ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

অপরাধ

ক্ষোভ থেকে খুনি, ৬ দিনের রিমান্ডে জনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ২০:২৯


প্রিন্ট
আটক জনি, ইনসেটে নিহত মা ও ছেলে।

আটক জনি, ইনসেটে নিহত মা ও ছেলে।

জনি ছিল বেকার। বেশ কিছু দিন আগে স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয় তার। যে কারণে নিজের সন্তানকে নিয়ে বোন মুক্তার বাসায় উঠেন জনি। জনির সন্তানের দেখাশোনাসহ সামগ্রিক খরচও বহন করতে হত অভিনেত্রী শারমিন আক্তার মুক্তাকে।
অন্য দিকে বোন মুক্তার পরিবারে চলছে টানাপোড়েন। স্বামী আবদুল করিমের তৃতীয় স্ত্রী হলেও মুক্তা ছিলেন পল্টনের ভাড়া বাসায়। সম্প্রতি মুক্তা তার মা ও ভাই জনিকে নিয়ে ওই বাসায় উঠেন। ঢাকায় আসার পর থেকে স্বামী আবদুল করিমের সাথে আর্থিক বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় মুক্তার। ব্যবসায়ী করিমের বেশির ভাগ সম্পত্তি প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারের নামে। ওদিকে প্রথম স্ত্রীর সাথে মুক্তাকে নিয়ে আবদুল করিমের দ্বন্দ্ব পৌঁছে যায় চরমে। একপর্যায়ে তিন-চার মাস আগ থেকে করিমের সাথে মুক্তার বিয়ে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ কারণে সম্প্রতি মুক্তা ভাই ও স্বামীর সামনেই আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।

চোখের সামনে বোনের এ অবস্থা দেখে ক্ষিপ্ত হন জনি। আর সেই ক্ষোভ থেকেই খুনি বনে যান আল-আমিন জনি। ফলে নিজ বাসায় খুন হন মা-ছেলে।

খুন করে পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি জনির। হত্যাকাণ্ডের দুই দিনের মাথায় গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। হত্যার দায় স্বীকার করেন জনি। পরবর্তীতে জনিকে থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। আজ তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) আলী হোসেন আসামি জনিকে আদালতে হাজির করেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তসহ এমন চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস খুনের মূল রহস্য উদঘাটন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনাপূর্বক গ্রেফতার করার লক্ষ্যে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আহসান হাবীব ছয় দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মো: হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।

তিনি বলেন, এটা একটা নিষ্ঠুর, নির্মম নৃশংস হত্যাকাণ্ড। তাদেরকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয়। এটা একটা ন্যাক্কারজনক কাজ। যার মূল পরিকল্পনাকারী এই জনি। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিভিন্নস্থানে যারা পলাতক রয়েছে তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব। এজন্য তদন্ত কর্মকর্তা তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে। আমরা তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।

তবে জনির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জনির ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তবে র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনি কাকরাইলে মা-ছেলেকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।

বোনের আর্থিক সংকট, আত্মহত্যার চেষ্টা, বিচ্ছেদ সবকিছুর জন্য করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহারকে দায়ী করেন জনি। ওইদিনই তিনি তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার নিউমার্কেট থেকে জনি একটি ধারালো অস্ত্র কেনেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি ওই বাড়িতে যান। কলিংবেল চাপলে গৃহকর্মী দরজা খুলে দেন। পরে গৃহকর্মী রান্না ঘরে ঢুকলে জনি রান্নঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেন। এরপর প্রথমে শাওনকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে তার মা শামসুন্নাহারকে হত্যা করেন। এ সময় শাওন মাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে এলে ফের শাওনকে ছুরিকাঘাত করেন। শাওন দৌঁড়ে পালাতে চাইলে সিঁড়িতেই মারা যায়।

গত ১ নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে নিজ ঘরে মা-ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

নিহতরা হলেন- মা শামসুন্নাহার করিম (৪৬) ও তার ছোট ছেলে সাজ্জাদুর করিম শাওন (১৭)।

খবর পেয়ে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের বিপরীত দিকে তমা সেন্টারের পাশের গলির ৭৯/১ নম্বর বাড়ির পাঁচতলায় বাসা থেকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহ করে সিআইডি ও র‌্যাবের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মা-ছেলের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এরপর নিহতদের লাশ রাখা হয় বারডেমের হিমঘরে। বিদেশ থেকে দুই ছেলে মুন্না ও অনিক ঢাকায় আসার পর আজ রোববার গ্রামের বাড়িতে মা-ছেলের লাশ দাফন করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতেই নিহত শামসুন্নাহারের ভাই আশরাফ আলী খোকন বাদি হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় নিহতের স্বামী আব্দুল করিম ও তার তৃতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী শারমিন আক্তার মুক্তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এরপর গত শনিবার ভোরে গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর এক আত্মীয়ের বাসা থেকে র‌্যাব গ্রেফতার করে মামালার তিন নম্বর আসামি আল-আমিন জনিকে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫