ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

তুরস্ক

ইসলামের সাথে সন্ত্রাসবাদ শব্দ জুড়ে দিয়ে মুসলমানদের অপমান করছে পাশ্চাত্য: তুরস্ক

পার্সটুডে

০৩ নভেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ১৭:৫৯


প্রিন্ট
ইসলামের সাথে সন্ত্রাসবাদ শব্দ জুড়ে দিয়ে মুসলমানদের অপমান করছে পাশ্চাত্য: তুরস্ক

ইসলামের সাথে সন্ত্রাসবাদ শব্দ জুড়ে দিয়ে মুসলমানদের অপমান করছে পাশ্চাত্য: তুরস্ক

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিন আলী ইলদিরিম বলেছেন, ইসলামের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ শব্দ জুড়ে দেওয়ার মাধ্যমে মুসলমানদের অপমান করা হচ্ছে। পাশ্চাত্যের দেশগুলো এ কাজ করছে। এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে তাদেরকে সরে আসতে হবে।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৃহস্পতিবার এক ভাষণে তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার বিষযে দ্বিমুখী নীতি অনুসরণের মাধ্যমে পাশ্চাত্য ভুল করছে। এ বিষয়টি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে তাদের দুর্বল অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয়।

তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ আমরা চাই পাশ্চাত্য দ্বিমুখী নীতি বাদ দিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। যেসব দেশ ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়াচ্ছে সেসব দেশকেও একদিন মুসলমানদের ভালোবাসা ও ন্যায়কামিতার মুখাপেক্ষী হতে হবে।’

পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ইসলাম বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার কারণে সেখানকার মুসলমানরা এখন নানা ধরনের সমস্যা সম্মুখীন হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর হামলার ঘটনা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে।

 

সামরিক সক্ষমতায় অন্যতম শক্তিধর দেশ তুরস্ক

সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বে অন্যতম শক্তিধর দেশ তুরস্ক। জনশক্তি, যুদ্ধাস্ত্র, প্রযুক্তি-প্রশিক্ষণ ও সামরিক ব্যয়সহ বিভিন্ন দিক থেকে তুর্কি সামরিক বাহিনী বিশ্বের সেরা বাহিনীগুলোর একটি। ১৯৫২ সাল থেকেই দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য। ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৪১৫ জন সামরিক জনশক্তি নিয়ে বিশ্বে আট নাম্বারে রয়েছে তুরস্ক। রিজার্ভ সদস্য এক লাখ ৭৮ হাজার ৭০০ জন। আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যসংখ্যা তিন লাখ ৬০ হাজার।

দেশটির সামরিক বাহিনীতে ৩৭৭৮টি ট্যাংক, ১০২০টি উড়োজাহাজ, আর্মারড ফাইটিং ভেহিকেল (এএফভি) ৭ হাজার ৫৫০টি, স্বচালিত কামান (এসপিজি) ১ হাজার ১৩টি, ভ্রাম্যমাণ কামান (টিএ) ৬৯৭টি, বহুমুখী রকেট ব্যবস্থা (এমএলআরএস) ৮১১টি এবং ১৩টি সাবমেরিন রয়েছে। সামরিক খাতে দেশটি বার্ষিক ১৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে।

দেশটির ২০১৬ সালের সামরিক বাজেট ছিল ১ হাজার ৮১৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। সামরিক বাহিনীর সদর দফতার রাজধানী আঙ্কারায়। ‘তুর্কি স্থলবাহিনী’ নামে পরিচিত দেশটির সেনাবাহিনী। প্রধানত চারটি ডিভিশন রয়েছে তুরস্কের সেনাবাহিনীর ফার্স্ট আর্মি (ইস্তাম্বুল), সেকেন্ড আর্মি (মালাতায়া), থার্ড আর্মি (ইরজিনকান) ও আজিয়ান আর্মি (ইজমির)। এই ডিভিশনগুলোর অধীনে রয়েছে ১০টি কমান্ড। আর কমান্ডগুলোর অধীনে রয়েছে শতাধিক সেনা ব্রিগেড। এ ছাড়্া রয়েছে সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিমান, নৌ ও পুলিশিং ইউনিট।

বিশেষ অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০০টি এমজিএম-১৪০ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। এই ক্ষেপণাস্ত্র ১০০ মাইল দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। নিজস্ব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত আলটায় ট্যাংক যুক্ত হয়েছে তুর্কি বাহিনীতে। আছে আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল মিজরাক-ইউ। আছে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ৬০০ সাঁজোয়া যান বিএমসি কিরপি। পান্টার হুইটজার নামক অত্যাধুনিক কামান, যার পাল্লা ২৫ মাইল।

তুর্কি বিমান বাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যা ৬০ হাজার। প্রধানত পাঁচটি ডিভিশনে বিভক্ত তুর্কি বিমানবাহিনী। ফার্স্ট এয়ার ফোর্স কমান্ড (এসকিশেইর), সেকেন্ড এয়ার ফোর্স কমান্ড (দিয়ারবাকির), স্টাফ ডিভিশন কমান্ড, ট্রেনিং কমান্ড (ইজমির), লজিস্টিক কমান্ড (আঙ্কারা)। এই কমান্ডগুলোর অধীনে রয়েছে ৯টি যুদ্ধবিমান ঘাঁটি। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও ড্রোন ঘাঁটিসহ রয়েছে আরো ১১টি ঘাঁটি ও ৪১টি স্কোয়াড্রন। মোট বিমানসংখ্যা ১০০৭টি, যুদ্ধবিমান ২০৭টি, প্রশিক্ষণ বিমান ২৭৬টি, হেলিকপ্টার ৪৪৫টি, সামরিক হেলিকপ্টার ৭০টি।

তুরস্কের যুদ্ধবিমানের মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী অত্যাধুনিক এফ-১৬ ফ্যালকন। আছে ইসরাইলের তৈরী মনুষ্যবিহীন বিমান আইএআই হিরন। এর সংখ্যা দশটি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী সর্বাধুনিক প্রযুক্তির তিনটি প্রিডেটর ড্রোন রয়েছে তুরস্কের। প্রিডেটর ড্রোন শত্রুকে নিজের উপস্থিতি জানতে না দিয়েই মিসাইল হামলা করতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথভাবে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং -২ জঙ্গিবিমান উৎপাদন করছে। গোকতুর্ক-১ ও গোকতুর্ক-২ নামে দুটি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট রয়েছে তুরস্কের।

নৌবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৪৮ হাজার ৬০০ জন। এ বাহিনীর প্রধান ঘাঁটিগুলো হলো, নৌবহর কমান্ড (ফ্লিট), উত্তর সমুদ্র এলাকা কমান্ড, দক্ষিণ সমুদ্র এলাকা কমান্ড, নৌপ্রশিক্ষণ কমান্ড এবং আরো রয়েছে তিনটি বিশেষ বাহিনী কমান্ড। এই কমান্ডগুলোর অধীনে রয়েছে ১৮টি নৌঘাঁটি। তুর্কি নৌবাহিনীর যুদ্ধ সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ফ্রিগেট ১৬টি, বিশেষ রণতরী ৮টি, সাবমেরিন ১৩টি, উপকূল প্রতিরক্ষা যান ২৯টি, মাইন ব্যবস্থাপনা যান ১৫টি, হেলিকপ্টার ও বিমান মোট ৫১টি, ব্যবহৃত বন্দর ৯টি। জার্মানির তৈরি টাইপ-২০৯ সাবমেরিনগুলোর প্রত্যেকটি ১৪টি টর্পোডো বহন করতে সক্ষম। আছে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরী যুদ্ধজাহাজ।

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার ও গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ডটকম

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫