ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

রাজনীতিতে মিসির আলী

মিনা ফারাহ

০৪ নভেম্বর ২০১৭,শনিবার, ১৮:১৪ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০১৭,রবিবার, ১৪:১৭


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রিন্ট

যে পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আয়োজন হচ্ছে, বেগম জিয়া ক্ষমতায় যেতে পারবেন বলে মনে করা যায় না। সুষমাদের বার্তা পরিষ্কার, ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন হবে। কৌশলে আবারো বর্তমান দলকেই ক্ষমতায় রেখে এই দফায় এরশাদের সিটে খালেদাকে বসিয়ে ৫ জানুয়ারিকে ‘শুদ্ধ’ করবে হয়তো। অন্যথায় হামলা-মামলায় জর্জরিত নেত্রীর গন্তব্যস্থল কোথায়, সবাই জানে। রহস্যমানব মিসির আলীতে যাওয়ার আগে নোবেলপ্রাপ্ত গেম থিওরির উদাহরণটি প্রাসঙ্গিক। 

গাড়ি চুরির অপরাধে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর পুলিশের মনে হলো, এরা ব্যাংক ডাকাতির সাথেও যুক্ত। দুইজনকে আলাদা কক্ষে নিয়ে বলল- ১) ব্যাংক ডাকাতি এবং গাড়ি চুরির অপরাধ স্বীকার করলে তিন বছরের কারাদণ্ড। ২) একজন যদি ব্যাংক ডাকাতি স্বীকার করে, তাকে এক বছরের কারাদণ্ড। যে করল না, তাকে ১০ বছর।

দুইজনের জন্যই নিরাপদ, ব্যাংক ডাকাতির কথা অস্বীকার করে গাড়ি চুরির জন্য দুই বছরের সাজা। যেহেতু উভয়ের স্বীকারোক্তি গোপন, অন্যজনের ভয়ে এমন কিছু বলল, যে জন্য উভয় চোরের ১০ বছরের কারাদণ্ড হলো। দরকষাকষির জন্য পররাষ্ট্রনীতিতে গেম থিওরির ব্যবহার অনিবার্য। উদাহরণস্বরূপ, স্টকের ঊর্ধ্বগতি দেখে লোভের বশবর্তী হয়ে না বুঝেই শেয়ার কেনার এক মাস পর মূল্য অর্ধেকে নেমে গেলে কেঁদেকেটে বলবে, সর্বনাশ! কেন কিনেছিলাম?’ বিশেষ করে ‘মার্জিন ঋণ’ নিয়ে স্টক কিনলে ক্রেতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্টক বিক্রি করার ক্ষমতা রাখে লগ্নিদানকারী প্রতিষ্ঠান। এর নাম ‘মার্জিন কল।’ আর এই কলেই আটকে আছে দুই নেত্রীর রাজনীতি। যখন ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা স্টক কিনছে, বিক্রি করছে ‘মিসির আলী প্রভাবিত’ পররাষ্ট্রনীতি।

প্রণব বাবুর বহুলালোচিত বই থেকে- ‘তখন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ... ক্ষমতায় গেলে তাকে বরখাস্ত করতে পারেন শেখ হাসিনা, এ নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্ব নিলাম। হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর, ওই জেনারেলকে পদে টিকিয়ে রাখার নিশ্চয়তা দিলাম... বেশ কয়েক বছর পর, জেনারেল মইনের যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার পথ সহজ করে দেই, তখন তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ...শেখ হাসিনা (আমার) ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধু। ....২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচন হলো, সেই নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজয়ী হলেন শেখ হাসিনা।’ কাকুর স্বীকারোক্তি, নির্বাচনের আগেই জানতেন, কারা ক্ষমতায় যাবেন!

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই মিসির আলীর জন্য হয়তো কোনো হুমায়ুন আহমেদ সৃষ্টি হবেন না, কিন্তু রাজনীতিতে মার্জিন কলের প্রভাব থাকবে অন্তত ৫০ বছর। তার লেখাতেই প্রমাণ, আমাদের রাজনীতি কেন আমাদের হাতে নেই আর। কাদের ইশারায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটার পর একটা ধ্বংস করছেন ক্ষমতাসীনেরা। দফায় দফায় হেভিওয়েট রাজনীতিবিদদের ঢাকা সফর এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো ২০১৯-এর নির্বাচন নিয়ে আর সন্দেহ থাকবে কেন? অক্টোবরেই তিন হেভিওয়েট নেতার সফর। মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন, বাংলাদেশ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হলো?

‘ক্ষমতার জন্য আওয়ামী লীগকেই বেছে নিয়েছে দিল্লি’- ৫ জানুয়ারির আগে মার্জিন কলারদের এই বক্তব্যের পর পরবর্তী টার্গেট ২০১৯। শুধু ১৯৯১-এর নির্বাচন বাদে হয়তো অন্য কোনো নির্বাচনই আমাদের হাতে ছিল না। প্রটোকল ভেঙে ২০১৭ সালে দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির কিচেনে আগামী নির্বাচনগুলোর সর্ষে ইলিশ পাকিয়ে কাকা-ভাতিজির ভোজের খবর মিডিয়ায়। প্রশ্ন, আমাদের রাজনীতি কেন মিসির আলীদের কিচেনে?

সাউথ ব্লকের অবস্থান বুঝতে আওয়ামীপন্থী পত্রিকায় স্বদেশ রায়ের লেখাটিই যথেষ্ট। ‘...তারেক রহমানকে তারা কখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায় না। ...তারেক রহমানকে চালায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর লোকজন। ...দিল্লির নীতিনির্ধারকেরা খুব ভালোভাবে জানেন, বিএনপির কোনোভাবেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর হাত থেকে বের হয়ে আসার উপায় নেই। ...খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গেলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেই আইএসআই ও আইএস মিলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার হুমকিস্থলে পরিণত করবে। ...জঙ্গিমুক্ত সাউথ এশিয়ার জন্য শেখ হাসিনাই একমাত্র অনিবার্য নেত্রী। ...বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত ও আমেরিকা কারো পক্ষেই বেগম জিয়াকে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই সিগন্যাল দিয়ে গেলেন বিএনপিকে সুষমা স্বরাজ। ...শেখ হাসিনার মতো নেতা পাওয়ার পরে ভারতের জন্য বিকল্প কোনো কিছু চিন্তা করার সুযোগ নেই; সেটা আবারো প্রমাণিত হলো সুষমা স্বরাজের সফরের মধ্য দিয়ে।’

বার্তা পরিষ্কার, বিএনপি জোট ‘সন্ত্রাসীনির্ভর’। ক্ষমতায় থাকবেন হাসিনাই। কতটুকু সতর্ক বিএনপি?

২.
যখন এক সপ্তাহ আগের ঘটনাই মনে রাখতে পারছে না, চার বছর আগের ঘটনা মনে রাখবে কেন? খালেদার উচিত, ৫ জানুয়ারির ঘটনা বারবার মনে করিয়ে দেয়া। অন্যথায় আগামী পাঁচ বছর বিএনপির জন্য হতে পারে ক্রেমলিন-কিউবার মতো ভয়ঙ্কর, যেখানে বিরোধী দলের মাথায় বন্দুক। সুজাতা সিংয়ের হস্তক্ষেপে তখন যা ঘটেছিল, অধিকাংশই ভুলে যাওয়ার কারণ, ক্রাইসিস ঢাকতে ক্রাইসিস সৃষ্টি করে স্মৃতিশক্তিতে ধ্বংস নামিয়েছে।

এরশাদকে বাধ্য করতে সেদিন বলেছিলেন সুজাতা সিং- ‘নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে আপনাকে আসতেই হবে। আপনি না এলে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় যাবে এবং জামায়াতের উত্থান হবে। আপনি কি তাই চান?’

২৬ ঘণ্টা আত্মগোপনে থাকার পর গণমাধ্যমে সব খবর ফাঁস করে দেয়া এরশাদকে র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়, জোরজবরদস্তি করে সিএমএইচে নিয়ে ‘গওহর রিজভী থেরাপি’। ২০১৯-কে কেন্দ্র করে আবারো হেভিওয়েটদের উৎকট ভূমিকায় নিরপেক্ষ নির্বাচনের ‘গায়েবানা জানাজা’ নিশ্চিত হতে পারে।

প্রচণ্ড কৌতূহল, নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধানে থাকার রহস্য কী? না থাকলে কী হবে? নির্দিষ্ট একজনকেই কেন সরকারপ্রধানে থাকতে হবে? তাকেই সরকারপ্রধান রাখতে মিসির আলী প্রভাবিত বিদেশমন্ত্রীর সায় কেন? ক্ষমতাসীনেরা যা চান তা সবাই জানে। কিন্তু প্রশ্নগুলোর জবাব পেতেই হবে। ২৫ অক্টোবর, মানবজমিন- ‘মেসেজ লাউড, নট ক্লিয়ার।’ আর্টিকেলে উল্লিখিত সুষমার দুই বার্তা- ১) ভারত বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায়। ২) অন্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও তেমন হলে ভারতের আপত্তি নেই।

২৬ অক্টোবর, মানবজমিন- ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে হ্যাঁ, সহায়ক সরকারে না।’ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে বিএনপির আপত্তিকে কেন্দ্র করে সুষমার বার্তা- ‘দিল্লির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, এমন কোনো কনসেপ্ট ভারতের রাজনীতিতে নেই। ভারতে নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন, সে সময়ও সরকার থাকে, তারা রুটিন কাজের বাইরে কিছু করতে পারে না।’ সুষমা বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকারে হাসিনাই থাকছেন। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনে খালেদার অংশ নেয়া উচিত।

বক্তব্যটি নিয়ে মিডিয়ায় ভিন্ন বিশ্লেষণ থাকলেও মেসেজ ক্লিয়ার- ‘হাসিনার অধীনেই নির্বাচনে খালেদা থাকছেন।’

সাবেক সিইসি বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফের বক্তব্যে সব প্রশ্নের উত্তর : ‘সরকারি কর্মচারীদের দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’ নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে সরকারের সব রকম প্রভাবমুক্ত হওয়ার পরামর্শ ইসিকে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সেনা মোতায়েন করবেন না, সহায়ক সরকার করতে দেবেন না, সংসদও বহাল থাকবে, তাহলে নির্বাচন করার দরকার কী?’

দুই মাস ধরে ইসিকে মেজরিটির বক্তব্যের সারমর্ম : সরকারি কর্মচারীদের দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। অর্থাৎ এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। তা সত্ত্বেও তালগাছটা আওয়ামী লীগেরই। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এই দফায় উভয় পক্ষের গেম থিওরিতে কিছুটা পরিবর্তন। যেমন এরশাদের জায়গায় এবার খালেদা। যেকোনো উপায়ে তাকে সংসদে এনে ক্ষমতাকে বৈধ করতে চারটি কারণ। ১) ৫ জানুয়ারির অবৈধ পার্লামেন্ট নিয়ে পশ্চিমাদের দারুণ অস্বস্তি। ২) পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল যে, নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে দিলে এমনকি হাইকমান্ডের নিজের সিটেও ধস। ৩) ষোড়শ সংশোধনীর রায় অনুযায়ী, চার বছর কোনো বৈধ সরকার নেই। ৪) এ কারণে যে ধরনের অস্থিরতা বিরাজমান, তাতে খালেদার জনপ্রিয়তার ঊর্ধ্বগতিতে পড়শি দেশে ঘুম হারাম।

সেটা রুখতেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকেই নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার বার্তা খালেদাকে দিয়ে গেলেন সুষমা। আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ রক্ষায় চীনের বিরুদ্ধে ভারতকে শক্তিশালী করছে পশ্চিমারা। আমাদের নির্বাচন এরই শিকার।
খালেদাকে বিরোধী দলে বসাতে এবার পশ্চিমাদের চাপের আরো কারণ- ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের নিষ্পত্তি কিছুতেই হতে দেবে না। অনেকে মনে করেন, সিনহাকে জোরপূর্বক বিদেশে না পাঠালে সংসদ ভেঙে দেয়া হতো। নওয়াজ শরিফকে বরখাস্ত করার রেফারেন্স ওই রায়ে, যা ক্ষমতাসীনদের হৃৎপিণ্ডে রক্ত ঝরাচ্ছিল। সুতরাং ‘ক্যান্সার রোগী’ বানিয়ে সিনহাকে প্রবাস প্রেরণে বিরাজমান অস্থিরতার মধ্যে নির্বাচন হতে পারে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তা হতে দিলে পুঁজিবাদীদের স্বার্থে বড় ধরনের আঘাত আসবে। অবৈধ সরকার জোরজবরদস্তি নির্বাচন দিলে সেই সরকারও বৈধতা পাবে না। অবৈধ বিধায় নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধানে থাকার বিধানও আসতে হবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে। সুতরাং কোনো ঝুঁকিই বিনিয়োগকারীরা নেবেন না। উভয় সঙ্কটে বিনিয়োগ, বিনিয়োগকারী এবং মার্জিন কল।

৩.
এই ঘটনায় আরো যা প্রাসঙ্গিক। মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্প-রাশিয়া কানেকশন নিয়ে তদন্ত চলছে। বিরোধী নেতা হত্যার দায়ে ভুট্টোর ফাঁসি। ভোট চুরির দায়ে ইন্দিরার জেল। আবার তদন্ত দূরে থাক, ৫ জানুয়ারির হোতারাই চার বছর ক্ষমতায়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাধা দিলে শাস্তি পেতে হয়। গণতন্ত্রের সংজ্ঞা এক এবং প্রয়োগও এক। তা সত্য হলে ট্রাম্প-রাশিয়া তদন্তের মতোই ৫ জানুয়ারিরও তদন্তসাপেক্ষে বিচার এবং দোষীদের শাস্তি হওয়া জরুরি। অন্যথায় আগামী দিনে ভুয়া নির্বাচন আবার হবে। গণতন্ত্রের মড়কও কেউ থামাতে পারবে না।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্পেশাল প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে ক্যাপিটল হিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। কিন্তু ‘সিনহা বানানো’র ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতে নেই, বরং স্পেশাল প্রসিকিউটরের হাতে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাই এখন টালমাটাল।’ প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করে ট্রাম্প ক্যাম্পেইনের দুই হেভিওয়েটকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করলেন প্রসিকিউটর। অতীতেও নিক্সনকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল কংগ্রেস। ‘বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘সিনহা’ বানানোর ক্ষমতা তারও ছিল না, যেমন ছিল না নওয়াজ শরিফেরও। সুতরাং আরো বড় অপরাধে ৫ জানুয়ারি ব্যতিক্রম কেন?’ তখন আমাদের নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিল দিল্লি।

ভোটের বাক্সে হস্তক্ষেপ করেনি ক্রেমলিন। শুধু নির্বাচনী আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলেছিল। নির্বাচন আমাদের, মাথাব্যথা কাদের? যে ধরনের হস্তক্ষেপ দিল্লির, ভারতীয়দের হলে সহ্য করত কি না! বিএনপি জোটকে নির্বাচন থেকে নির্মূল করতে যা করা হলো, জোটের একটি দলকে যেভাবে স্বদেশে নির্বাসিত করল, উদ্দেশ্য কি এখনো পরিষ্কার নয়? আমাদের দুর্বলতা, আমরা পুঁজিবাজারের স্টকের মতো মার্জিনে কেনা। দরপতনের সুযোগ দেখলেই বেচে দেয়।

সুতরাং ট্রাম্প-রাশিয়া কানেকশনের বিচারপ্রক্রিয়াটি আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। শুধু তারপরই নিরপেক্ষ নির্বাচন। অতএব মিসির আলীদের মার্জিন কলের রাজনীতি থেকে দ্রুত আরোগ্য লাভ, গণতন্ত্রের ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য জরুরি। এত বড় অন্যায় করেও কেউ বছরের পর বছর ক্ষমতায় থাকতে পারে এবং অপরাধীদের শাস্তি হয় না- এই দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে নেই।

২০৪১ পেরিয়ে ক্ষমতার কার্ড আওয়ামী লীগের সিন্দুকে। ভোট কারো প্রিভিলেজ নয়, বরং সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকারকেই মিসির আলীরা নিজেদের প্রিভিলেজ বানিয়ে গণতন্ত্রকে বানিয়েছে মার্জিন কল। তারপরও স্বপ্ন দেখি।

সুষমাদের আশা হয়তো পূর্ণ হবে। সব দলের অংশগ্রহণেই নির্বাচন হবে। এই দফায় এরশাদকে মূল্যহীন করে তার জায়গায় বসানো হবে বিএনপিকে। কারণ বর্তমানে যারা ক্ষমতায়, সে দল বৈধ না করলে খালেদার জনপ্রিয়তায় বিনিয়োগকারীরা অস্বস্তিতে। নিরপেক্ষ নির্বাচন মানেই ক্ষমতাসীনদের হোয়াইটওয়াশ। এমনকি হাইকমান্ডের সিটেও ধস। মিসির আলীদের মার্জিন কল থেকে বেরোনোর শক্তি বিএনপির আছে কি? সুতরাং নির্বাচনে যাবে এবং হারবে।

সংসদের বাইরে থাকায় বিএনপিকে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন বানিয়েছে সাউথপন্থীরা। এই ডাস্টবিনের নাম জিয়া পরিবার, যেখানে সারাক্ষণ নিজেদের কলঙ্ক ফেলে ক্ষমতাসীনেরা। বিরোধী নেতার সিটে বসলে ডাস্টবিনের হিসাবে পরিবর্তন আসতে বাধ্য। প্রয়োজন গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সেই সুযোগ ফিরবে। তখন ১-১১ থেকে আজ অবধি মিসির আলীদের যত নৈরাজ্য, প্রতিটি ইস্যুর ওপর সাংবিধানিক আন্দোলনের অধিকার ফিরবে। ওয়াকআউট এবং সংসদ বর্জনের গণতান্ত্রিক অধিকার দিয়ে দাবি আদায়ের সীমাহীন সুযোগ। এভাবেই ’৯০-এর ঐতিহাসিক আন্দোলনের প্রত্যাবর্তনে মধ্যবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তন সম্ভব।’
তবে মনে করি, এর কোনোটারই প্রয়োজন হবে না।

ই-মেইল: farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫