ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

আগডুম বাগডুম

মাহির ব্যাংক

রুমান হাফিজ  

০৪ নভেম্বর ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

আজ খুব খুশি লাগছে মাহির। কারণ মাহির আব্বু তার জন্য বাজার থেকে টাকা জমা রাখার একটা ব্যাংক নিয়ে আসবেন। মাহির বড় আপুরও টাকা জমা রাখার ব্যাংক আছে। বড় আপু যখন মাহির কাছে গর্ব করে বলে, আমার টাকা রাখার ব্যাংক আছে, ব্যাংকে আমার অনেক টাকা আছে। আরো কিছু দিন পর আমি ব্যাংক খুলব। দেখবি আমার কত টাকা। আমি এই টাকা দিয়ে কত কিছু কিনব, খাবো। এসব শুনে মাহির ইচ্ছা জাগে তারও যদি একটা টাকা জমা রাখার ব্যাংক থাকত, তাহলে সেও তার ব্যাংকে টাকা জমা করত। আর আপুর মতো টাকা জমা করে একসাথে তা দিয়ে কত কিছুই না করত। আপুর ব্যাংক থাকায় তাকে আম্মু ও বড় চাচ্চু টাকা দেন ব্যাংকে জমা রাখতে। আমারও যদি থাকত তাহলে আমাকেও তো টাকা দিতেন। মাহি এবার দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে,আর তার বড় আপু ক্লাস ফাইভে পড়ে। মাহি মনে মনে ঠিক করে আজ আব্বু অফিস থেকে বাসায় ফিরলে তার জন্য একটা ব্যাংক কিনে দেয়ার কথা বলবে। আব্বু অবশ্যই তার কথা রাখবেন। মাহিকে তার আব্বু অনেক আদর করেন।
যেই ভাবা সেই কাজ। অফিস থেকে বাসায় ফিরলে আব্বুর কাছে সে তার জন্য টাকা জমা রাখার একটা ব্যাংক কিনে দেয়ার কথা জানায়। ছেলের সুন্দর এই আবদার শুনে তার আব্বু সাথে সাথেই সম্মতি দিলেন। ‘হ্যাঁ আব্বু, কালই অফিস থেকে আসার সময় তোমার জন্য সুন্দর একটা ব্যাংক নিয়ে আসব।’ আর হ্যাঁ, ব্যাংকে কিন্তু নিয়মিত টাকা রাখতে হবে, কেমন। মাহি তখন চিন্তায় পড়ে গেল, নিয়মিত সে কিভাবে টাকা রাখবে? ‘কেন আব্বু, এই যে তোমার বড় আপু যেভাবে প্রতিদিন টিফিনের টাকা থেকে কিছু বাঁচিয়ে রাখে তার ব্যাংকে জমা করতে। তুমি কি সেভাবে পারবে না আব্বু? হ্যাঁ আব্বু, অবশ্যই পারব। হাসিমুখে বলল মাহি।
আজ মাহির জন্য ব্যাংক নিয়ে এসেছেন তার আব্বু। বাসার সবাই দেখতে এলেন। কাঁঠাল আকৃতির মাটির (কারুকাজ খচিত) এ ব্যাংকটি দেখতেও খুব চমৎকার লাগছে। মাহির আব্বু তার পকেট থেকে ভাংতি কিছু টাকা মাহির ব্যাংকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন। সাথে সাথে আম্মু, বড় আপু ও চাচ্চু তারাও কিছু টাকা মাহির ব্যাংকে রাখলেন। মাহি তখন খুশিতে হাততালি দিতে লাগল।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫