ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

উপমহাদেশ

যুদ্ধে টিকতেই পারবে না ভারতের বিমান!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৩ নভেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৩:৫৬ | আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৩:৫২


প্রিন্ট
ভারতীয় ট্যাঙ্ক, জঙ্গিবিমান জঘন্য মানের, ব্যবহার করতে চাইছে না সে দেশের সেনাবাহিনীই

ভারতীয় ট্যাঙ্ক, জঙ্গিবিমান জঘন্য মানের, ব্যবহার করতে চাইছে না সে দেশের সেনাবাহিনীই

ভারতে তৈরি সামরিক অস্ত্র ও যান ব্যবহার করতে চাইছে না দেশটির সেনাবাহিনীই। দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি তেজসের 'লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট' ও 'অর্জুন মেন ব্যাটল ট্যাঙ্ক' ব্যবহারে সরাসরি অস্বীকার করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। বদলে বিদেশি প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধ বিমানসহ একাধিক সাজ-সরঞ্জামকে 'মেক ইন ইন্ডিয়া' রুটের মাধ্যমে স্ট্যাটেজিক পার্টনারশিপ নীতির গ্রহণ করে এনে ব্যবহার করতে আগ্রহী ভারতীয় সেনাবাহিনী। মোদি সরকারের 'মেইড ইন ইন্ডিয়া' হয়ে পড়েছে অকার্যকর। এ খবর প্রকাশ করেছে ভারতের অনলাইন নিউজ পোর্টাল ওয়ানইন্ডিয়া।

টেন্ডার আহ্বান করে গত সপ্তাহে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাথমিক টেন্ডার ইস্যু করা হয়েছে। বিশ্বের তাবড় অস্ত্র সরবরাহকারী গোষ্ঠীর কাছে ১৭৭০টি ট্যাঙ্কের জন্য টেন্ডার চাওয়া হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে যাতে শত্রুকে সহজেই ঘায়েল করা যায়, এই ট্যাঙ্কারগুলো সেই ক্ষমতাসম্পন্ন।

সিঙ্গল ইঞ্জিন ফাইটারের আবেদনের পাশাপাশি ভারতীয় বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে ১১৪টি সিঙ্গল ইঞ্জিন ফাইটার জেটের জন্য খুব তাড়াতাড়ি আবেদন করা হবে। তার প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। অথচ ভারতীয় প্রযুক্তিতে ভরসা রাখছেন না বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা।

যুদ্ধবিমানে ভরসা নেই কেন ভারতীয় যুদ্ধবিমানে ভরসা নেই, এই প্রশ্নে দেখা যাচ্ছে, এই যুদ্ধবিমানগুলো সঠিকভাবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয়। লক্ষ্যবস্তুর রেঞ্জ ও শক্তি মাত্র ৪০০ কিলোমিটারের মধ্যে। বেশি অস্ত্র একসাথে রাখা যায় না। যার ফলে বিদেশ থেকে যুদ্ধবিমান আমদানি করতেই বেশি স্বচ্ছ্বন্দ্য ভারতীয় বিমান বাহিনী।

ট্যাঙ্কও পছন্দ নয় ভারতীয় সেনার একই সমস্যা ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অর্জুন মেন ব্যাটল ট্যাঙ্কের। এই ট্যাঙ্কারগুরোর ওজন অনেক বেশি। ৬২-৬৭ টন। যার ফলে উত্তর দিকে অংশ বা পাঞ্জাব প্রদেশ পেরিয়ে তা সীমান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না। ওজন বেশি হওয়ায় ব্রিজ পার করানো যাচ্ছে না। যা অন্যতম বড় সমস্যা। তাছাড়া এগুলোর পরিষেবা ততোধিক ভালো নয়, একেবারে সোজা বোমা বা মিসাইল ছুঁড়তেও পারদর্শী নয়।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর অনড় অবস্থান সত্ত্বেও ডিআরডিও, হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের মতো সংস্থা যুদ্ধযান সরবরাহ করতে চাইছে। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ফিল্ড ট্রায়াল না দিয়ে কোনো কিছু অর্ডার করতে রাজি নয়। সেক্ষেত্রে বারবার করে কম পারদর্শিতার কথাই তুলে ধরে সেনাবাহিনী বিদেশি যুদ্ধাস্ত্র বা যুদ্ধযান কেনার বিষয়ে তদ্বির করছে।

 

ধোঁয়াশার চাদরে ঢেকে দিল্লি

রোববারও দিল্লি-এনসিআরে দূষণ পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। কার্যত সারাদিনই ধোঁয়াশার চাদরে মুড়ে থাকল ভারতের রাজধানী শহর দিল্লি এবং তার আশপাশ। পরিস্থিতি এতটাই দুর্বিষহ যে, প্রায় সপ্তাহ ঘুরতে চললেও এদিনও এখানকার গড় এয়ার কোয়ালিটি সূচক ঘোরাফেরা করেছে ৭০০ থেকে ৯০০-এর মধ্যেই। সূচকের মান ৪০০ পেরিয়ে গেলেই যাকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এক দিনের বৃষ্টিই পরিস্থিতির আমূল বদল ঘটিয়ে দিতে পারে। কিন্তু বৃষ্টির ব্যাপারে এখনই সেভাবে কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছেন না আবদবিদরা।

জানা গেছে, বাতাসে দূষণ পরিমাপকারী ভাসমান ধূলিকণা (পিএম) ১০ এবং ২.৫-এর মান এদিন ছিল যথাক্রমে ৬৭১ এবং ৪৪১.৭ মাইক্রোগ্রাম। যা সহনীয় মাত্রার থেকে অনেকটাই বেশি। উল্লেখ্য, জাতীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (সিপিসিবি) মূলত তাপমাত্রা, বায়ুপ্রবাহ এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতাকেই এর জন্য দায়ী করছে। মাত্রাছাড়া ধোঁয়াশার কারণে অন্য দিনের মতোই রোববার শহরবাসীকে ভুগিয়েছে চোখ জ্বালা এবং শ্বাসকষ্ট।

যদিও ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, রোববার হওয়ায় দিল্লির রাজপথে গাড়ি চলাচল এমনিতেই কম। নাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছিল। প্রাতঃভ্রমণ এবং সান্ধ্যভ্রমণে বেরনো তো বন্ধ হয়েছে আগেই। তার মধ্যেও ছুটির দিনে যাদের বাড়ির বাইরে বেরতে হয়েছে, ‘মাস্ক’ মুখছাড়া করেননি প্রায় কেউই। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশিকা জারি করে দূষণ থেকে বাঁচার অন্যতম উপায় হিসাবে বেশি করে পানি এবং রসালো ফল খাওয়ার আরজি জানিয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে।

দূষণ পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, রোববার সন্ধ্যা ৬টা’র সময়ও দিল্লি-এনসিআরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে দূষণের মাত্রা অস্বাস্থ্যকর হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যেমন, উল্লিখিত সময়ে দিল্লির আর কে পুরম এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি সূচকের মান ৩৬৩। ওই একই সময়ে দিল্লির মন্দির মার্গ এলাকায় সূচক ঘোরাফেরা করেছে ৩১৩’য়। আইটিও এলাকায় এর পরিমাণ আরো একটু বেশি। ৩৭৩। আনন্দ বিহার এলাকায় সূচক পেরিয়ে গিয়েছে ৪০০-এর কাঁটা। সন্ধ্যা ৬টায় ওই এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি সূচকের মান ৪০৩। দিল্লিস্থিত ইউএস দূতাবাসের পক্ষ থেকেও যে এই সংক্রান্ত যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তাতেও দূষণ পরিস্থিতির অবনতিরই প্রমাণ মিলেছে। জানা গেছে, এদিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) নির্ধারিত সহনীয় মাত্রার থেকে দিল্লি-এনসিআরের দূষণ প্রায় ৭০ গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এহেন পরিস্থিতিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে সেরকম উপযুক্ত কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শুধুমাত্র জাতীয় পরিবেশ আদালতের সঙ্গে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ‘ছায়াযুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে মোটেও ভালোভাবে মেনে নিচ্ছেন না দিল্লির মানুষ। তাদের প্রশ্ন, অযথা মন্ত্রিসভার বৈঠক না ডেকে বরং উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক কেজরিওয়াল সরকার। উল্লেখ্য, দূষণ নিয়ন্ত্রণে সোমবার থেকে দিল্লির রাস্তায় গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে জোড়-বিজোড় নীতি চালু করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বদলে ফের জাতীয় পরিবেশ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে দিল্লির কেজরিওয়াল সরকার।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫