ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

আমেরিকা

৭০ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেট

পার্সটুডে

০৯ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৮:৫০ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৮:৫৯


প্রিন্ট
৭০ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেট

৭০ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেট

মার্কিন কংগ্রেস এবার দেশটির সরকারকে রেকর্ড পরিমাণ ৭০ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেট পাসের অনুমতি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে পরিমাণ বাজেট দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট সদস্যরা তার চেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ দিতে রাজি হয়েছেন।

মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষের আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে বুধবার তা চূড়ান্ত হয়েছে। ন্যাশনাল ডিফেন্স অথারাইজেশন অ্যাক্ট-২০১৮ এর আওতায় আগামী বছর আমেরিকা সামরিক খাতে ৬৩ হাজার ৪২০ কোটি ডলার খরচ করবে।

বরাদ্দকৃত এ অর্থ আগের রেকর্ড ভাঙবে। আগে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৬০ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আরো ছয় হাজার ৫৭০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২০১৬ সালে এ অর্থের পরিমাণ ছিল পাঁচ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।

বাড়তি বাজেট পাসের ফলে মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য ১৪টি যুদ্ধজাহাজ ও ৯০টি এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান কেনা হবে।

রাশিয়া-আমেরিকা : কে বেশি শক্তিশালী?

অস্ত্রের শক্তির বিচারে রাশিয়া-আমেরিকা কারো বিজয় বুঝে নেয়ার কোনো বাস্তবিক তত্ত্ব নেই। রাশিয়া নতুন নতুন অস্ত্র আমেরিকার চেয়ে বেশি। রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, গোটা আমেরিকাকে ধসিয়ে দিতে রাশিয়ার দেড় ঘণ্টা সময় লাগবে। মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক অলিভার স্টোনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আমেরিকা আর রাশিয়ার মধ্যে যদি পরমাণু যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে সে যুদ্ধ এতটাই মারাত্ম হবে যে, জয়ী হিসেবে দাবি করার মতো কেউ বেঁচে থাকবে না। আবার আমেরিকার মিনুটম্যান ৩ রকেট দিয়ে সেকেন্ডে মধ্যে ক্রেমলিন ধ্বংস করা সম্ভব। তবে আমেরিকার অস্ত্রগুলো কখনোই পৃথিবীর অবসান ঘটাবে না।

এগুলো নির্দিষ্ট ক্ষমতাসম্পন্ন করেই বানানো হয়েছে। এগুলো কোটি মানুষের জীবননাশ না করেই তার লক্ষ্য হাসিল করতে পারবে।
রাশিয়া তাদের নিউক্লিয়ার অস্ত্রের ভাণ্ডার বৃদ্ধি করছে, মিসাইল এবং ওয়াহেডসগুলোর আপডেট করেছে, জটিল ও মারাত্মক অস্ত্র বানিয়েছে। রাশিয়ার অস্ত্রগুলো অপেক্ষাকৃত নতুন, সর্বাধুনিক। ১০ বছরের মধ্যে পুনঃনির্মাণ করা হয়। রাশিয়া অনেক বেশি ডিজাইনের আইসিবিএম বানিয়েছে, ক্রমশ এদের উন্নয়ন ঘটিয়েছে, প্রতি যুগে এদের আপডেট করে চলেছে।

রাশিয়ার আরএস-২৪ ইয়ার্স ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালাস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) আমেরিকার যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম, ১০টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। এগুলো হাইপারসনিক গতিতে ধাবিত হয়, সেকেন্ডে ৫ মাইল বেগে। রাশিয়া মিসাইলগুলো ট্রাকে বহন করতে পছন্দ করে। রাশিয়ানরা মিসাইল রাখার বিষয়ে গোপন থাকতে চায়। এগুলো যেকোনো স্থানে বহন করে নিতে চায়। রাশিয়ানরা ১০ ওয়ারহেড দিয়ে গোটা শহর ধ্বংস করতে চায়। রাশিয়ার রোবোটিক মিনি-সাবমেরিনগুলো ১০০ নট গতিতে ৬২০০ মিসাইল নিয়ে পানিতে ঘুরতে পারে। এই অস্ত্রগুলো কেবল নিউক্লিয়ার অ্যাটাকই ঘটাবে না, এদের তেজষ্ক্রিয়তায় একটি হারবার বহু বছর ধরে বিষাক্ত থাকতে পারে।

আমেরিকার এই মিসাইল ঠেকানোর মতো কোনো উপায় হাতে নেই।
আমেরিকান মিনুটম্যান ৩ আইসিবিএম এ একটি মাত্র ওয়ারহেড রয়েছে। আমেরিকার অস্ত্রের প্লুটোনিয়ার পিটগুলো ১০০ বছর টিকে থাকবে। মিনুটম্যান ৩ আইসিবিএম দারুণ শক্তিশালী। আমেরিকা মিসাইলগুলোর বেজ মাটিতে রাখতে চায়। ইউএস স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড এর লিউইস বলেন, রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে শক্তিশালী মিসাইল আমেরিকার। রাশিয়ার অধিকাংশ আধুনিক অস্ত্রের হামলা ঠেকাতে পারবে না আমেরিকা। রাশিয়ার নিউক্লিয়ার আইসিবিএম কক্ষপথে বিস্ফোরিত হবে, আলাদা আলাদা অংশে বিভক্ত হবে এবং যার যার টার্গেটে আঘাত হানবে। ১০টি ওয়ারহেড নিয়ে ধেয়ে আসা মিসাইলকে ঠেকানোর পদ্ধতি আমেরিকা ডিজাইন করতে পারেনি।

আমেরিকার অস্ত্রগুলো অনেক সুন্দর, জটিল এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কাজের জন্য ডিজাইন করা। আমেরিকা এমনভাবে অস্ত্রগুলো রাখতে চায় যার ওপর ভরসা রাখা সম্ভব। যে জিনিসগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব সেই উপায় গ্রহণ করে আমেরিকা। এগুলো সম্পর্কে সহজেই প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়। ইউএস মিলিটারির নন-কমিশনড অফিসাররাই প্রাণ। এরা বহুকাল ধরেই এভাবে অবস্থান করছে। অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণে আমেরিকা রাশিয়ার চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। আমেরিকা অস্ত্রের ধ্বংস ক্ষমতার দিক থেকে নিখুঁত থাকতে চায়। একটি মিসাইল একটি ওয়ারহেড বহন করে নিয়ে নির্দিষ্ট একটি ভবন ধসিয়ে দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও সেনা সদস্য বেশি রাশিয়ার
যুক্তরাষ্ট্রের পর সামরিক শক্তির দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে রাশিয়া। তবে মার্কিনিদের থেকে তাঁদের সেনা সদস্য অনেক বেশি। সমর বিশেষজ্ঞ, সামরিক নীতিকৌশল ও আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রে দেশটি যথেষ্ট শক্তিশালী। এ দেশটিও পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষমতাধারী।

দেশটিতে মোট ৩৩ লাখ ৭১ হাজার ২৭ জন সেনা রয়েছে। রয়েছে ২০ হাজার ২১৬টি ট্যাংক, ৩১ হাজার ২৯৮টি বিভিন্ন ধরনের সাঁজোয়া যান, ১০ হাজার ৫৯৭টি কামান ও তিন হাজার ৭৯৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের যান।

রাশিয়ার বিমানবাহিনীতে মোট বিমানের সংখ্যা তিন হাজার ৭৯৪টি। নৌবাহিনীতে রয়েছে একটি বিমানবাহী রণতরী, ছয়টি ফ্রিগেট, ১৫টি ডেস্ট্রয়ার ও ৬৩টি সাবমেরিনসহ ৩৫২টি তরী।

দেশটির সামরিক ব্যয় দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। বর্তমানে তাদের বার্ষিক সামরিক ব্যয় ৮৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্বের তৃতীয় সামরিক ব্যয়।

সবচেয়ে আধুনিক বিমানবাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের
সামরিক শক্তির দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি। আন্তর্জাতিক যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনীর রয়েছে দারুণ সক্ষমতা। সামরিক বাহিনীতে বিশ্বের এক নাম্বারে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কারণ দেশটি সামরিক খাতে এতটাই ব্যয় করে যে তা শীর্ষ দশের বাকি ৯ দেশের মোট সামরিক ব্যয়ের সমান। সামরিক খাতে দেশটির বার্ষিক ব্যয় ৬০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের মোট সেনাসদস্য ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৭৫ জন। রয়েছে আট হাজার ৮৪৮টি ট্যাংক, ৪১ হাজার ৬২টি বিভিন্ন ধরনের সাঁজোয়া যান, তিন হাজার ২৩৩টি কামান ও এক হাজার ৩৩১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের যান। বিমানবাহিনীতে মোট বিমানের সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৯২টি, ৭২টি সাবমেরিন। এছাড়া পারমাণবিক অস্ত্র তো আছেই।

দেশটির বিমানবাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক হিসেবে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে রয়েছে ১৯টি বিমানবাহী রণতরী, আটটি ফ্রিগেট, ৬৩টি ডেস্ট্রয়ার ও ৭০টি সাবমেরিনসহ ৪১৫টি তরী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন সামরিক বাহিনীর সক্ষমতায় শীর্ষে?
সামরিক শক্তির দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি। আন্তর্জাতিক যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনীর রয়েছে দারুণ সক্ষমতা। সামরিক বাহিনীতে বিশ্বের এক নাম্বারে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কারণ দেশটি সামরিক খাতে এতটাই ব্যয় করে যে তা শীর্ষ দশের বাকি ৯ দেশের মোট সামরিক ব্যয়ের সমান। 

যুক্তরাষ্ট্রের মোট সেনাসদস্য ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৭৫ জন। রয়েছে আট হাজার ৮৪৮টি ট্যাংক, ৪১ হাজার ৬২টি বিভিন্ন ধরনের সাঁজোয়া যান, তিন হাজার ২৩৩টি কামান ও এক হাজার ৩৩১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের যান। বিমানবাহিনীতে মোট বিমানের সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৯২টি, ৭২টি সাবমেরিন। এছাড়া পারমানবিক অস্ত্র তো আছেই।

দেশটির বিমানবাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক হিসেবে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে রয়েছে ১৯টি বিমানবাহী রণতরী, আটটি ফ্রিগেট, ৬৩টি ডেস্ট্রয়ার ও ৭০টি সাবমেরিনসহ ৪১৫টি তরী।

সূত্র : গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার, আর্মস কন্ট্রোল ওঙ্ক ও বিজনেস ইনসাইডার

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫