির করে। যে সমাজ ইতিহাসের সঠিক পর্যবেক্ষণ বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগ করার অভিজ্ঞতা দ্বারা পরিচালিত নয় বরং বাঁধাধরা নিয়ম-নীতি মেনে চলতে অভ্যস্ত, ঘটনাবলীকে সমালোচনার দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ ও কার্যকর করণের ফলাফল বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে অনভ্যস্ত তারা কখনোই গুরুত্ব পায় না।

তাদের নীতিগুলোর প্রতি জনগণের নির্ভুল আস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে হচ্ছে প্রেস ও মিডিয়া, এদের মাধ্যমে অবিরাম প্রচার চালায়ে যায়। ভ্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে রক্ষা পেতে হলে বিভিন্ন জাতির চিন্তাধারা, নৈতিক মান ও মনোভাব পর্যবেক্ষণ করা অপরিহার্য। দারিদ্র্য, অভাব থাকলে স্বার্থসিদ্ধির পথে তাদেরকে ব্যবহার করাটা সহজ।

এসব ক্ষেত্রে তারা কৌশলী হয়ে থাকে। সংগঠনকে টিকিয়ে রাখার জন্য কার্যবণ্টন এবং জনশক্তিকে বিভিন্ন শ্রেণি ও অবস্থানুসারে বিভক্তিকরণ করে। মানবীয় কার্যকলাপের ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকার দরুণ সকল মানুষ সমান হতে পারে না। ব্যক্তি তার কাজের মাধ্যমে নিজেরই অস্তিত্ব এবং মর্যাদা ছাড়া অন্য কারো প্রতিনিধিত্ব করে না।

ইহুদিরা অপরাজেয় শক্তি হতে চায়। এ জন্য একশক্তি আক্রমণ করলেও বহু শক্তি সাহায্য করবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে। জনগণের কল্যাণ, আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য, সংহতি ও সমানাধিকার অর্জন করার ব্যবস্থা সংক্রান্ত প্রসঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। যদি কোনো আন্দোলনের ভিত্তি মানব জাতির পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের উপর স্থাপিত করতে হয় সেক্ষেত্রে মানুষের বিশ্বাসকে সফল করে তুলতে হয়। মন মগজকে শিল্প ও ব্যবসায়ের দিকে ঝুঁকিয়ে অন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক চোখ তুলে তাকাবার ফুসরৎ না পাওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে।

সমালোচনার মাধ্যমে গণমনকে সচেতন করতে হয়। প্রতিরোধ প্রবৃত্তি জাগানোর জন্য মানুষের মনকে হালকা বিষয় থেকে সর্বদা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ফিরিয়ে রাখতে হয়। মানব মনের সফল উদ্যোগ-উৎসাহকে অর্থবহ ও কল্যাণকর সংগ্রামে ব্যবহার করতে হয়। সফল যুগেই মানুষ কাজের পরিবর্তে কথার গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। অনেকগুলো সংস্থা কায়েম করে মুগ্ধ করার জন্য জনগণের উন্নতি ও সমৃদ্ধির লক্ষে তারা কাজ করে।

তারা লক্ষ পথে পৌঁছতে সক্ষম এমন শক্তির ব্যক্তিদের উদ্যম-উৎসাহকে কাজে লাগায়। ব্যক্তিগত উদ্যম উৎসাহই সফলতা ও গঠনমূলক পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ব্যক্তিগত উদ্যম অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ লক্ষ লোকের বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার চাইতেও বেশি শক্তিশালী হতে পারে। তারা নিজেদের স্বার্থে ঐক্যের বীজ বপনেও ভূমিকা পালন করে আবার ভাঙ্গন সৃষ্টিও করে।

বিচ্ছিন্ন শক্তিকে ঐক্যবদ্ধকরণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে। বক্তাদের মুখে শ্রোতাদের হৃদয় জয় করে এবং বাকশক্তির এক অভাবনীয় দৃষ্টান্ত পেশ করে। তারা ধন-সম্পদ আহরণ ও সমাজের বড় বড় সম্পদশালী ব্যক্তিদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে। ব্যবসা ও শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করে। বিলাসী জীবন যাপনের উদগ্র আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে।

তারা মানব মনের সকল দুর্বলতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে চেষ্টা করে এবং এ দুর্বলতা জেনে সুযোগ গ্রহণে স্পর্শ সচেতন সুতো ধরে টানতে থাকে। সমাজের মানুষের মানসিক অবস্থা, ঝোঁক প্রবণতা, দোষ-ত্রুটি, লাম্পট্য, মন্দ গুণাবলী বিশেষ শ্রেণি ও অবস্থার সূত্রে জানতে পারে। শুধু ছককাটা পদ্ধতিতে পরিচালনা নয়, কাজের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা আশা করে না।
তারা যেখানে বাস করে, কাজ করে সেখানকার জনগণের চরিত্র ও স্বভাব প্রকৃতির প্রতি মনোযোগ দেয়। 'উদারতা' 'সাম্য' 'সমানাধিকার', 'ভ্রাতৃত্ব' প্রভৃতি শ্লোগানকে প্রতিষ্ঠিত হতে সুকৌশলে ব্যবহার করে। তাদের কর্মতৎপরতার পরিধি ব্যাপক। পরিধি নির্ধারণে তারা অত্যন্ত কৌশলী হয়।

বেশি বেশি যোগাযোগ রক্ষা করা, বিশ্বস্ত হওয়া, পরিচালনার জন্য বিজ্ঞতার সঙ্গে উপদেশ বিতরণ করা হচ্ছে তাদের কাজ। তাদের কাছে শিক্ষার আলোতে আলোকিত হওয়া প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠীই সম্পদ। তারা যুব সমাজকে দেশপ্রেম ও আদর্শিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। সকলকে মৌলনীতির নতুন কাঠামো স্থির করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায়। নিঃসংকোচে ঔদ্ধত্য ও অপ্রতিহত শক্তি অর্জন করে। যেন তাদের সক্রিয় কর্মীগণ সকল বাধা বিপত্তি অগ্রাহ্য করে নিজেদের কাজ করে যেতে পারে। সকলের মনেই নিজের সম্পর্কে একটা গুরুত্ববোধ জাগিয়ে দেয়। নিন্দা নয় প্রশংসা করে যাতে মনে ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা জাগে।

তবে হ্যাঁ! বিভিন্ন লোকের চিন্তাধারাকে প্রশ্রয় দিলে সুষ্ঠুভাবে কাজ চলতে পারে না। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।তারা পরিকল্পনার বিভিন্ন অঙ্গকে স্বাধীন সংস্থায় রূপ দিয়ে গুপ্ত সূত্রে এদেরকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। ক্ষমতার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য জনমত গঠনের বিশেষ ব্যবস্থা অবলম্বন করে। যাতে প্রতিটি পদক্ষেপ থেকে অনেকে তাদের অত্যন্ত শক্তিশালী, অপ্রতিরোধ্য ও বিপুল ক্ষমতার অধিকারী বলে মনে করে।

নতুন নতুন উপায় পন্থা আবিষ্কার করা এবং বিচার বিবেচনা করে কার্যকলাপ পরিচালনা করে। তাদেরকে সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরির চেষ্টার পাশাপাশি ভাবাবেগকে উত্তেজিত করণে সংবাদপত্রকে ব্যবহার করে। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে মানুষের চিন্তাধারাকে তাদের কার্যক্রমের সুফল সম্পর্ককে ধারণা দিয়ে থাকে এবং সেটা যাতে তাদের বিশ্বাসে পরিণত হয় সে চেষ্টা করে।

তারা মনে করে সাহিত্য এবং সাংবাদিকতা গণশিক্ষার দুটি শক্তিশালী উপাদান। সুতরাং এক্ষেত্রে কৌশলে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে চায়। তারা সময়োপযোগী নির্দেশদানে বুদ্ধিমান নেতৃত্ব ও সাংকেতিক শব্দাবলী সৃষ্টিতে জোড়ালো ভূমিকা রাখে। বক্তব্যগুলো অধিকতর স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার সুযোগ নেয়। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী বাস্তবতা উপযোগী বলিষ্ঠ যুক্তি ব্যবহারে সচেষ্ট হয়।

ব্যবস্থাপনার নানা সূক্ষ্ম পদ্ধতি এমনভাবে গড়ে তুলে যাতে সুনিশ্চিতরূপে জনগণের মন মগজকে পরিতুষ্ট করে এবং তাদের চোখে নিঁখুত মনে হয়। তারা কিভাবে, কোথায় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে তা সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত হয়। উন্নত পন্থায় সাফল্যজনকভাবে মানুষের মন মগজে উন্নতি, সমৃদ্ধির প্রচেষ্টা বুঝানোর প্রয়াস চালায়।

তারা নিজেদের সর্বশক্তি নিয়োজিত করে পুরাতন নানা ব্যবস্থার দোষ ত্রুটি ও নতুন ব্যবস্থার সুফল, চিত্তাকর্ষক ছবি পেশ করতে থাকে। তারা সমাজের নেতৃত্ব গ্রহণ করে। নেতৃত্বের আসনে বসে বক্তৃতা, বিবৃতি, স্মারক ও প্রবন্ধাদি প্রচার করে জনসাধারণের মন মগজকে তাদের অভিষ্ট পথে পরিচালিত করে। আর ভবিষ্যৎ কল্যাণের জন্য দুঃখকে হাসিমুখে বরণ করার মানসিকতা রাখে।

যে ব্যক্তি সাহস ও মানসিক শক্তির সাহায্যে মানুষকে যাদুমন্ত্রের মত মুগ্ধ করে ফেলতে পারে। তাকে কেউ আঙ্গুলী দ্বারাও আঘাত করে না। সমাজের গণ্যমান্য লোকজনকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করে ফেলে। এটাই তাদের প্রভাব বিস্তারের অন্যতম কৌশল।

একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকারী বোর্ড স্থাপন এবং বোর্ডের অস্তিত্ব সম্পর্কে তারাই জ্ঞাত থাকে। তাদের চিন্তাশক্তি নিম্নমানের হলে চলে না, কার্যক্ষমতা ও চিন্তাশক্তির ক্ষেত্রে অগ্রসর হয়। নিঃসন্দেহে আইনের প্রয়োগ ও শাস্তিদান গুরুত্বপূর্ণ। যাদের হাতে দায়িত্বপূর্ণ পদ অর্পন করা হয় তাদের এ দায়িত্ব সমর্পণের উদ্দেশ্যটা বুঝায়ে দেয়।

বিচিত্র অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা গ্রহণের জন্যে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা হওয়া এবং যোগ্য করে গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করে। যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হবে তাদেরকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে উপযুক্ত করে তৈরি করে। তাদের প্রয়োজন প্রকাশ্যে বাস্তব কর্মজীবন সম্পর্কে চর্চা করা, প্রতিষ্ঠিত সমাজ ব্যবস্থার প্রতি দায়িত্ব পালন, পারস্পরিক সম্পর্কের জ্ঞাত এবং দুষ্কৃতির বিস্তার সাধনকারী স্বার্থপর ও অন্যায় কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা।

তারা জনশক্তির মান ও অবস্থানভেদে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়। কোনোক্রমেই সকল শিক্ষার্থীকে একই ধরনের শিক্ষা দেয় না। জীবনের গন্তব্যস্থল ও লক্ষ্যের পার্থক্য অনুসারে নির্দিষ্ট সীমারেখা মোতাবেক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করে। ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলীয়, স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। স্বার্থ নয় বরং ন্যায়-অন্যায়ের মানদন্ডেই পক্ষ সমর্থন করে।

অন্যদের তৎপরতা ও কার্যকলাপের উপর তীক্ষ্ম নজর রাখে। উচ্চ, নিম্ন, মধ্য সকল শ্রেণির বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ লোকদের মধ্য থেকে তারা লোক বাছাই করে নেয়। কাজ সম্পাদনের জন্য ভালো বক্তা গড়ে তোলে। বিভিন্নভাবে যাচাই করে দেশের কল্যাণ সাধনে সচেষ্ট হয়। নিজেদের দুর্বলতা বুঝার ক্ষেত্রে অবশ্যই সচেতনতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়। জনগণের মনোভাব বুঝার চেষ্টা করে।

তারা মনে রাখে, সংগঠন খুবই ব্যয় সাপেক্ষ। সে জন্য এর পরিচালনার নিমিত্ত প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা ছাড়া উপায় নেই। এক্ষেত্রে প্রয়োজন ত্যাগ, প্রচেষ্টা, আত্মবিশ্বাস। বিশ্বাসকে ইচ্ছা করলেই বাস্তবায়িত করা যায়। যাদের বিপুল সম্পদ আছে তা থেকে কিছু কিছু অংশ নিয়ে একত্র করেও তা পরিকল্পিতভাবে নানা কল্যাণে ব্যয় হতে পারে। সমাজ পুনর্গঠন সম্পর্কিত কাজের সূচনা উপর থেকেই হতে হয়। সর্বত্র ভারসাম্য স্থাপন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের নিশ্চয়তা বিধান অত্যন্ত জরুরি।

সুনির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় করার জন্য সর্বদা সংরক্ষিত রাখে। জনকল্যাণমূলক কাজের প্রোগ্রাম তৈরি, জনহিতকর কাজের সূচনা গভীরভাবে মানুষের হৃদয় জয়ে ভূমিকা রাখে। নতুন কিছু আবিষ্কার করায় এবং উৎপাদন বাড়ানোর জন্যে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালায়ে থাকে। তারা সামান্য পরিমাণ অর্থও নির্দিষ্ট খাতের পরিবর্তে অন্যখাতে ব্যয় করে না। অর্থের জন্য থাকে আলাদা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। কেননা চলার পথ নির্দিষ্ট না করে এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ না করে যাত্রা শুরু করলে মহাবীর পর্যন্তও ধ্বংস হয়ে যায়।

তারা ভবিষ্যতে কি হতে যাচ্ছে, অতীতে কি কি হয়েছে এবং বর্তমানে কি হচ্ছে তা বুঝতে চেষ্টা করে। অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত করে থাকে। সবকিছু সুশৃঙ্খল হলেই ভবিষ্যত উজ্জ্বল হওয়া সম্ভব। স্বীয় অধিকার সচেতন থাকা এবং অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার মধ্যেই রয়েছে মানব সমাজের সত্যিকার মর্যাদা। এ মর্যাদা রক্ষায় তারা সচেষ্ট হয়ে থাকে।

তারা যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে উঠে। পরিচালক, নেতা পরামর্শ ও পরামর্শ দেয়া দুটোকেই গুরুত্ব দেয়। সমাজের নৈতিক মানোন্নয়ন, বেকার সমস্যা নিরসনকল্পে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে। তাদের ব্যক্তিত্বে শক্তি ও ক্ষমতার সমন্বয় থাকে। সুসংগঠিত করে সমাজকে পুনরুজ্জীবিত করে তুলে। মানুষকে সচেতন করে যাতে যাবতীয় সমাজ বিরোধী কর্মতৎপরতার প্রতিরোধে সবাই স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসে। তারা যুক্তি ও মানবতা দ্বারা সকল শক্তিকে পরিচালিত করে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫