মিসরের চেয়ে বেশি পিরামিড আছে সুদানে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

আফ্রিকার দেশ সুদানের কথা ভাবলে শুরুতেই যে চিত্র চোখে ভেসে উঠবে, তা হচ্ছে যুদ্ধাক্রান্ত এক রুক্ষ মরুভূমির দেশ। গণহত্যার অভিযোগ আর দারফুরের শরণার্থী সংকটের কথা কমবেশি সবাই জানে।

কিন্তু দেশটির বিস্তীর্ণ মরু এলাকায় রয়েছে হাজার বছরের পুরনো বহু পিরামিড। আকারে কিছুটা ছোট হয় সুদানের পিরামিড। মোট সংখ্যা ২৫০টিরও বেশি।
সম্প্রতি দেশটির তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের একটি অংশ এগিয়ে এসেছে নিজেদের দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে এবং জানাতে।
এমনই একজন মোহাম্মদ আল মুর, বিদেশী পর্যটকদের গাইড হিসেবে কাজ করেন।
"আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম এটা দেখে. এই পিরামিডগুলো আসলে কেউ দেখেইনি এখন পর্যন্ত। এটাও অবাক করার মত ব্যপার যে কেউ এগুলোর কোনো দেখাশুনা করে না।
এটা আমাদের পরিবারগুলোর নিজেদের প্রাচীন ইতিহাস। আমার পরিবারের কাছ থেকে এই জায়গা সম্পর্কে আমি শুনেছি। শুনেছি এই জায়গাগুলো কিভাবে নারীরা পরিচালনা করতেন, শুনেছি এই জায়গাগুলো একেকটি কত বড় বড় সভ্যতা ছিল!"

মোহাম্মদ দেশটির তরুণ প্রজন্মকে নিজের দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানানোর জন্য মুক্ত আলোচনা এবং বিনা পয়সায় পিরামিড দেখাবার উদ্যোগ নিয়েছেন।
দিনব্যাপী এসব ট্যুরে নিয়মিত তিনি নিয়ে যাচ্ছেন দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের। এদের অনেকেই এখন একাধিক বার করে যাচ্ছেন সেইসব স্থাপনায়।
"এটা আমার দ্বিতীয় সফর এখানে। আমরা সবাই রীতিমত বিস্মিত। আসার আগে আমরা ভেবেছিলাম, গিয়ে হয়তো দেখবো প্রাচীন দুইটা পিরামিড বা এরকম নগণ্য কিছু।"
এই তরুণ পর্যটক দলের কেউ কেউ আছেন, যারা এখন উৎসাহিত হয়েছেন নিজেরা আরো জানতে এবং বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করতে। কেউ আছেন যারা প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার ছবি তোলা বা ভিডিও নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী।
"একজন সুদানিজ হিসেবে আপনাকে আপনার সংস্কৃতি ও ইতিহাস জানতে হবে। আর অন্যকে বলার আগে আপনাকে নিজের চোখে সেসব দেখতে হবে।"
দেশটির পুরনো শহর গেমাটোনের কাছে মরুভূমিতে রয়েছে বেশিরভাগ পিরামিড।
প্রায় দুই হাজার বছর আগে এগুলো গড়ে তোলা হয়। তখন সুদানে 'কুশ' সাম্রাজ্যের জমজমাট অবস্থা।
মোহাম্মদ বলছিলেন কিছু পিরামিড আছে ডিনামাইটের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৮৩০ সালে ইতালিয় একজন রত্ন শিকারি মূল্যবান রত্নের সন্ধানে গুড়িয়ে দিয়েছিলেন কয়েকটি পিরামিড।
অনেক সমাধির জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে।
মোহাম্মদের আশা সামনের দিনে নিজেদের পিরামিডগুলো রক্ষার দায়িত্ব নেবে সুদানের তরুণ ছেলেমেয়েরা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.