ঋণখেলাপিরা কোম্পানির উদ্যোক্তা হতে পারবেন না
ঋণখেলাপিরা কোম্পানির উদ্যোক্তা হতে পারবেন না

ঋণখেলাপিরা কোম্পানির উদ্যোক্তা হতে পারবেন না

আশরাফুল ইসলাম

কোম্পানির নিবন্ধন দেয়ার আগে উদ্যোক্তার ঋণের তথ্য (সিআইবি) যাচাই-বাছাই করবে নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠান রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি)। এ ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে কোনো ঋণখেলাপি কোম্পানির উদ্যোক্তা হতে পারবেন না।


আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, কোম্পানির নিবন্ধনের আগে গ্রাহকের ঋণ তথ্য চেয়েছে আরজেএসসি। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে।


জানা গেছে, বর্তমানে কোনো ব্যক্তি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে গেলে ওই ব্যক্তির ঋণ তথ্য যাচাই-বাছাই করবে নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু কোনো উদ্যোক্তা আরজেএসসি থেকে কোনো কোম্পানির নিবন্ধন পেতে গেলে ওই উদ্যোক্তা ব্যাংকের ঋণখেলাপি কি না তা যাচাই-বাছাই করা হয় না। ফলে কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের ঋণখেলাপি হলেও কোম্পানির নিবন্ধন পেতে কোনো বাধা নেই। তবে আরজেএসসি থেকে এখন ঋণখেলাপিদের আটকাতে কোম্পানির নিবন্ধনের আগে ঋণ তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গতকালের বৈঠকে আরজেএসসি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চাওয়া হয়।


আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয় কমিটির সভা প্রতি তিন মাস পরপর অনুষ্ঠিত হয়। গতকালের সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে শুর চৌধুরী ও ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর নির্বাহী পরিচালক, আরজেএসসি, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), বিটিআরসি, ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এনজিওদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটারি অথরিটি (এমআরএ), বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটারি অথরিটি (আইডিআরএ), সমবায় অধিদফতরের প্রধান ও তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন মেয়াদের বন্ডগুলো সেকেন্ডারি বন্ড মার্কেটে কেনাবেচা হয় না। এসব বন্ড পুঁজিবাজারে কিভাবে লেনদেন করা হবে সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ মিলে সমন্বিত প্লাটফর্ম গড়ে তোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সাথে পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় করে থাকে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসইসি এনবিআরের কাছ থেকে সরকারি বন্ড লেনদেনের ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ দিকে ব্যাংকগুলোকে আমানতকারীদের আমানত সুরক্ষা রাখতে বাধ্যতামূলক নগদ জমা (সিআরআর) এবং সংবিধিবদ্ধ তরল অনুপাত (এসএলআর) সংরক্ষণ করতে হয়। এসএলআর ব্যাংকের বিভিন্ন সম্পদ যেমন বিভিন্ন মেয়াদি বন্ড দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু করপোরেট বন্ড দিয়ে এসএলআর সংরক্ষণ করা যায় না। আইনগত বাধা থাকায় এসএলআর হিসেবে সংরক্ষণ করা যায় না। ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী করপোরেট বন্ডগুলো লিকুইডিটি কাভারেজ রেশিও বা এলসিআরে কিভাবে দেখানো যায় সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.