ঢাকা, রবিবার,১৭ ডিসেম্বর ২০১৭

আগডুম বাগডুম

আগডুম বাগডুম কবিতা

০৪ নভেম্বর ২০১৭,শনিবার, ০০:০০


প্রিন্ট

হেমন্ত আজ
ইকবাল কবীর মোহন

হেমন্ত আজ তাই পড়েছে
পাড়ায় পাড়ায় সাড়া
নতুন হাওয়া আনল ডেকে
দিন যে নজরকাড়া।
মাঠে মাঠে ধান পেকেছে
চাষির মুখে হাসি
নীল আকাশে ভেসে বেড়ায়
মেঘ যে রাশি রাশি।
পাখি করে ডাকাডাকি
জারুল পাতার ফাঁকে
খোকন সোনা মুগ্ধ হয়ে
কেমন চেয়ে থাকে।
শীত গরমের মধুর আবেশ
মন যে উদাস করে
হেমন্ত আজ স্বপ্ন জাগায়
সবার ঘরে ঘরে।

আমার দেশ
সৈয়দ মাশহুদুল হক

আমার দেশের সবুজ-শ্যামল
চোখজুড়ানো ছবি
দূর মাঠের শেষ সীমানায়
ভোরের রাঙা রবি
দুচোখ মেলে যে-ই দেখে
সে-ই সাজে কবি।

মাঠে মাঠে সবুজ ফসল
বাতাসে ঢেউ খেলে
সেই মাঠেই সোনালি ধান
আশার পাখা মেলে
সে ধান কেটে কৃষাণ হাসে
অভাব দূরে ফেলে।

পাখির কুজন পলে পলে
বাহারি ফুল বনে
মৌমাছিরা ব্যস্ত থাকে
মধু আহরণে
চোখধাঁধানো এমন দৃশ্যে
নাচন ধরে মনে।

আঁকাবাঁকা নদী চলে
জল নিয়ে তার বুকে
আকাশ থেকে মেঘ বালিকা
বৃষ্টি ফেলে ফুঁকে
অপরূপ এই রূপের খ্যাতি
সবার মুখে মুখে।

জারি সারি ভাটিয়ালি
রাখাল বাজায় বাঁশি
হরেক রকম ফলে ভরা
অনেক বারোমাসি
প্রাণের চে’ দেশকে অধিক
তাই তো ভালোবাসি।

পেঁচা
আবদুস সালাম

মুখ চ্যাপটা আর মাথা বড়
সম্মুখে দুই চোখ
পেঁচার শ্রবণ শক্তি প্রখর
শিকার পানে ঝোঁক।

অন্ধকারে শিকার ধরে
নখ ও ঠোঁট ব্যাঁকা
নিশাচর প্রজাতি এরা
আঁধারে যায় দ্যাখা।

শিকার খোঁজার জন্য আছে
চঞ্চু-নখে পালক
ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় পিছে
ভয় পেয়ে যায় বালক।

শব্দ দ্বারা হয় চালিত
দূরবদ্ধ তার দৃষ্টি
নানান ডাকের নানান পেঁচার
নামকরণের সৃষ্টি।

বাসা বাঁধে পুরান দালান
গাছ-পাথরের গর্তে
চেষ্টা করেও যায় না পারা
পেঁচা পাখি ধরতে।


যায় না মোটেও ভোলা
সোহেল রানা

ছয় ঋতুর এই বাংলাদেশে
গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ এসে
দেয় যে মনে দোলা-
হেমন্ত শীত বসন্তকে
যায় না মোটেও ভোলা।

আম কাঁঠালের গ্রীষ্ম শেষে
ঝমঝমাঝম বৃষ্টি এসে
মন করে উতলা-
শরতের ওই কাশফুল, মেঘ
যায় না মোটেও ভোলা।

পাকা ধানের শীষে করে
ঋতুর মেয়ে এসে ঘরে
ভরে চাষির গোলা-
শীত সকালের রোদের পরশ
যায় না মোটেও ভোলা।

হিম শীতলের পাখায় চেপে
মৃদু হাওয়ায় কেঁপে কেঁপে
আকাশ করে ঘোলা-
নতুন পাতা, ফুলের বেশে
বসন্তকাল আসলে দেশে
যায় না মোটেও ভোলা।

হেমন্তের গান
মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ্ কায়সার

পাকা ধানের গন্ধে আহা
মন যে কেমন করে,
পাখি ডাকা ভোরের আলোয়
হিম কুয়াশা ঝরে।

হাওয়ায় দোলে সোনালি ধান
কৃষাণী গায় হেমন্ত গান

ঘরে ঘরে পিঠাপুলির
খাওয়ার পড়ে ধুম,
গাঁও গেরামে এই ঋতুটা
আনন্দ মৌসুম।

নবান্নের উৎসবে
শাহজাহান মোহাম্মদ

হেমন্তকাল এলো বলে
উড়–উড়– মন
ফুল পাখির কোলাহলে
মুখরিত বন।
পাকা ধানের ঘ্রাণে ঘ্রাণে
কৃষকের মাঠ
গোধূলি বেলার টানে
শোর খেয়াঘাট।
কৃষাণীর চোখে মুখে
স্বর্ণালি রূপ
রাখালের বাঁশিটাও
নেই যেন চুপ।
জোসনার আলো ছুঁয়ে
উঠান ভরা ধান
ঝিঁঝি পোকা ধমে ধমে
গায় মধুর গান।
শিউলির ভেজা ঠোঁটে
শিশিরের তান
নবান্নের উৎসবে
পিঠা পুলির ঘ্রাণ।

কুলোয় নাচে ধান
শরীফ সাথী

হেমন্তের এই স্বর্ণ ঋতু খুবই দামি,
ধানের ঘ্রাণে মাতোয়ারা হলাম আমি।
দুই চোখ মেলে চেয়ে দেখি
অপরূপার দৃশ্য একি
উঠোনভর্তি ধান,
ধান ঝাড়ায়ের শব্দে কৃষক
গায়ছে সুখে গান।
তারই পাশে আনন্দেতে কৃষাণ বধূ
নয়নভরা চাওয়া সাথে হাসি মধু
হাতের কুলোয় নাচা ধানের ছন্দ সুর,
শুনে আমার হয়ে গেল মন্দ দূর।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫