ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

উপমহাদেশ

ভারতে গো-রক্ষকদের গুলিতে মুসলিম ব্যবসায়ী নিহত

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১২ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১৭:৪২


প্রিন্ট
ভারতীয় গরু

ভারতীয় গরু

ভারতে ফের স্বঘোষিত গো-রক্ষকদের তাণ্ডব। গরু পাচারের অভিযোগে এক মুসলিম ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা। ঘটনাস্থল সেই রাজস্থানের আলোয়ার। যেখানে গত কয়েক মাসে একাধিকবার এমন তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, হরিয়ানা থেকে একটি পিক ভ্যানে চারটি গরু আনছিলেন উমর মোহাম্মদ, তাহির খান এবং আরো এক ব্যক্তি। রাজস্থান-হরিয়ানা সীমান্তের কাছে আলোয়ারের ফাহারি গ্রামে তাদের গাড়ি আটকায় কয়েকজন গো-রক্ষক। অভিযোগ উমর এবং তাহিরকে বিনা প্ররোচনায় মারতে থাকে কয়েকজন। এর মধ্যে কেউ গুলি ছোড়ে। গুলি মাথায় লাগে উমরের। ঘটনাস্থলে মারা যান উমর খান। গুলিবিদ্ধ হন তাহির। কোনোভাবে পালিয়ে বাঁচেন উমরদের এক সঙ্গী। তাহিরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

উমরের বাড়িতে স্ত্রী ছাড়াও আট সন্তান রয়েছে। উমর এবং তাহির মেওয়াত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। এই ঘটনা জানাজানি হতে ওই সম্প্রদায়ের লোকজন বেজায় ক্ষুব্ধ। হত্যার প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, তাণ্ডবের সময় ঘটনাস্থলে ছিল পুলিশ। তবু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকী এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতারও করা হয়নি।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য জানান, এই নিয়ে গুলি চালানোর পাশাপাশি বেদম মারা হয়। মৃতের এক আত্মীয়র বক্তব্য, উমরকে কে মেরেছে, কেন মারা হয়েছে তা তারা বুঝতে পারছেন না। তবে পুলিশের দাবি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে গ্রামবাসীরা তাদের জানিয়েছেন আক্রান্তরা গরু পাচারকারী। আদৌ তারা পাচারকারী কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত বছরের এপ্রিলে এই আলোয়ারে খুন হয়েছিলেন দুধ ব্যবসায়ী পেহলু খান। উমর যেখানে খুন হয়েছেন তার থেকে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে মার খেয়েছিলেন পেহলু। বেধড়ক পিটিয়ে মারা হয়েছিল মাঝবয়সী ওই ব্যক্তিকে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি তদন্ত বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে রাজস্থান সরকার। প্রমাণ না মেলায় অভিযুক্তদের ক্লিনচিট দিয়েছে আদালত।

এদিনের ঘটনার পর মৃতের পরিবারের আশঙ্কা, দোষীরা ধরা পড়লেও আইনের ফাঁক গলে ছাড়া পেয়ে যেতে পারে। সাধারণ মানুষের মনে এখন আস্থা ফেরানো প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির সাথে ৪৫ মিনিটের বৈঠক করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। জাতিগত নিধনের শিকার পৃথিবীর সবচেয়ে ওই নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর খোঁজখবর নিতে ভিয়েতনামে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিতব্য এপেক সম্মেলনে অংশ নিতে সেখানে অবস্থান করছেন দুই নেতা।


বিভিন্ন কানাডীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকে রোহিঙ্গা নিপীড়নের প্রশ্নে সু চির অবস্থান জানতে চেয়েছেন ট্রুডো। নিপীড়ন বন্ধ না হওয়ার কারণও জানতে চেয়েছেন তিনি। একই সাথে সঙ্কট উত্তরণের পথ নিয়েও কথা বলেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।


কানাডার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, রাখাইনে সহিংসতা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সৃষ্টি হওয়া মানবিক সঙ্কটের সম্ভাব্য সমাধানের উপায় নিয়ে কথা বলতে ৪৫ মিনিটের এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। মিয়ানমারে ট্রুডোর বিশেষ দূত বব রে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজেও এর আগে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য দেখে গেছেন এবং ট্রুডোকে সেসব বিষয়ে অবহিত করেছেন।
ট্রুডোর বিশেষ দূত বব রে বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নিপীড়ন বন্ধ এবং তারা নিজ দেশ থেকে যেসব কারণে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো দ্বিধাহীনভাবে সু চির সাথে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি এসব কথা শোনা অত্যন্ত জরুরি ছিল সু চির জন্য। আমি আরো মনে করি যে, এ বিষয়ে তার (সু চির) বক্তব্য শুনতে পাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সু চি দাবি করছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। আমার বিবেবচনায় এই চেষ্টা আর করতে হবে এবং আরো করা যেত বলাটাই সমীচীন।’


রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জাতিসঙ্ঘের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সভায় প্রস্তাব উঠানো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু কানাডাই এমনটা অনুভব করছে তা নয়, এসব প্রশ্ন উত্থাপনের েেত্র আমরা সংখ্যালঘু নই। নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে ইতোমধ্যে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন। কক্সবাজারের অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। জাতিসঙ্ঘের প থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নিপীড়নকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের প্রকৃষ্ট উদাহরণ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। তবে মিয়ানমার সরকার সঙ্কটের সমাধান না করে নানাভাবে রোহিঙ্গাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কার্যত নীরব থাকায় সারা বিশ্বের মানবাধিকার সংগঠন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে নোবেল বিজয়ী সু চির সমালোচনা হচ্ছে।


গত সেপ্টেম্বরে সু চির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তখনো তার সাথে ফোনে কথা বলেছিলেন ট্রুডো। সে সময় রাখাইনে বিশেষ দৃষ্টি দিতে সু চিকে অনুরোধ করেছিলেন তিনি। ফোনে কথা বলার পর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে দেশটির মতাসীন দলের নেতা অং সান সু চির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী। ওই চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, অবিলম্বে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সন্ত্রাস বন্ধ করে স্বাধীন এবং নিরপে তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনুন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫