ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

তুরস্ক

গুলেনকে অপহরণের পরিকল্পনা তুরস্কের!

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৩ নভেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১০:২০ | আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১০:৩৪


প্রিন্ট
গত বছর তুরস্কে অভ্যুত্থানের যে চেষ্টা হয়েছিল তার পেছনে গুলেনের ভূমিকা ছিল বলে আঙ্কারার অভিযোগ

গত বছর তুরস্কে অভ্যুত্থানের যে চেষ্টা হয়েছিল তার পেছনে গুলেনের ভূমিকা ছিল বলে আঙ্কারার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে 'অপহরণ করে' তুরস্কে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হয়েছিল বলে খবর বের হওয়ার পর তুরস্ক তা অস্বীকার করেছে।

গত বছর জুলাই মাসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের যে চেষ্টা হয়েছিল তার পেছনে ফেতুল্লাহ গুলেনের ভূমিকা ছিল বলে আঙ্কারার অভিযোগ।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান একাধিকবার বিচারের জন্য গুলেনকে তুরস্কের হাতে তুলে দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

ফেতুল্লাহ গুলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বসবাস করেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক রিপোর্টে বলা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন এরকম একটি পরিকল্পনা নিয়ে তুরস্কের কিছু কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করেছিলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে।

পরিকল্পনাটি ছিল, এ বছর মার্চ মাসে গুলেনকে ধরে একটি ব্যক্তিগত বিমানে তুলে দেয়া হবে এবং তাকে তুরস্কের ইমরালি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হবে যেখানে একটি কারাগার রয়েছে।

এর বিনিময়ে ফ্লিনকে এক কোটি ৫০ লাখ ডলার দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, এ কথা প্রকাশ করেছেন সিআইএ'র সাবেক পরিচালক জেমস উলসি। তিনি বলেন, তিনি নিউইয়র্কের একটি হোটেলে এরকম এক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ওয়াশিংটনের তুর্কি দূতাবাস এ খবরকে 'সম্পূর্ণ মিথ্যা, হাস্যকর ও ভিত্তিহীন' বলে বর্ণনা করেছে। এক বিবৃতিতে দূতাবাস বলেছে, তুরস্ক ফেতুল্লাহ গুলেনকে বিচারের জন্য ফেরত চায় কিন্তু আইনবিরুদ্ধ কোনো পথে নয়।

ফ্লিনের আইনজীবীও এরকম দাবির কথা জোর দিয়ে অস্বীকার করেছেন। ফ্লিন পরে রাশিয়া-সংশ্লিষ্টতার এক অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগ করেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে এ তথ্য বেরিয়ে আসে।

এনবিসি বলছে, ফ্লিন যখন হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন, তখন তিনি ফেতুল্লাহ গুলেনকে তুরস্কে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য চেষ্টা করেছিলেন কিনা তারও তদন্ত করা হচ্ছে।- বিবিসি

অভ্যুত্থানচেষ্টা যেভাবে বদলে দিচ্ছে তুরস্ককে

আজ সোমবার রাশিয়া সফরে যাবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। সফরে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করবেন। এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে কথা বলবেন দুই নেতা। আলোচনায় বিশেষভাবে প্রাধান্য পাবে ইরাক ও সিরিয়া পরিস্থিতি। তুর্কি প্রেসিডেন্টের দফতরে বিবৃতিতে এ সফরের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় দুই নেতার সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়। ওই সময় তারা ইরাক ও সিরিয়ার অখণ্ডতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে গত ৩ মে গৃহযুদ্ধ কবলিত সিরিয়ায় একটি সেফ জোন বা নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় একমত হয় রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরান।

সিরিয়া প্রশ্নে তুরস্ক ও রাশিয়ার অবস্থান পরস্পরবিরোধী। ইতঃপূর্বে আঙ্কারার পক্ষ থেকে প্রায়ই মস্কোর বিরুদ্ধে আসাদ সরকারকে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ তোলা হতো। একপর্যায়ে রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল দেখা হয়। পরে ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এরদোগান। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পর এরদোগান রাশিয়ার দিকে আরো ঝুঁকে পড়েন।

এরদোগান মনে করেন ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টার পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র হাত রয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত তুর্কি নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের অভ্যুত্থান চেষ্টায় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে। ফলে এরদোগান বুঝতে পারেন, সিআইএ ও ন্যাটো তার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। এতে তিনি রাশিয়ার সাথে তিক্ততার অবসান ঘটিয়ে মৈত্রী পুনরুদ্ধারে আগ্রহী।

ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর এক ভাষণে এরদোগান বলেন, তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে আমাদের পশ্চিমা বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন ছিল। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তারা চেয়েছিল এই অভ্যুত্থান সফল হোক। কিন্তু তুর্কি জনগণ সেটা হতে দেয়নি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫