ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

মধ্যপ্রাচ্য

পুতিন-এরদোগানের বৈঠক নিয়ে যা বলছে রাশিয়া

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৪ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১১:৩৭


প্রিন্ট
সোমবার সোচিতে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এরদোগান

সোমবার সোচিতে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এরদোগান

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরান ও তুরস্কের সঙ্গে তার দেশের সহযোগিতা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিরিয়া সংকটের সমাধান এনে দিয়েছে। রাশিয়ার সোচি শহরে সোমবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন পুতিন।

তিনি বলেন, ‘আমি সন্তোষের সঙ্গে বলতে চাই আস্তানা শান্তি প্রক্রিয়ায় নিশ্চয়তাকারী তিন দেশ রাশিয়া, ইরান ও তুরস্কের মধ্যেকার সহযোগিতা সিরিয়া সংকট সমাধানে বাস্তব ফল এনে দিয়েছে।”

তেহরান ও আঙ্কারার সঙ্গে মস্কো এই সহযোগিতা চালিয়ে যাবে বলে পুতিন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে দুই নেতা দীর্ঘমেয়াদে সিরিয়ায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং একটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে প্রচেষ্টা জোরদার করতে একমত হন।

রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সিরিয়ায় সহিংসতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে এসেছে। এখন জাতিসংঘের তত্ত্ববধানে সিরিয়ার বিভিন্ন দল ও পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালিয়ে নেয়ারও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’

ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সহিসতা কমিয়ে আনতে আস্তানায় অনুষ্ঠিত শান্তি বৈঠকগুলো ভূমিকা রেখেছে। এখন সিরিয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মনযোগী হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় এ পর্যন্ত সিরিয়া বিষয়ক সাত দফা বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সিরিয়ার সরকার এবং সশস্ত্র বিদ্রোহী গ্রুপগুলো অংশ নিয়েছে। আর এসব বৈঠকের ফলাফল বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিয়েছে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক।

আস্তানা বৈঠকের উল্লেখযোগ্য ফলাফল ছিল সিরিয়ার ইদলিব, উত্তর হোমস এবং পূর্ব ও দক্ষিণ ঘৌতা এলাকাকে নিয়ে একটি নিরাপদ অঞ্চল ঘোষণা করা। ওই ঘোষণার পর সিরিয়ায় বিদেশি মদদে চাপিয়ে দেয়া সহিংসতা অনেকাংশে কমে যায়।

এদিকে, তিন দিনের কাতার ও কুয়েত সফরের অংশ হিসেবে কুয়েত পৌঁছেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়েব এরদোগান। সোমবার থেকে বুধবার চলবে তার এ সফর।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র রোববার জানিয়েছেন, তার এ সফরে আরব উপসাগরীয় সমস্যাই হবে প্রধান আলোচ্য বিষয়।

‘গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিলে (জিসিসি) গত পাঁচ মাস আগে যে সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে, সেটাই হবে আলোচনার শীর্ষ বিষয়’, এক বিবৃতিতে সে কথাই জানান মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন।

কালিন বলেন, এ সঙ্কট সমাধানে কুয়েত যে উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে, তুরস্ক তাকে সমর্থন করে। আকাঙ্কা এ সঙ্কটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।

গত জুনে সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন কাতারের সাথে কূটনৈতিক ও ব্যবসায়ীক সম্পর্ক ছিন্ন করলে তুরস্ক কাতারের পাশে এসে দাঁড়ায়।

এ চারটি দেশ অভিযোগ করে আসছে যে, কাতার ‘সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে’ সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে দোহা তা অস্বীকার করে আসছে। এবং এ নিষেধাজ্ঞাকে তাদের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করে।

কালিন বলেন, গাল্ফ দেশগুলোর বিশেষত সিরিয়া, ইরাক বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আলোচনায় স্থান পাবে।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান দোহায় তুরস্ক-কাতার সুপ্রিম স্ট্র্যাটেজিক কমিটিতে যোগ দেবেন।

বিবৃতি মতে, এরদোগান ও কুয়েতি নেতা সাবাহ আহমাদ আল-জাবের দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা, সামরিক সহযোগিতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ে আলোচনা করবেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫