ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

আগডুম বাগডুম

হলদে পাখির ছানা

হোসেন মোতালেব

০৪ নভেম্বর ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

প্রতিদিনের মতো আজো অতি ভোরে ঘুম ভেঙে যায় আদিলের। তবে আজকের ঘুম ভাঙার কারণটা একটু ব্যতিক্রম। প্রতিদিন মা তাকে জানিয়ে দেন অতি প্রত্যুষে নামাজ পড়ার জন্য। আদিলও লক্ষ্মী ছেলের মতো ঘুম থেকে জেগে অজু করে সোজা মসজিদে চলে যায়। নামাজ শেষে প্রতিদিনই সে মক্তবে পড়ে বাসায় ফিরে। আর এ জন্য সে মায়ের আদরও পায় ঢের। কিন্তু আজ ঘুম ভাঙলেও মায়ের ডাকে কোনো সাড়া দেয় না সে। কারণ সারা রাত ভালো ঘুম হয়নি ওর। হবেই বা কেন, কয়েক দিন ধরে ওর মনটা গিয়ে আছে বাড়ির উঠানের ছোট্ট লিচুগাছে। না, পাকা টসটসে লিচু ধরে আছে ঝোপা ঝোপা এ জন্য নয়। বরং ওই গাছের ঘন পাতার ঝুপড়ির নিচে হলদে পাখির বাসা, যা ওর মনকে ব্যাকুল করে রেখেছে। সব সময় সে মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে হলদে পাখির বাসায় নজর দেবেই। ক’টি ডিম, কখন ডিমে তা দেয় আর কখনই বা ছানা তুলে এ নিয়ে ওর কৌতূহলের শেষ নেই। দেখতে দেখতে কয়েক দিন পার হলো। দুপুরবেলা গুটি গুটি শব্দহীন পায়ে যায় বাসার কাছে। বাসায় তখন মা পাখিটা ছিল না। অতি সন্তর্পণে সে একটি ডালের ওপর ভর দিয়ে দেখতে পেল দু’টি ফুটফুটে ছানা হা করে মুখ নাড়াচাড়া করছে। মনে হলো কী যেন খেতে চায়। আদিলের আনন্দ আর ধরে না। সে সারা রাত একটুও ঘুমায়নি। রাতে সে মনে মনে একটি ফন্দি আঁটল। ভোরে মা তাকে ডাকলেও সায় দেবে না। দিলেও বলবে আমার শরীরটা ভালো না বলে মাকে ফাঁকি দেবে অন্তত আজকের দিন।
সারা দিন আজ মন ভরে পাখির ছানা দু’টিকে দেখবে। মা পাখিটা কেমন করে খাবার খাওয়ায়, কিভাবে ছানাগুলোকে ওড়াতে শেখায় প্রভৃতি বিষয় ওর মনে আনাগোনা করতে থাকে। এমনি করে বিকেল হয়ে গেল, অনিক স্কুল থেকে ফিরে সোজা চলে গেল আদিলের কক্ষে। ওরা দুই ভাই মানিকজোড়। যেন একজনকে ছাড়া অন্য জন দম ফেলতে পারে না। অনিক খাটের নিচে একটি বাঁশের খাঁচা দেখতে পায়। খাঁচা কিসের জন্য জানতে চায় অনিক। ততক্ষণে আদিল জড়সড়। কিন্তু কারণ না বলে উপায় নেই ওর। অনিক নাছোড়বান্দা তাই সে হলদে পাখির ছানার সব ঘটনা খুলে বলল। সাথে মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাখির ছানা পালনের অভিপ্রায়ও ব্যক্ত করল সে। কিন্তু অনিক বলল, শোন আদিলÑ মা আমাদেরকে যেমনিভাবে আদর করে, স্নেহ করে, তেমনি এই পাখিটাও তার ছানা দুটোকে বড্ড আদর করে। কতটা আদর করে তা বোঝানো যেত, যদি জ্বর মাপার যন্ত্রের মতো আদর মাপার কোনো যন্ত্র থাকত। কিন্তু নাছোড়বান্দা আদিলকে কিছুতেই বোঝানো যাচ্ছে না, ভীষণ চিন্তায় পড়ল সে। নানা কৌশল খুঁজতে শুরু করল। অবশেষে তার মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। আদিল মক্তবের ওস্তাদকে খুব ভয় পায়। পাশাপাশি ওস্তাদের আদেশ ও উপদেশকে সে অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। এক দিন ওস্তাদ সবার নাম বলে নামের অর্থ শিখিয়ে দেয়।
আদিলকেও বলে দেয় তোমার নামের অর্থ হলো ন্যায়বিচার। মানে কারো ওপর বেইনসাফি না করা, কারো ওপর অত্যাচার না করা, বনের পাখি আবদ্ধ না রাখা। কথাগুলো মনে করিয়ে দিয়ে অনিক বলল, তুই যদি পাখির ছানাগুলোকে খাঁচায় আবদ্ধ রাখিস তাহলে তোর নামের অর্থের কলঙ্ক হবে এবং ওস্তাদের উপদেশ অমান্য হবে। আর ওস্তাদ যদি শুনতে পান তাহলে তো কথাই নেই। এতে আদিলের চেতনা ফিরে আসে। অনিকের কথামতো আদিল পাখির ছানা দুটোকে উড়িয়ে দেয় আর ফুরুত করে ছানা দুটো মা পাখির আশ্রয়ে চলে যায়। আর মনের আনন্দে মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়ায়।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫