ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

প্রিয়জন

প্রি য় জ ন প ঙ্ ক্তি মা লা

১১ নভেম্বর ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

হাসান নাজমুল
চলিষ্ণুু

সমস্ত অন্তরজুড়ে একবুক বোধ ভরেÑ
অনেক আগেই চেতনার পথ ধরে হাঁটা শুরু,
বসবার ফুরসত নেই, তাই অমসৃণ আশ্রয় ধরেই
আরেক আশ্রয় খুঁজবার পালা,
হৃদয় সঙ্গতা চায়, কাউকে বুঝতে চায়
তবু পুনর্বার খুঁজে পাই নিঃসঙ্গতা,
পুনর্বার চোখে পড়ে কষ্ট-কেন্দ্র,
পৃথিবীর খেলাঘরে শুধু দুঃখের আবাদ
সমস্ত আহাদ উবে যায়
সব সাধ বৃষ্টি হয়ে মেঘের হৃদয় থেকে
ঝরে ঝরে পড়ে অবিরাম,
ঘুমাবার অবকাশ নেই, দমহীন আমি
দুর্দম, একাকী চলছি অজ্ঞাত পথে,
দুর্মর নদীর মতো জীবন চলিষ্ণু
আকাক্সক্ষাও অনিঃশেষ, সেই স্পৃহা নিয়ে
চলছি চলন্ত পথে, জানি কষ্ট সামনে, তবুও।
প্রিয়জন - ১৬১৬, সিরাজগঞ্জ


ওয়াহিদা রাজ্জাক মিশা
সময়ের রং

সময়ের রং থাকে . . .
লাল নীল বেগুনি সবুজ বা আকাশি।
সময়ের রং বদলায় . . .
হালকা গোলাপি ভালোবাসার আলো
হয়ে যায় গভীর নীল সমুদ্র;
আকাশের নীলাভ নির্লোভ মায়াবী নীলও
হতে পারে কালো।
সময়েরও ঋতু বদল হয়
ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে
অসহায় হয়ে যায় মানুষ।
দুষ্প্রাপ্যের মতো ‘সুসময়’ কোথায় হারায়?
সময়ও সময়কে বেঁধে রাখে কি?
আমার মতো করে তোমাকে
তোমার মতো করে আমাকে?
চোখের মায়া বদল হয় মানবীয় টানে
দূরত্ব যেখানে নিষ্প্রয়োজন,
শরীরের উপাখ্যানে চলতে থাকে
আদিম বইয়ের ধ্যান ধারণা।
তারপর সেই ভালোবাসার উপাখ্যানও
জিম্মি হয় সময়ের হাতে।
সেই বইয়েও ধুলো জমে, পুরনো গন্ধ জমে,
সময়ের ঘাড়ে দোষ দিয়ে
বড্ড সুন্দর বেঁচে থাকে মানব জীবন।
মোহাম্মদপুর, ঢাকা


আল-মাসুদ হক মিঠুল
শিউলিঝরা সময়

প্রিয়া,
আজকাল দুধমাখা ভাতে পিঁপড়ের সাঁতার দেখি,
লাল-কালো পিঁপড়ের হরেকরকম আমুদে সাঁতার।
ভাঁটফুলে নাক গুঁজে গন্ধ নেই দুই বেলা,
নেশা কেটে গেলে উন্মাদ হয়ে যাই।
ভাবছি এবার চোখকে কবর দেবো,
তোমার সলাজ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকা ওই চোখ দু’টি
আর আমায় যেন দেখতে না হয়।
প্রতিটি শরতে আমায় বড্ড সাজতে ইচ্ছে করে,
ইচ্ছে করে তোমায় পাশে বসিয়ে
তন্দ্রাহীন সারসের মতো দু’প্রহর কাটিয়ে দেই।
সেটা আর হয় কই?
প্রতিটি শিউলি ঝরার সময়ে আমি বোবা-বধির হয়ে যাই,
হয়ে যাই স্বার্থবাদী প্রেমিক
তবু ছিনিয়ে নিতে পারিনি তোমায়।
প্রিয়া,
হাজারো বাহানার শরীর কেটে আজ সত্যি বলছি;
তুমিও জেনে রাখো, আমি ভালো নেই!
ভালো থাকার প্রহরে কষ্টের দেয়ালে রোজ তোমায় আঁকি।
কয়েক হাজার মাইল পেরিয়ে
আজকাল তোমার কণ্ঠের প্রতিধ্বনি শুনতে পাই।
বুঝতে কি আর বাকি থাকে প্রিয়া?
এটা যে বহু প্রতীতি শরতের শিউলিঝরা ভোর পেরিয়ে
হিমশীতল আমেজে ভর করে আসা হেমন্তের সকাল।
পৃথিবীর এই দু®প্রাপ্য অক্টোবরের এমন সকালে
তোমাকেই তো খুঁজে পাই।
প্রতিটি মাস কি শিউলি ঝরা হতে পারে না?
তোমার কাছে চাওয়ার কিছু নেই দেবী
শুধু একটা আবদার ছিল,
প্রকৃতিতে জানিয়ে দাও আমি তোমাকে চাই না
আমি প্রতিটি মাস শিউলিঝরা চাই।


ঊষার মাহমুদ
জিঘাংসা

বিকেলের ডাকপিয়ন শান্ত রোদের খামে
তোমার অবহেলা বিলিয়ে যায় আমার উঠোনে
লতাপাতার ফাঁক গলে আসা আলোর উপহাসে
জিঘাংসার গভীরতা টের পাই।
শান্ত পায়ে নিঃশব্দে চলা যাওয়া তোমার;
পথের দূরত্বে বোবাকান্না বেড়ে যায়,
পথের নির্মম বাঁক ক্রমশেই কেড়ে নিচ্ছে
তোমাকে ডাকার অধিকার;
অবাধ্য ইচ্ছেগুলো ভুলে যাচ্ছে নীড়ে ফেরা।
যে চোখে তোমাকে দেখেছি সে চোখে
অন্য কাউকে দেখতে পাই না;
নিঃশ্বাস বলো আর বিশ্বাস বলো দুটোই তুমি;
রাতের ঘুম কতটা পরাজিত তোমার কাছে
তা শুধু আমি জানি!

 


মনিবুল হক বসুনিয়া
মেঘবালিকা

শরতের তালপাকা ভ্যাপসা গরমে,
মুটে-মজুর যখন ঘাম মুছে কপালের
তুমি এসো, কাশফুলের শুভ্রতা নিয়ে,
ঘর্মকান্ত শরীর যা দেখে পাবে,
এতটুকু প্রশান্তির আবেশ।
তুমি এসো তাদের জন্যÑ
হেমন্তের সোনামাখা ধানে
খাদ্য খুঁজে নিয়ে, যে শালিক দম্পতি
মেলে শূন্যে ডানা;
কুয়াশার চাদরে ঢাকা হিম পৌষে,
একফালি ঝকমকে রোদের লোভে
জবুথবু হয়ে বসে থাকাদের জন্য
লালপেড়ে শাড়ির আঁচল হয়ে
ঈষাণ-কোণে কিংবা পুরো আকাশজুড়ে
উষ্ণতার ছোঁয়া দিতে।
গ্রীষ্মের খরতাপে যৌবন শুকিয়ে যাওয়া
অনাবাদি মাঠে, নবযৌবনের স্পন্দন জাগাতে
ঘোর বর্ষা হয়ে এসো তুমি।
মুখ ভার করে বিষণœ প্রেমিকার মতো কাঁদো,
কিশোরী বালিকার মতো ফুঁপিয়ে,
অবাধ্য মেয়ের মতো ডুকরে অথবা
লাজুক প্রিয়ার মতো লুকিয়ে।
তুমি এসো, আমাকেও পবিত্র-শুদ্ধ করে যেও
তোমার ছোঁয়ায়।
ধুয়ে-মুছে দিও যত কান্তি আর গ্লানি
লেগে আছে শরীরজুড়ে।
ঢাকা

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫