ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

ইউরোপ

পরমাণু যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু ন্যাটোর

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১২ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১৩:৫৬


প্রিন্ট
পরমাণু যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু ন্যাটোর!

পরমাণু যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু ন্যাটোর!

রাশিয়া অভিযোগ করেছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো পরমাণু যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু এই অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছে মস্কো থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘নাজাভিসিমা গেজেটা’।

সের্গেই শোইগু বলেন, ন্যাটো পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু করতে চায় এবং এ লক্ষ্যেই ওই জোট রাশিয়া ও বেলারুশের মধ্যে অনুষ্ঠিত সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে বেলারুশের একটি অঞ্চলের পাশাপাশি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ বন্দরের কাছে 'জাপাদ-২০১৭' নামের যৌথ মহড়া চালায় মস্কো ও মিনস্ক। ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে ওই মহড়ার ব্যাপারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

এ সম্পর্কে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, তার দেশের সীমান্তে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট যে ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা চালাচ্ছে তাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্যই জাপাদ-২০১৭’র বিরুদ্ধে অযথা হৈ চৈ শুরু করেছে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো।

শোইগু বলেন, এমন সময় রাশিয়া ও বেলারুশের যৌথ সামরিক মহড়া বিরোধী প্রচারণা চালানো হচ্ছে যখন এই দুই দেশের সীমান্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে ন্যাটো; এমনকি তারা পরমাণু অস্ত্রও মোতায়েন করেছে।

রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, রাশিয়ার পশ্চিম সীমান্তে নতুন নতুন সামরিক ও বিমান ঘাঁটি নির্মাণ করছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোট। ন্যাটোর এই তৎপরতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপদের মুখে ঠিলে দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আমেরিকা ফার্স্ট মাথায় রেখেই বাণিজ্য চুক্তি : ট্রাম্প

সিএনএন ও আলজাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন বাজারে অন্য দেশগুলোর পণ্যসামগ্রী প্রবেশে বিধিনিষেধ অনেক কম। তাদের শুল্ক ও কম দিতে হয়। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে মূল্য দিতে হচ্ছে। আমাদের জনগণ তিগ্রস্ত হচ্ছে। মুক্ত বাণিজ্যের ফলে লাখ লাখ আমেরিকান কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থা আর চলতে দেয়া যায় না। ভবিষ্যতে আমেরিকা ফার্স্ট মাথায় রেখে বাণিজ্য চুক্তি করা হবে।


শুক্রবার ভিয়েতনামে এশিয়া-প্যাসেফিক ইকোনোমিক কো-অপারেশন (এপিইসি) সম্মেলনে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষণে এপেকের সদস্য দেশগুলোকে ‘ন্যায্য পারস্পরিক বাণিজ্য’ নীতি মেনে চলার আহ্বান জানান। যেসব দেশ এটা মেনে চলবে তাদের সাথে দ্বিপীয় চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। তবে এর ভিত্তি হবে পারস্পরিক সম্মান ও সুবিধা। দৃশ্যত ট্রাম্পের আক্রমণের প্রধান ল্যবস্তু ছিল চীন। তবে এই আক্রমণাত্মক ভাষণের ঘণ্টাখানেক আগেই চীন সফরে দেশটির ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প। বাণিজ্য ঘাটতি এবং উত্তর কোরিয়া নীতির জন্য তিনি শি জিনপিং সরকারের প্রশংসা করেন।


ট্রাম্পের ভাষায়, ‘বাণিজ্য খাতে চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ায় আমি বেইজিংকে দায়ী করছি না। আগের মার্কিন প্রশাসনের অযোগ্যতাই এর জন্য দায়ী।’ উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে তিনি বলেন, চীন চাইলে এ সমস্যার দ্রুত ও সহজ সমাধান করতে পারে। এ সময় তিনি এ বিষয়ে চীনা প্রেসিডেন্টকে ‘আরো বেশি কিছু’ করার অনুরোধ জানান।
‘মুক্ত বাণিজ্যের কারণে লাখ লাখ মার্কিনি কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছে’ এবং এ অবস্থা আর চলতে দেবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্মেলনের প্রথম দিন দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, তিনি সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রকে সবার আগে রাখবেন এবং এপেকভুক্ত দেশগুলোর ‘ন্যায্য পারস্পরিক বাণিজ্য’ নীতি মেনে চলা উচিত।


বাণিজ্য বিষয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২১ দেশের জোট এপেক। বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতার অভিযোগ তুলে ট্রাম্প আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অন্যান্য দেশের পণ্য প্রবেশে বাধা অনেক কম এবং শুল্কও কম। অন্যান্য দেশে বিষয়গুলো একই রকম নয়। এটি আমাদের দেশের অনেক মানুষকে তিগ্রস্ত করছে। মুক্ত বাণিজ্যের কারণে লাখ লাখ আমেরিকান কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রকে ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (এপেকভুক্ত ১২ দেশের বাণিজ্য চুক্তি) থেকে সরিয়ে নেয়ার কথা বলে আসছেন। তার যুক্তি, এ চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ তিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, তিনি এপেকভুক্ত যেকোনো দেশের সাথে দ্বিপীয় চুক্তি করতে রাজি আছেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫