ঢাকা, মঙ্গলবার,১২ ডিসেম্বর ২০১৭

অপরাধ

অপহরণের পর শিশু তাওসিফকে আটকে রাখা হয় কুনিপাড়ায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১৯:২৬


প্রিন্ট

শিশু তাওসিফকে পুলিশ প্লাজা শপিংমল থেকে বাসায় পৌঁছে দেয়ার করা বলে অপহরণ করা হয়েছিল। এরপর তাকে মধ্যে কুনিপাড়ার একটি বাসায় আটকে রেখে পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা বলে জানিয়েছে গোয়েন্দারা।

জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোমিন আহমেদ তার স্ত্রী নাজমুন আক্তার ও শিশু তাওসিফুর রাহিমকে (৬) নিয়ে পুলিশ প্লাজায় কেনাকাটা করতে যান। এসময় হঠাৎ করেই বাবা-মা’র চোখের আড়াল হয়ে যায় তাওসিফ। বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তাওসিফকে না পেয়ে শপিং মলের পুলিশকে জানান তারা। কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলশান থানা পুলিশ শপিংমলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জানতে পারেন এক যুবক শিশুটির সাথে কথা বলছে। এরপর গত শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগ ও গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের গুলশান জোনাল টিম যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে অপহৃত শিশুকে উদ্ধারসহ তিন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত অপহরণকারীরা হলো- রুবেল রানা, শিপন শেখ ও সাগর।

পুলিশ জানায়, অপহরণকারীরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের সাথে আর কারা জড়িত সেটাও খুঁজে বের করা হবে।

আজ রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি শেখ নাজমুল আলম।

তিনি বলেন, অপহরণের পর শিশু তাওসিফকে অপহরণকারীরা মধ্য কুনিপাড়ায় একটি বাসায় আটকে রাখে। শিশুটি বাবার মোবাইল নম্বর মুখস্থ করে রেখেছিল। তার থেকেই নম্বর পেয়ে অপহরণকারীরা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাইতে মোমিন আহম্মেদের সাথে যোগাযোগ করে। শিশুটির মেধা অপহরণকারীদের গ্রেফতারে সহায়তা করেছে।

পুলিশ কর্মকর্তা শেখ নাজমুল আলম বলেন, অপহরণকারীরা শনিবার ভোর চারটার দিকে র‌্যাংগস ফ্লাইওভারের নিচে মুক্তিপণের জন্য আসে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আগে থেকেই ছদ্মবেশে তেজগাঁও-বিজয় সরণি ক্রসিংয়ের আশে পাশে অবস্থান নেন। তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গোয়েন্দারা এগিয়ে গেলে একটি প্রাইভেটকার থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি করে পালিয়ে যেতে চায় অপহরণকারীরা। পুলিশ নিজেদের আত্মরক্ষার্থে পাঁচ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে অপহরণকারী দলের একজন গাড়ি থেকে নিচে পড়ে যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল রানা জানায়, শিশু তাওসিফ হাতিলঝিল সংলগ্ন মধ্য কুনিপাড়ার একটি বাসায় আরো দু’জন অপহরণকারীর হেফাজতে রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা দল ওই বাড়িতে গিয়ে অপর দুই অপহরণকারীসহ তাওসিফকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।

অপহরণকারী চক্রের অপর সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার গোলাম সাকলায়েন অল্পের জন্য গুলিবিদ্ধ না হলেও গুরুতর আহত হন বলেও জানান শেখ নাজমুল আলম।

আজ পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে শিশু তাওসিফের বাবা মোহাম্মদ মোমিন আহমেদ সন্তানসহ উপস্থিত হয়ে পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫