ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

মধ্যপ্রাচ্য

পৃথিবীর ভয়াবহতম ভূমিকম্প

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৪ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১০:৫৬ | আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১১:০৩


প্রিন্ট
ভূমিকম্পে ওই এলাকার ভবনগুলো ধসে পড়েছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ

ভূমিকম্পে ওই এলাকার ভবনগুলো ধসে পড়েছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ

ইরানের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে চারশ’রও বেশি মানুষ নিহত এবং ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হবার পর এখন সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

ভেঙে পড়া ভবনের নিচে বা ধ্বংসস্তুপের ভেতর কোনো মানুষ চাপা পড়ে আছে কিনা সেটিই এখন সবার আগে খতিয়ে দেখছে উদ্ধারকারী দলগুলো।

এ বছর পৃথিবীতে যত ভূমিকম্প হয়েছে তার মধ্যে ভয়াবহতম বলে বিবেচনা করা হচ্ছে ইরান-ইরাক সীমান্তে ঘটে যাওয়া এই ভূমিকম্পটিকে।

গতকাল সোমবারের এই ভূমিকম্পে যত মানুষ নিহত হয়েছে তাদের বেশিরভাগই ইরানের সীমান্ত থেকে মাত্র দশ মাইল দূরে অবস্থিত পশ্চিমাঞ্চলের শহর সারপোল-এ-জাহাব এবং কেরমানশাহ প্রদেশের বাসিন্দা।

সারপোল-এ-জাহাব শহরের প্রধান হাসপাতালটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহতদের চিকিৎসা দিতে এটি হিমশিম খাচ্ছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির খবরে বলা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর ব্যাপক ভূমিধস হওয়ায় উদ্ধার কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে এবং গ্রামীণ এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারীদের বেগ পেতে হচ্ছে।

ভূমিকম্পে একটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি হয়তো যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং বাঁধের আশপাশে বসবাসরত মানুষদের অন্যত্র সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ।

নানান জায়গায় বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর প্রচুর ভবন ভেঙে পড়ায় শহরের অসংখ্য মানুষ ঠান্ডার মধ্যে পার্কে ও রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।

একটি ত্রাণ সংস্থা জানাচ্ছে, ভূমিকম্পের পর অন্তত ৭০ হাজার মানুষ এখন আশ্রয়প্রার্থী।

ইরানের সরকারি হিসেব জানাচ্ছে, এই ঘটনায় ৪১৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতের সেই তালিকায় এমনকি কিছু সৈন্য এবং কিছু সীমান্তরক্ষীও রয়েছে বলে জানিয়েছে, দেশটির আর্মি কমান্ডার-ইন-চিফ।

এই ভূমিকম্পে ইরাকে ৯জন নিহত হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্টের এক মুখপাত্র।

ইরান-ইরাক সীমান্তে শক্তিশালী ভূমিকম্প: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪৫
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও ইরাকের উত্তর সীমান্তে আঘাত হানা ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ পর্যন্ত পাওয়া খবরে ইরানে ৪৪৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৭.৩ মাত্রার শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন সাত হাজার ১০০ জনের বেশি।

ইরানের স্থানীয় সময় রোববার রাত ৮টা ১৮ মিনিটে ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং এর মূলকেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৩.৯ কিলোমিটার গভীরে। ভূমকম্পটি মূল আঘাত হেনেছে ইরাকের আধা স্বায়ত্ত্বশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে। ওই অঞ্চলের সীমান্তে অবস্থিত ইরানের কুর্দিস্তান ও কেরমানশাহ প্রদেশও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ভূমিকম্প কবলিত এলাকাগুলোতে জোরেশোরে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুররেজা রাহমানি ফাজলিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তা তুরস্ক, আরমেনিয়া, কুয়েত, জর্দান, লেবানন, সৌদি আরব, বাহরাইন ও কাতার থেকেও অনুভূত হয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ জানিয়েছে, কুর্দি সরকার-শাসিত সুলাইমানিয়া শহর থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে হালাবজার কাছে ভূমিকম্প প্রচণ্ড আঘাত হেনেছে।

ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে ভূমিকম্পের কেন্দ্রের দূরত্ব অনেক হলেও সেখানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাগদাদের ভবনগুলো প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে। অনেকে একে প্রথমে বিস্ফোরণ বলে মনে করলেও কম্পন এক মিনিটের বেশি সময় স্থায়ী হওয়ায় পরে একে ভূমিকম্প বলে বুঝতে পারে।

ভূমিকম্পের পর কয়েক দফা আফটার শক হয়েছে এবং ইরানের কুর্দিস্তান, কেরমানশাহ, ইলাম, খুজিস্তান, হামেদান, পশ্চিম আজারবাইজান, পূর্ব আজারবাইজান, লোরেস্তান, তেহরান, কাজভিন, যানজান ও কোম প্রদেশ থেকে তা অনুভূত হয়।

ইরানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে কেরমানশাহ প্রদেশে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া, গ্রাম এলাকার কিছু ঘর-বাড়ি ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।

সারপোল-এ-জাহাব শহরের প্রধান হাসপাতালটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহতদের চিকিৎসা দিতে এটি হিমশিম খাচ্ছে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভির খবরে বলা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর ব্যাপক ভূমিধস হওয়ায় উদ্ধার কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে এবং গ্রামীণ এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারীদের বেগ পেতে হচ্ছে।

ভূমিকম্পে একটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি হয়তো যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং বাঁধের আশপাশে বসবাসরত মানুষদের অন্যত্র সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ।

নানান জায়গায় বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আর প্রচুর ভবন ভেঙে পড়ায় শহরের অসংখ্য মানুষ ঠান্ডার মধ্যে পার্কে ও রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।

একটি ত্রাণ সংস্থা জানাচ্ছে, ভূমিকম্পের পর অন্তত ৭০ হাজার মানুষ এখন আশ্রয়প্রার্থী।

ইরানের সরকারি হিসেব জানাচ্ছে, এই ঘটনায় ৪১৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতের সেই তালিকায় এমনকি কিছু সৈন্য এবং কিছু সীমান্তরক্ষীও রয়েছে বলে জানিয়েছে, দেশটির আর্মি কমান্ডার-ইন-চিফ।

এই ভূমিকম্পে ইরাকে ৯জন নিহত হয়েছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্টের এক মুখপাত্র।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫