ঢাকা, শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭

চট্টগ্রাম

আরো দেড় হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ, ভেলায় আসার সংখ্যা বাড়ছে

গোলাম আজম খান, কক্সবাজার (দক্ষিণ)

১২ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১৯:১৯


প্রিন্ট
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে আজ রোববার দেড় হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছেন। এদের মধ্যে পালংখালীর আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে এক হাজার ও টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে নৌকায় পাঁচশ’র বেশি রোহিঙ্গা এসেছেন। এর আগে শনিবার ১৫টি রোহিঙ্গা পরিবারের ৭৫ জন দু’টি ভেলায় চড়ে নাফ নদী দিয়ে টেকনাফের সাবরাং কেওড়া বনে এসে পৌঁছান। তারা মিয়ানমারের মংডু সুদা পাড়া ও সাংগু পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

তারা আরো জানিয়েছেন, ধাওনখালী চরে অন্তত ২০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের অনেকের খাদ্য শেষ হয়ে যাওয়ায় অনাহারে অর্ধাহারে সেখানে তারা মানবেতর দিন পার করছেন।

পালংখালী ইউনিয়নের মেম্বার সোলতান আহমদ জানান, রাতে এক হাজার মতো রোহিঙ্গা নাফ নদের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছেন।

ভেলায় চড়ে আসা রোহিঙ্গা সুলতান আহমদ জানান, তিনিসহ একই গ্রামের ৭৫ জন বাঁশের ভেলায় নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে আসেন। রাখাইনের যেসব গ্রামে এখনও রোহিঙ্গারা বসবাস করছেন; সেনাবাহিনী ও রাখাইনরা মিলে প্রতিদিন রাতে ওইসব গ্রামে ঢুকে গুলি বর্ষণ করছে যাতে লোকজন ভয়ভীতি পান। দু’দিন আগে সন্ধ্যায় তার গ্রামের চার যুবক পানি আনতে বাড়ি থেকে বের হলে সৈন্যরা তাদের ধরে নিয়ে যায়, তখন থেকে তাদের কোনো খোঁজ খবর নেই। হয়তো তাদের মেরে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা আগে দু’দেশের মধ্যে নৌকায় যাতায়াত করতেন। কিন্তু সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে নৌকা চলাচল এখন বন্ধ। নৌকা না পেয়ে এখন সাঁতরিয়ে, বুকে জারিকেন বেঁধে ও বাঁশের ভেলায় চড়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন।

তিনি বলেন, ২০ দিন আগে সেনাবাহিনীর ভয়ে মংডুর দংখালী নামক চরে আশ্রয় নেই। সেখানে প্রায় ১৬ হাজারের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় আছেন। নৌকা না পেয়ে ভেলায় তারা বাংলাদেশের উদ্দ্যেশে রওনা দেন। আট ঘণ্টা পর তারা এপারে পৌঁছান। ভেলায় ৩৩টিরও বেশি শিশু ছিল। বাকিরা নারী ও পুরুষ।

স্বামীকে হারিয়ে পাঁচ সন্তান নিয়ে ভেলায় চড়ে পালিয়ে আসেন রোহিঙ্গা নারী দিলবাহার বেগম (৩৫)।

তিনি জানান, সেনারা এখনও লোকজনকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না কাউকে। এখনও যারা ওপারে বসবাস করছেন প্রতি মুহূর্তে মৃত্যু তাদের তাড়া করছে।

ভেলায় চড়ে সদ্য অনুপ্রবেশকারি মোহাম্মদ ফয়সাল ও আবদুল হামিদ জানান, বাংলাদেশে আসার জন্য দংখালী চরে থাকা রোহিঙ্গারা বাঁশের ভেলা তৈরি করছেন।

ভেলায় চড়ে আসা রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, রাখাইনে সেনাদের চাপের মুখে ঘরবন্দী জীবনে অতিষ্ঠ হয়ে তারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার উদ্দেশে কেউ এক সপ্তাহ আগে আবার কেউ দু’তিন সপ্তাহ আগেই ঘর ছেড়ে দক্ষিণ রাখাইনের ধাওনখালী চরে আসেন। কিন্তু সেখানে এসে বাংলাদেশ ঢুকতে কোনো নৌকা না পাওয়ায় তারা হতাশ হন। পরে তাদের মধ্যে কিছু যুবক জারিকেন বুকে নাফ নদ সাঁতরিয়ে বাংলাদেশে আসেন।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও মানবিক কারাণে বিজিবি তাদের উদ্ধার করে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে তাদের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠাচ্ছেন।

টেকনাফ-২ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম জানান, সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে বলতে গেলে নৌকা চলাচল এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

তিনি রোহিঙ্গাদের বরাত দিয়ে বলেন, তারা নৌকা না পেয়ে ভেলায় চড়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রেখেছে। এমনকি সাঁতরিয়েও অনেকে আসছেন। তাদেরকে মানবিক সহযোগিতা দিয়ে রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা শরাণার্থী শিবিরে পাঠানো হচ্ছে।
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহযোগিতার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া এলাকা থেকে তিন যুবককে আটক করে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক এই সাজা দেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫