ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

অপরাধ

জুয়ার প্রতিবাদ করায় মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ নভেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৮:৩৯ | আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৭,সোমবার, ১৮:৪৫


প্রিন্ট

বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র নাসিম আহমেদ ওরফে এমাজউদ্দিন (২৪)।

আজ সোমবার সকালে ৯৭৫ মধ্যবাড্ডা পোস্ট অফিস গলির নিজ বাসার অদুরে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।

এমাজ উদ্দিনের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ও তার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী, ছাত্র, শিক্ষকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে এ ঘটনার ১২ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও পুলিশ অভিযুক্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে পারেনি।

এদিকে নিহতের পরিবার ও স্বজনরা অভিযোগ করছেন, বিপিএল ক্রিকেট খেলার জুয়ারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণেই স্থানীয় ‘মাস্তান’ আব্দুর রশীদ ওরফে রমজান ও তার লোকজনের হাতেই জীবন দিতে হয়েছে এমাজউদ্দিনকে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিহতের বড় ভাই ফাহিম আহমেদ নয়া দিগন্তকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের বাসার সামনে বিপিএল ক্রিকেট খেলা উলপক্ষে আব্দুর রশীদ ওরফে রমজান এবং তার লোকজন জমজমাট জুয়ার আসর বসায়। পাশেই চলছিল ক্যারাম খেলা। এসব দেখে এমাজউদ্দিন প্রতিবাদ করতে যায়। এ নিয়ে রজমানের সাথে এমাজের কথাকাটাকাটি ও এক পর্যাযে হাতাহাতি হয়। খবর পেয়ে এমাজের বাবা রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও নাজেহাল করে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে এলাকার এক ব্যবসায়ী উভয়পক্ষকে বিচার সালিশে বসে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা জানান। সোমবার সন্ধ্যার পর বিচার হওয়ার কথা ছিলো।

এ অবস্থায় আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এমাজ প্রতিদিনের মতো গুলশানের মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন। কিছুদুর যেতেই অজ্ঞাত দুই/তিন যুবক তাকে আটক করে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা তার ভাইয়ের গলায় ও কোমড়ের তিন স্থানে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত এমাজের পিতার নাম আলী আহম্মেদ সাইফুদ্দিন। গুলশানের মানারত ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির বিবিএ’র তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। মাত্র নয় মাস আগে বিয়ে হয়েছিল নাসিমের।

নিহতের বাবা আলী আহম্মেদ সাইফুদ্দিন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, জুয়া খেলার প্রতিবাদ করার কারণেই রমজানের লোকজন আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে।

খবর পেয়ে গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ, বাড্ডা জোনের সহকারি কমিশনার আশরাফ আলী ও বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে র‌্যাব, পিবিআই, ডিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং নিহতের স্বজনদের সাথে কথা বলে।

আজ রাতে বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী নয়া দিগন্তকে বলেন, গতকাল রোববার সন্ধ্যার সময় বিপিএল ক্রিকেট খেলার বাজি ধরাকে কেন্দ্র করে শহীদের ভাতিজা রমজানের সাথে নাসিম আহমেদ এমাজউদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। পরে এনিয়ে রমজানের চাচা শহীদ নাসিমের বাবাকে মেরেছে। এঘটনার পর স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী ইমরান বিষয়টি সমাধানের জন্য আজ সোমবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসার সময় নির্ধারণ করে দেন।

ওসি বলেন, এখনো আমরা খুনের ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারিনি।

কিলার কারা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে তারা কিলার, যারা খুন করেছে তারা আগে রমজানের সাথে চলাফেরা করতো বলে আমরা জেনেছি। তবে এখনই তাদের নাম বলা যাচ্ছে না।

আজ পূর্ব বাড্ডায় নিহতের বাসায় খোঁজ নিতে গেলে দেখা যায় স্বজনদের ভীড়। নাসিমের স্ত্রী শামীমা জাহান অন্তী আহাজারি করছেন। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার মা পারভীন আক্তার।

নিহতের ছোট ভাই ইম্পেরিয়াল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র নাবিল আহমেদ জানান, বিপিএল খেলা নিয়ে বোর্ড (ক্যারাম বোর্ড) ঘরে রমরমা জুয়ার আসর চলছিল। সেখানে সন্ধ্যার পর ক্যারাম খেলতেন ভাই নাসিম। গত রাতে নাসিম ক্যারাম খেলতে গিয়ে দেখেন বিপিএলের ম্যাচ নিয়ে মোটা অঙ্কের জুয়া চলছিল। এতে বাধা দেন নাসিম। বাধার মুখে রমজান আলী, আসিফ, রশিদ, শহীদুল ও রফিক নামে স্থানীয়দের সাথে বাগবিতণ্ডা হয় নাসিমের।

নাবিল জানান, বিষয়টি আপস করতে গেলে রমজান ও রশিদ মারধর করেন নাসিমের বাবাকে। কিন্তু আজ সকালে ভাইকে বাসার নিচে ছুরিকাঘাত করে ওদেরই তিনজন।

নাসিমের মা পারভীন আক্তার বলেন, জুয়া খেলায় বাধা দেয়ায় ছেলে খুন হবে ভাবতে পারিনি। ছেলে আমার জুয়া খেলে না। ক্যারাম খেলতে গিয়েই ওদের রোষানলে পড়েছে। হাতাহাতিও হয়েছে। সেটা যে খুন পর্যন্ত গড়াবে ভাবিনি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫