ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

বিবিধ

সামরিক যোগাযোগ বজায় রাখতে একমত হয়েছেন ট্রাম্প ও পুতিন

পার্সটুডে

১১ নভেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৯:২০


প্রিন্ট
সামরিক যোগাযোগ বজায় রাখতে একমত হয়েছেন  ট্রাম্প ও পুতিন

সামরিক যোগাযোগ বজায় রাখতে একমত হয়েছেন ট্রাম্প ও পুতিন

সিরিয়ায় রুশ এবং মার্কিন বাহিনীর মধ্যে সামরিক যোগাযোগ রক্ষা বজায় রাখা বিষয়ে একমত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

শনিবার ক্রেমলিন জানিয়েছে, ভিয়েতনামের দা নাং শহরে 'এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনোমিক কো-অপারেশন' বা এপেক'র শীর্ষ সম্মেলনের অবকাশে অনুষ্ঠিত একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠকের সময় দুই নেতা এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতিতে অনুমোদন দিয়েছেন। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিরিয়ায় রুশ এবং মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়েশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিয়োজিত বিভিন্ন মিত্র বাহিনীর মধ্যে বিপজ্জনক সংঘর্ষ এড়ানোর লক্ষ্যে চলমান সামরিক যোগাযোগ বজায় রাখার ব্যাপারে পুতিন এবং ট্রাম্প একমত হয়েছেন।

রাশিয়া-আমেরিকা : কে বেশি শক্তিশালী?

অস্ত্রের শক্তির বিচারে রাশিয়া-আমেরিকা কারো বিজয় বুঝে নেয়ার কোনো বাস্তবিক তত্ত্ব নেই। রাশিয়া নতুন নতুন অস্ত্র আমেরিকার চেয়ে বেশি। রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, গোটা আমেরিকাকে ধসিয়ে দিতে রাশিয়ার দেড় ঘণ্টা সময় লাগবে। মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক অলিভার স্টোনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আমেরিকা আর রাশিয়ার মধ্যে যদি পরমাণু যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে সে যুদ্ধ এতটাই মারাত্ম হবে যে, জয়ী হিসেবে দাবি করার মতো কেউ বেঁচে থাকবে না।

আবার আমেরিকার মিনুটম্যান ৩ রকেট দিয়ে সেকেন্ডে মধ্যে ক্রেমলিন ধ্বংস করা সম্ভব। তবে আমেরিকার অস্ত্রগুলো কখনোই পৃথিবীর অবসান ঘটাবে না। এগুলো নির্দিষ্ট ক্ষমতাসম্পন্ন করেই বানানো হয়েছে। এগুলো কোটি মানুষের জীবননাশ না করেই তার লক্ষ্য হাসিল করতে পারবে।
রাশিয়া তাদের নিউক্লিয়ার অস্ত্রের ভাণ্ডার বৃদ্ধি করছে, মিসাইল এবং ওয়াহেডসগুলোর আপডেট করেছে, জটিল ও মারাত্মক অস্ত্র বানিয়েছে। রাশিয়ার অস্ত্রগুলো অপেক্ষাকৃত নতুন, সর্বাধুনিক। ১০ বছরের মধ্যে পুনঃনির্মাণ করা হয়। রাশিয়া অনেক বেশি ডিজাইনের আইসিবিএম বানিয়েছে, ক্রমশ এদের উন্নয়ন ঘটিয়েছে, প্রতি যুগে এদের আপডেট করে চলেছে।

রাশিয়ার আরএস-২৪ ইয়ার্স ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালাস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) আমেরিকার যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম, ১০টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। এগুলো হাইপারসনিক গতিতে ধাবিত হয়, সেকেন্ডে ৫ মাইল বেগে। রাশিয়া মিসাইলগুলো ট্রাকে বহন করতে পছন্দ করে। রাশিয়ানরা মিসাইল রাখার বিষয়ে গোপন থাকতে চায়। এগুলো যেকোনো স্থানে বহন করে নিতে চায়। রাশিয়ানরা ১০ ওয়ারহেড দিয়ে গোটা শহর ধ্বংস করতে চায়। রাশিয়ার রোবোটিক মিনি-সাবমেরিনগুলো ১০০ নট গতিতে ৬২০০ মিসাইল নিয়ে পানিতে ঘুরতে পারে। এই অস্ত্রগুলো কেবল নিউক্লিয়ার অ্যাটাকই ঘটাবে না, এদের তেজষ্ক্রিয়তায় একটি হারবার বহু বছর ধরে বিষাক্ত থাকতে পারে। আমেরিকার এই মিসাইল ঠেকানোর মতো কোনো উপায় হাতে নেই।

আমেরিকান মিনুটম্যান ৩ আইসিবিএম এ একটি মাত্র ওয়ারহেড রয়েছে। আমেরিকার অস্ত্রের প্লুটোনিয়ার পিটগুলো ১০০ বছর টিকে থাকবে। মিনুটম্যান ৩ আইসিবিএম দারুণ শক্তিশালী। আমেরিকা মিসাইলগুলোর বেজ মাটিতে রাখতে চায়। ইউএস স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড এর লিউইস বলেন, রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে শক্তিশালী মিসাইল আমেরিকার। রাশিয়ার অধিকাংশ আধুনিক অস্ত্রের হামলা ঠেকাতে পারবে না আমেরিকা। রাশিয়ার নিউক্লিয়ার আইসিবিএম কক্ষপথে বিস্ফোরিত হবে, আলাদা আলাদা অংশে বিভক্ত হবে এবং যার যার টার্গেটে আঘাত হানবে। ১০টি ওয়ারহেড নিয়ে ধেয়ে আসা মিসাইলকে ঠেকানোর পদ্ধতি আমেরিকা ডিজাইন করতে পারেনি।

আমেরিকার অস্ত্রগুলো অনেক সুন্দর, জটিল এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কাজের জন্য ডিজাইন করা। আমেরিকা এমনভাবে অস্ত্রগুলো রাখতে চায় যার ওপর ভরসা রাখা সম্ভব। যে জিনিসগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব সেই উপায় গ্রহণ করে আমেরিকা। এগুলো সম্পর্কে সহজেই প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। ইউএস মিলিটারির নন-কমিশনড অফিসাররাই প্রাণ। এরা বহুকাল ধরেই এভাবে অবস্থান করছে। অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণে আমেরিকা রাশিয়ার চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। আমেরিকা অস্ত্রের ধ্বংস ক্ষমতার দিক থেকে নিখুঁত থাকতে চায়। একটি মিসাইল একটি ওয়ারহেড বহন করে নিয়ে নির্দিষ্ট একটি ভবন ধসিয়ে দেবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫