ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

অর্থনীতি

গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ২০:০৬


প্রিন্ট

রাজধানীর গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য এখনো চলছে। যাত্রীরা বাস-মিনিবাসে সিটিং সার্ভিসের নামে হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পিকআওয়ারে দরজা বন্ধ করে বাস চলাচলের কারণে মাঝপথের যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। একই দূরত্বে একেক বাসে একেক হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আবার গাড়ির গায়ে সিটিং সার্ভিস লিখে সরকার নিধার্রিত ভাড়ার দ্বিগুণ, তিনগুণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাঁচগুণ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। পাশাপাশি বাদুর ঝোলা করে যাত্রীও বহন করা হচ্ছে। একদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, অন্যদিকে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, তথা এইসব সিটিং সার্ভিসে দাঁড়িয়ে যাত্রী বহনের কারণে যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের সাথে প্রায়ই বশচা, হাতাহাতি-মারামারির ঘটনা লেগেই আছে। কিছুদিন যাত্রীরা প্রতিবাদ করলেও প্রশাসন, মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, বিআরটিএ বা পুলিশ কারো কোনো সহযোগিতা না পেয়ে এক সময় এই নৈরাজ্যর কাছে যাত্রীরা আত্বসমর্পন করতে বাধ্য হচ্ছে।

আজ রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত ‘সিটিং সার্ভিসের নামে নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা এসব অভিযোগ করেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বিআরটিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান, ডিটিসিএ’র সাবেক নিবার্হী পরিচালক ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম তালুকদার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।

আইয়ুবুর রহমান বলেন, বিআরটিএ’র আইনে সিটিং সার্ভিস বলতে কিছুই নেই। মালিকরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এইসব বিষয় আবিষ্কার করেছে। ভাড়া নির্ধারণে যাত্রী স্বার্থ প্রধান্য দিতে হবে।

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের জিডিবির ৩৭ শতাংশ ঢাকা থেকে উৎপাদিত হয়, অথচ ঢাকা যানবাহনের গতি দিনদিন কমছে এই কারণে জাতীয় উন্নয়ন ব্যাহত হবে। তাই গণপরিবহনকে প্রাধান্য দিতে হবে। সিটিং সার্ভিস ও লোকাল সার্ভিস উভয়ের নৈরাজ্য ও হয়রানী বন্ধ না হলে ব্যক্তিগত গাড়ি বাড়তে থাকবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকার কর্তৃক বাস ও মিনিবাসে ভাড়া নির্ধারণ করা আছে। ঢাকা মহানগরীতে বাস ভাড়া (ব-সিরিজ) প্রতি কিলোমিটার ১.৭০ টাকা ও মিনিবাস ভাড়া (জ-সিরিজ) প্রতি কিলোমিটার ১.৬০ টাকা। সর্বনিম্ম ভাড়া ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত বড় বাসে ৭ টাকা, মিনিবাসে ৫ টাকা হলেও নগরীতে চলাচলরত ৯৬ শতাংশ বাস-মিনিবাস অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের সাথে জড়িত। তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়া বা সর্বনিম্ম ভাড়া কিছুই মানেন না। নামমাত্র কিছু বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা থাকলেও তা অনুসরণ করা হয় না। বিভিন্ন বাস কোম্পানি কর্তৃক তাদের পরিবহনের জন্য কোম্পানি কর্তৃক প্রণীত ভিন্ন ভিন্ন ভাড়ার চার্ট অনুসরণ করে ভাড়া আদায় করা হয়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫