এক আশ্রয়হীনার জীবন ও সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় হাইকোর্টের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বনামধন্য এক চিকিৎসকের স্ত্রী ‘আশ্রয়হীন নারী’ সাফাত আরা সোবহানের জীবন ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করাসহ তাকে পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী সাত দিনের মধ্যে সমাজকল্যাণ বিভাগের মহাপরিচালককে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন।

রুলে সাফাত আরা সোবহানের জীবন ও সম্পত্তির অধিকার রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এবং অসহায় মানুষদের জন্য আলাদা বিভাগ সৃষ্টির নির্দেশ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন আদালত।

গণমাধ্যমে ‘বৃদ্ধাশ্রমে এক মায়ের আকুতি’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

পরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, সাফাত আরা সোবহানের বনানীর ১১ নম্বর রোডের এম ব্লকের ৭৮ নম্বর স্বামীর বাড়িটি যাতে কউ হস্তান্তর করতে না পারে বা মর্টগেজ দিতে না পারে সে ব্যাপারে কার্যকরি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সাফাত আরা সোবহান ওরফে পারুল। তিনি সব হারানো বাবা-মায়ের সন্তানদের আগলে রেখেছিলেন। এখন তারা প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক ও উচ্চশিক্ষিত কর্মকর্তা। সাফাত আরা সোবহানের বনানীর ১১ নম্বর রোডের এম ব্লকের ৭৮ নম্বরে স্বামীর ‘সানড্রপ’ নামে আলিশান বাড়ি রয়েছে। আর উত্তরায় বাড়ি-গাড়িসহ দেড়শ’ কোটি টাকার সম্পত্তি ও সম্পদ আছে। অথচ তিনি এখন রাজধানীর ইন্দিরা রোডস্থ ২১/১ নম্বর ‘নিবন্ধন’ নামক বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিয়েছেন। সাফাত আরা সোবহানের খ্যাতনামা চিকিৎসক স্বামী প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ১৯৮৩ সালে পারিবারিকভাবে তাকে বিয়ে করেন। ওই চিকিৎসক আগের সংসারে তিন ছেলেমেয়ে রেখে গেছেন।
তাদের মধ্যে বড় ছেলে এখন বারডেম হাসপাতালের একজন বড় চিকিৎসক। তার আপনজন বলতে রয়েছে ছেলের বউ আর নাতি-নাতনি। বনানীর ‘সানড্রপ’ নামের আলিশান ভবনটিতেই সাফাত আরা পারুল বেগমের থাকার কথা। একসময় কোলে-পিঠে করে স্বামীর আগের সংসারের ছেলেকে মানুষ করেছেন। তার স্বামী মারা যাওয়ার পর যখন শেষ সম্বল হিসেবে আঁকড়ে ধরবেন ছেলের হাত, তখনই সেই হাত ফসকে ছেলে সৎ মা বলে হত্যার হুমকি ও ভয় দেখিয়ে ধুর ধুর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন’।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.