ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

নারী

ভিন দেশ

রোহিঙ্গা সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে আন্তর্জাতিক ভাবেই : হ্যালে থরনিং স্মিথ

মো: আবদুস সালিম

০৬ নভেম্বর ২০১৭,সোমবার, ০০:০০


প্রিন্ট
সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনালের সিইও বা প্রধান নির্বাহী হ্যালে থরনিং স্মিথ

সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনালের সিইও বা প্রধান নির্বাহী হ্যালে থরনিং স্মিথ

রোহিঙ্গা সমস্যা মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। আর এটি মানব সৃষ্ট সমস্যা বা সঙ্কট। সম্প্রতি এমন মন্তব্য করেছেন হ্যালে থরনিং স্মিথ। এমন নাজুক পরিস্থিতিকে তিনি জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করেন। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের করুণ অবস্থা সরেজমিন দেখার জন্য। থরনিং স্মিথ শিশুদের অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনালের সিইও বা প্রধান নির্বাহী। ডেনমার্কের প্রথম নারী নেতাও তিনি। অন্য দিকে, তিনি দেশটির ২৬তম নেতা। বিশ্বের শিশুদের নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি রাজনীতিও করেন। ছিলেন সোস্যাল ডেমোক্র্যাটসের নেতা। এমনকি ইরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবেও পরিচিত হ্যালে থরনিং স্মিথ।
রোহিঙ্গা সমস্যার নানা দিক পর্যবেক্ষণ করে স্মিথ বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা আন্তর্জাতিক সমস্যায় চলে এসেছে। একে মোকাবেলা করতে হবে আন্তর্জাতিকভাবেই। তিনি আরো বলেন, বিশ্বের অনেক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান মিয়ানমার সৃষ্ট এ বিপর্যয়ের দিকে তাকিয়েছে। এর কম বেশি সুফলও পাচ্ছে সমস্যাপীড়িতরা। তবে কিছু দিন পর বিশাল এ জনগোষ্ঠীর ওপর থেকে তাদের নজর সরে না যায় সেদিকেও সজাগ থাকতে হবে সবার। অর্থাৎ কোনোভাবেই তা থিতিয়ে পড়লে চলবে না।
হ্যালে থরনিং স্মিথ ডেনমার্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রীও। বিশ্বের সমস্যাপীড়িতদের দেখভাল করাই যেন তার কাজ। শিশুদের নিয়ে তিনি যেন বেশিই ভাবেন। মনে করেন, শিশুরা ভালো থাকা মানে সামাজিক নানা দিক ঠিক থাকা। থরনিং স্মিথ বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন রোহিঙ্গা শিশুদের নানা সমস্যা দূর করার জন্য। প্রয়োজনীয় বা যথাযথ সহায়তার চাকা বা গতি ত্বরান্বিত করার জন্য। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে শিশুই প্রায় ৬০ শতাংশ। আর নতুন আশ্রয় নেয়া শিশুর সংখ্যা প্রায় পৌনে তিন লাখ। যেসব শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার প্রশংসনীয় কাজও করা হচ্ছে। তার সংস্থা জানিয়েছে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এমন শিশুর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। সিইও থরনিং স্মিথ রোহিঙ্গা শিবিরগুলো দেখে বুঝতে পারেন আশ্রয় নেয়াদের সমস্যার যেন অন্ত নেই। যার কারণে খাদ্য, শিশুবান্ধব জায়গা, অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদির প্রতিও জোর দেন। তার সংস্থাটি বিদ্যালয়ে যাওয়ার বয়সী শিশুর সংখ্যাও বের করেছে। বলা হয়েছে, এদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। এদের সুরক্ষার জন্য ব্যয় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে প্রায় ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বাস্তবায়ন হবে ২০১৮ সালের মধ্যে। সিইও বলেন, শিশুরা অপুষ্টির শিকার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের সব জায়গায়ই। উদ্বেগ তৈরি করেছে এতিম বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বা হারিয়ে যাওয়া শিশুরা। এরা রয়েছে অপব্যবহার শোষণ, পাচার ইত্যাদি ঝুঁকিতেও। নিউমোনিয়াসহ নানা রোগের ঝুঁকি রয়েছে শীত আসার আগেই। তাই আগে থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান আন্তর্জাতিক কমিউনিটিগুলোকে। বাংলাদেশের যারা এসব ব্যাপারে এগিয়ে এসেছে তাদেরও ধন্যবাদ জানান। এ দিকে বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের দুর্দশা গণমাধ্যমে যেভাবে উঠে আসছে, বাস্তবটা তার চেয়েও বেশি ভয়াবহ ও শোচনীয়। বাংলাদেশে ঢুকতে এদের প্রচুর হাঁটতে হচ্ছে। সাত থেকে আট দিন লেগে যায়। না খাওয়া পরিশ্রান্ত শরীরে অনেককে পথিমধ্যে মরে যাওয়ার মতো পড়ে থাকতে দেখা যায়। এমনিতেই রোহিঙ্গাদের আবাস যে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য তা মানবাধিকারের বিচারে দেশটির সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নারী, শিশুসহ কী পরিমাণ মানুষ নিহত, আহত ও নিরাশ্রয় হয়েছে তার প্রকৃত হিসাব পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
হ্যালে থরনিং স্মিথ নিয়োগ ও সামাজিক কমিটিরও সদস্য ছিলেন। এই পদে থেকে সাংবিধানিক কমিটির বিকল্প হিসেবেও কাজ করেন। এমনকি সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত অভিযানের সহযোগী প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। রাজনৈতিক আশ্রয় ও বহিরাগতদের (২০০৭ সালের অভিযানে) ওপর নিষেধাজ্ঞার শিথিলতার প্রতি নমনীয়তার প্রতিজ্ঞা করেন তিনি। তিনি বলেন, জনকল্যাণের জন্য প্রচুর তহবিল প্রয়োজন। তার দল সমাজে অসমতা দূরীকরণ ও ডেনমার্কের ২০২৫ সাল নাগাদ নবায়নকৃত উৎস থেকে ৪৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি পদে আসীন হওয়ার পর খুব কম সময়ের মধ্যে নেটো কর্তৃক লিবিয়ায় আঘাতের নীলনকশাকে সন্যাৎ করার ক্ষেত্রে সফলতার সাথে সভাপতিত্ব করেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫