ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

অর্থনীতি

সুবিধাবঞ্চিতদের কল্যাণে সম্পদশালীদের এগিয়ে আসার আহবান রাষ্ট্রপতির

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

০৪ নভেম্বর ২০১৭,শনিবার, ২০:০০


প্রিন্ট
রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ (ফাইল ফটো)

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ (ফাইল ফটো)

ওয়াকফের মতো বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিতদের কল্যাণে সম্পদশালীদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।

একই সাথে তিনি ব্যাংক এবং অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কাজের অংশ হিসেবে এ ধরণের অধিকতর কর্মসূচি গ্রহণেরও আহ্বান জানান।

আজ শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘রিভাইভাল অব ওয়াকফ ফর সোসিও ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কর্মশালা উদ্বোধনের সময় তিনি এ আহ্বান জানান। আইডিবি গ্রুপের ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালায় বাংলাদেশ, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, সৌদিআরব, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে গবেষক, পন্ডিত ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ইকোনোমিস্ট ড. খলিফা মোহাম্মদ আলী।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স ইউনিভার্সিটির ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. কবির হাসান।

স্বাগত বক্তব্য দেন সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান নিয়াজ রহিম।

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ প্রধান অতিথির ভাষণের শুরুতে স্বাধীনতা অর্জনে লাখো শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণকে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্যচিত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় আমরা গর্ববোধ করি। বক্তব্যটি মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী ভিশনকে এগিয়ে নিতে সরকার সম্ভাবনাময় সম্পদগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

তিনি আরো বলেন, ইসলামী আর্থিক ব্যবস্থায় ইসলামী ব্যাংকিং, ইসলামী মাইক্রো ফাইন্যান্স, যাকাত, ওয়াকফ, সাদাকা, কর্জে হাসানার মতো বিষয়গুলো সমাজের আর্থিক অন্তর্ভূক্তিমূলক কার্যক্রমকে নিশ্চিত করতে টেকসই উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক উদ্দেশ্যকে সুন্দরভাবে সম্পৃক্ত করেছে।

স্বল্প সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য দূর করতে তিনি সবার প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান।

ওয়াকফের মতো বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিতদের কল্যাণ সাধনে তিনি সম্পদশালীদের এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরো বলেন, ওয়াকফ ব্যবস্থাটি দারিদ্র্য দূর করে সামাজিক নিরাপত্তাবলয় নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগ এবং এসডিজি অর্জনকে সহজতর করবে। তিনি ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কাজের অংশ হিসেবে এ ধরণের অধিকতর কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির বলেন, অনেকগুলো ইসলামী ব্যাংক ক্যাশ ওয়াকফ ব্যবস্থাপনা করছে যেখানে কয়েক হাজার আমানতকারী তাদের অর্থ জমা রেখেছেন। আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছি। তিনি ধনী ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে যাকাত ও ওয়াকফ ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এ ধরণের কর্মসূচি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আরাস্তু খান বলেন, সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা কর্মসূচির সাথে মিল রেখেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ওয়াকফ একটি শক্তিশালী আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি যার দারিদ্র বিমোচন, আর্থিক ন্যায়বিচার ও সুষম বণ্টনের সক্ষমতা রয়েছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫