ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

আগডুম বাগডুম

দানব মাছ হুডউইংকার সানফিশ

মো: আবদুস সালিম  

০৪ নভেম্বর ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

তোমরা হয়তো সানফিশের কথা শুনেছ। এরা এক ধরনের মাছ। এদেরকে ‘হুডউইংকার সানফিশ’ও বলা হয়ে থাকে। মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘মোলা টেকটা’। ওশান সানফিশ নামে বেশি পরিচিত এই মাছ। এদের একেকটির ওজন অনেক সময় দুই টনেরও বেশি হয়ে থাকে; যে কারণে অনেক সময় এই মাছকে দানব মাছও বলা হয়ে থাকে।
শুনলে অবাক হবে, এই মাছ পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী হাড়ের বলে পরিচিত। মানুষের চোখে এরা খুবই কম পড়ে। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এই মাছের নতুন এক প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন। এমন ঘটনা ঘটল প্রায় ১৩০ বছর পর। এর ওজন এক হাজার ৮০০ কেজির বেশি। আর লম্বায় প্রায় তিন মিটার। যেখানে মানুষ বা অন্য জলজ প্রাণীরা যায় না বলা যায়, এমন নিরাপদ জায়গায়ই এদের বাস। যে কারণে এদেরকে ‘ধোঁকাবাজ’ মাছও বলা হয়ে থাকে। আর এই কারণেই এই মাছকে সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না।
সম্প্রতি এই প্রজাতির মাছের ডিএনএ’র সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা। তার পর থেকেই এর পেছনে উঠেপড়ে লাগেন তারা। এর নেতৃত্ব দেন অস্ট্রেলিয়ার ‘মারডক ইউনিভার্সিটির গবেষক মেরিয়ানে নাইগার্দে।
গবেষকরা জানান, তারা গবেষণা চালান প্রায় দেড় শ’ প্রজাতির সানফিশের ডিএনএ নমুনা নিয়ে। তার মধ্যে রয়েছে প্রায় চার প্রজাতির সানফিশ। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ধরা পড়ে তিন প্রজাতির সানফিশ। সন্ধান না পাওয়াটির খোঁজ শুরু হয়। এ ছাড়াও প্রচুর সানফিশের ছবি খোঁজা হয় ইন্টারনেটে।
আর তখনই তারা জানতে পারেন, কয়েকটি সানফিশ ভেসে এসেছে নিউজিল্যান্ডের একটি উপকূলে। আর তখনই তারা চলে যান সেখানে। এটি ২০১৪ সালের ঘটনা। দেরি না করে মাছগুলো সচক্ষে দেখতে যান রাতের অন্ধকারেই। গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়েই আলো তৈরি করা হয় তা দেখতে। ওই আলোতে চোখে পড়ে কিছু সানফিশ। তবে সেগুলো তেমন বড় ছিল না। এ কারণে তাদের মনে সন্দেহ জাগে এগুলো সানফিশ, নাকি অন্য কোনো মাছ; যে কারণে আরো ওশান সানফিশের নমুনা তারা সংগ্রহ করতে থাকেন। পরে নিশ্চিত হন, ১৩০ বছর পর সেটি ধরা পড়ল, সেটিই সবচেয়ে বড় আকৃতির ওশান সানফিশ। ওশান সানফিশ পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী হাড়ের মাছ বলে এর ওজনও বেশি। এ কারণে এ মাছকে বনি ফিশও বলা হয়ে থাকে। এ মাছ বেশি চলাচল করে উষ্ণ বা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পানিতে। তবে ছোট অবস্থায় এরা বেশি শিকার হয় তিমির মতো বড় প্রাণী দিয়ে। যে কারণে রীতিমতো সঙ্কটের মুখে পড়েছে ওশান সানফিশেরা। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ওশান সানফিশ সম্বন্ধে আমরা যা জেনেছি, তা খুব বেশি না। এর আরো ব্যাপক গবেষণা দরকার। তাহলেই এর আরো বিস্তারিত জানা যাবে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫