ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

আন্তর্জাতিক সংস্থা

রাখাইনে সামরিক অভিযান বন্ধের তাগিদ

নিরাপত্তা পরিষদে প্রেসিডেন্সিয়াল প্রস্তাব গৃহীত

ইমরান আনসারী, জাতিসংঘ সদর দফতর থেকে

০৭ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ২৩:১৪


প্রিন্ট

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলা অভিযানের উপর সর্বসম্মতিক্রমে প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট গৃহীত হয়েছে। সোমবার জাতিসংঘ সদর দফতরে এ প্রস্তাব উন্থাপিত হলে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ইটালির স্থায়ী প্রতিনিধি সিবাসতিয়ানো কার্ডি (Sebastiano Cardi) নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে এই স্টেটমেন্ট পড়ে শুনান। নিরাপত্তা পরিষদের এ পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে এ প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট গ্রহণ সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যা সুনির্দিষ্টভাবে নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত দলিল হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে।
বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিবকে অনুরোধ জানানো হয় যাতে তিনি এই সংকট উত্তরণে একজন বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ প্রদান করেন। যাতে নিযুক্ত উপদেষ্টা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সাথে আলোচনা অব্যাহত রাখেন। এ বিষয়ে মহাসচিবের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখারও অনুরোধ জানানো হয়।
নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমার পরিস্থিতির নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর মর্মে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব যাতে প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট গ্রহণের ৩০ দিন পর মিয়ানমার পরিস্থিতির উপর নিরাপত্তা পরিষদে বিবৃতি প্রদান করেন সে বিষয়েও অনুরোধ জানানো হয়।
স্টেটমেন্টটিতে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের মানবিক সহায়তার বিষয়ে বাংলাদেশের ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করা হয় এবং ২৫ আগস্ট থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত রাখাইন প্রদেশে সংঘটিত বর্ণনাতীত সহিংসতার নিন্দা জানানো হয়।
এ সভায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে বক্তব্য রাখারও সুযোগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। মিয়ানমার সংকটের সমাধানে সর্বসম্মতিক্রমে প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট গ্রহণ করায় তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন “এ সংকট সমাধানের জন্য আমরা সবসময়ই প্রস্তুত রয়েছি এবং আমাদের যা করণীয় তা করে যাচ্ছি। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে চাই, দ্বিপাক্ষিকভাবে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদ এ বিষয়ে যথাযথ দায়িত্ব গ্রহণ করে”।
রাষ্ট্রদূত মাসুদ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটির আওতায় মিয়ানমার বিষয়ে রেজুলেশন গ্রহণে সকল সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাশা করে বলেন “এই রেজুলেশন মিয়ানমার সংকট সমাধানে সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের দ্বিবিধ ভূমিকার ক্ষেত্রে পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে যা জাতিসংঘ মহাসচিবের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টাকে আরো শক্তিশালী করবে”। স্থায়ী প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উল্লেখ করে বলেন, “এই সংকটের শিকড় মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারে নিহিত”।
তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করেন। প্রথমত: উত্তর রাখাইন প্রদেশে বাধাহীন মানবিক সহায়তা প্রদান যাতে যে অল্প সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগণ সেখানে অবশিষ্ট রয়েছে তাদের আর পালাতে না হয়। দ্বিতীয়ত: বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপকে প্রত্যাবাসন বিষয়ে অবশ্যই দৃশ্যমান, ফলপ্রসূ ও টেকসই কার্যক্রম শুরু করতে হবে এবং ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজকে এ বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তৃতীয়ত: কফি আনান কমিশনের সুপারিশের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।
বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বক্তব্য প্রদানের আগে মিয়ানমারের প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্টে উল্লিখিত কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাতে অসন্তোষ ব্যক্ত করে মিয়ানমার গৃহীত সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
জাতিসংঙ্গে বৃটেনের ডেপুটি এম্বাসেডর বলেন, এ বিবৃতির পর মিয়ানমার এবিষয়ে কি ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখায় তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করতে হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫