ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

রাজনীতির অশনি সঙ্কেত নাকি টার্নিং পয়েন্ট!

গোলাম মাওলা রনি

০২ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:৩৫ | আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০১৭,শুক্রবার, ০৮:৩৩


গোলাম মাওলা রনি

গোলাম মাওলা রনি

প্রিন্ট

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ করেই কেমন যেন হয় উঠেছে। কেউ বলছেন এটা রাজনীতির জন্য অশনি সঙ্কেত। আবার অনেকে বলাবলি করছেন, এটি এক ধরনের টার্নিং পয়েন্ট, অর্থাৎ ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। মূলত বেগম জিয়ার স্বদেশ প্রতাবর্তনের পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাতাস বইতে শুরু করে। লন্ডন থেকে ফেরার পর ঢাকা বিমানবন্দর থেকে তার গুলশান কার্যালয় অবধি রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে অগণিত দলীয় নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেভাবে তাকে বরণ করে নিয়েছেন, তা এক অর্থে অভূতপূর্ব এবং সাম্প্রতিক সময়ের বিরল ঘটনা। শাসকদল আওয়ামী লীগ এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা যখন বেগম খালেদা জিয়ার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিভিন্ন দিক নিয়ে চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ করছিলেন, ঠিক তখনই বিএনপি নেত্রী আরো একটি চমক দিয়ে তার প্রতিপক্ষের হিসাবের খাতাটি অনেক জটিল ও কঠিন করে দিয়েছেন।

বেগম জিয়া অনেকটা ঝড়ের গতিতে সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি কক্সবাজারে যাবেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য। সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি ২৮ অক্টোবর শনিবার ঢাকা থেকে সড়কপথে কক্সবাজার রওনা দেন বিশাল এক গাড়িবহর এবং অসংখ্য নেতাকর্মীসহকারে। তার এই যাত্রাকে উপলক্ষ করে পুরো যাত্রাপথের বিস্তীর্ণ এলাকার সুবিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা, অস্থিরতা এবং আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির সমর্থকরা বহুদিন পর তাদের নেত্রীকে পেয়ে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে পড়েন এবং নিজেদের সাধ ও সাধ্যমতো লোকজনের সমাবেশ ঘটাতে তোড়জোড় শুরু করেন। অন্য দিকে সরকার সমর্থক নেতাকর্মীরা প্রথমে বিষয়টিকে পাত্তা না দিলেও পরে যখন টের পান যে, বিরাট কিছু ঘটতে যাচ্ছে; তখন রাগে অভিমানে ফুলে ফেঁপে অস্থিরভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করেন।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ই দেশের প্রতিষ্ঠিত এবং শক্তিধর রাজনৈতিক দল। জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক কৌশলে কে কতটা বড় তা এখনো নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। কারণ স্বাধীনতার পর ৪৬ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগ চার মেয়াদে মোট সাড়ে ১৭ বছর দেশ শাসন করেছে। বর্তমান মেয়াদ পূর্ণ হলে দেশ শাসনে তাদের অভিজ্ঞতা হবে সাড়ে ১৮ বছর। অন্য দিকে বিএনপি দেশ শাসন করেছে পাঁচ মেয়াদে মোট সাড়ে ১৬ বছর। ভোটের হিসাবে দুই দলের সমর্থকদের সংখ্যাও প্রায় সমান। কেবল বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে কৌশলগত কারণ এবং সংসদীয় আসনের হিসাবে একটি দল বিজয়ী ঘোষিত হলেও পরাজিত দলের প্রাপ্ত ভোটের মোট সংখ্যার সাথে বিজয়ী দলের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান খুব বেশি হেরফের হয় না। কিন্তু এরপরও দেশবাসীকে একটি সাধারণ ফ্যালাসি সবসময় মেনে নিতে হয় এবং সেটি হলো- ক্ষমতায় যাওয়া দলটি মনে করে, তাদের প্রতিপক্ষ নেহায়েত দুর্বল, অসহায় এবং তাদের করুণাপ্রার্থী।

বিগত দিনে বিএনপি-জামায়াত জোট যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন রাজপথের বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সাথে যে ধরনের ব্যবহার করা হতো, ঠিক সেই সব ব্যবহারের সাথে আনুপাতিক হারে বর্তমানের উন্নয়নের ধারা, মূল্যস্ফীতির হার এবং আধুনিক প্রযুক্তি যোগ করে সুদে-আসলে বিএনপি-জামায়াতকে ফেরত দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে অবশ্য অতিরিক্ত পাওনা হিসেবে কিছু বোনাসও দেয়া হচ্ছে। যদিও গ্রহীতাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের বোনাসের ব্যাপারে ঘোরতর আপত্তি উত্থাপিত হয় বারবার। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের পূর্বসূরিদের মতো একই কায়দায় প্রবল আত্মবিশ্বাসী হয়ে যখন রাজনীতির ময়দানে বিএনপি নামের দলটির কোনো ভিত্তি খুঁজে পাচ্ছিল না, ঠিক তখন বিএনপি নেত্রীর আচমকা রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন এবং তার যাত্রাপথে বিপুল লোকসমাগম তাদের হতবিহ্বল করে তোলে। পত্রপত্রিকা, সামাজিক মাধ্যম এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বেগম জিয়ার যাত্রাপথে বেশ কয়েকটি বড়সড় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। অন্য দিকে তার ফেরার পথেও একই রূপ হামলা হয় ফেনীর মহিপালে। এই ঘটনায় সন্ত্রাসীরা দুটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দুটি বাসে আক্রমণ চালিয়ে বাস দুটিকে পুড়িয়ে দেয়। এসব সন্ত্রাসী হামলা সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়। অন্য দিকে সরকারি দলের লোকজন প্রচার করতে থাকেন যে, পরিবর্তিত রাজনীতিতে লাইমলাইটে আসার জন্য বিএনপি নিজেরাই নিজেদের গাড়িবহরে আক্রমণ চালিয়েছে। অন্য দিকে সাধারণ জনগণ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুনরায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে অনাহুত সঙ্ঘাত এবং সংঘর্ষের রাজনীতি শুরু হওয়ার আশঙ্কায়।

রাজনৈতিক কুটকচাল কিংবা প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার নেতিবাচক কর্মকাণ্ড করার প্রবণতা থেকেই বেগম জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। কারা করেছে এই বিতর্কে না গিয়ে বরং কেন করেছে সেটি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। এই হামলা ঘটনার প্রতিক্রিয়া কী হলো- এটা যেমন বিশ্লেষণ করা যেতে পারে, তেমনি হামলার ফলে বেগম জিয়ার যদি মারাত্মক কোনো পরিণতি হতো, তা হলে কারা লাভবান হতো। হামলা-পরবর্তী রাজনৈতিক বাগি¦তণ্ডা, পারস্পরিক অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং একটি রেকর্ড করা অডিও কলের সূত্র ধরে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক নেতাকে দায়ী করার প্রচেষ্টা কোনো শুভ ফল বয়ে আনবে না। কারণ যেকোনো মূল্যে এবং যেকোনো অবস্থায় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখা এবং বেগম জিয়ার যাত্রাপথকে অবাধ এবং নিরাপদ রাখার দায়িত্ব সরকারের। কাজেই সরকার যদি সেই দায়িত্ব পালন না করে অথবা পালনে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের পরিণতি কেমন হবে তার ভুরিভুরি উদাহরণ আমাদের দেশেই রয়েছে।

দেশের সচেতন নাগরিকসমাজ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশী গণমাধ্যমগুলো বেগম জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা ঘটনাটিকে ন্যক্কারজনক আখ্যা দিয়ে এটিকে আগামী দিনের গণতন্ত্রের পিঠে বিরাট এক ফলক বলে অভিহিত করেছে। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র অনুভূতি দেখা গেছে। কেউ কেউ এতে যেমন খুশি হয়েছেন, তেমনি অনেকে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, এ ঘটনার মাধ্যমে রাজনীতিতে একটি নতুন টার্নিং পয়েন্টের সূচনা হলো এবং দেশীয় রাজনীতির ময়দানে বিএনপির রাজনীতিতে নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনাহুত এই হামলার কারণে ব্যক্তিগতভাবে বেগম জিয়ার সাহস, দৃঢ়তা এবং স্থিরতা জাতির কাছে নতুন করে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলো।

এই সাদামাটা আলোচনা এবং ঘটনাগুলোর সহজ-সরল বর্ণনার পর এবার আমরা মূল আলোচনার দিকে এগোব। আপনি যদি আমাকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, তবে আমি বলব এটি রাজনীতির জন্য কোনো অশনি সঙ্কেতও নয় কিংবা টার্নিং পয়েন্টও নয়। কারণ, রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং তাদের সহযোগী জামায়াত বেশ হিসাব করে পা ফেলছে এবং গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে কাক্সিক্ষত গন্তব্যের দিকে। একটি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সঙ্গত কারণেই চাইবে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার জন্য চমকপ্রদ সব পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য। সে লক্ষেই তারা ধীরে সুস্থে এবং বুঝে শোনেই এগোচ্ছে।

৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়া এবং বলতে গেলে বাধাহীনভাবে প্রায় চার বছর অতিক্রম করার মধ্যে আমি সরকারের বা আওয়ামী লীগের কোনো কৃতিত্ব বা কর্তৃত্ব খুঁজে পাই না। আবার এই সময়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারা, ম্রিয়মাণ হয়ে থাকা অথবা সরকারকে অতিমাত্রায় তোয়াজ করে চলার প্রবণতা ইত্যাদিকে মারাত্মক ত্রুটি বা দোষ আখ্যা দিয়ে তা বিএনপির ওপর চাপিয়ে আমি তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতেও চাই না। আমি পুরো ঘটনাকে একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ এবং ব্যতিক্রমী সময় বলে অভিহিত করতে চাই। রাজনীতির গবেষকেরা নিশ্চয়ই ইবনে খালদুনের অমর কীর্তি আল মুকাদ্দিমা পড়েছেন। ইবনে খালদুন তার বইতে রাজনৈতিক টানাপড়েন, সময়ের বিবর্তন এবং ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষমতা লাভ নিয়ে কতগুলো চমৎকার সমীকরণ বর্ণনা করেছেন। সে মতে, ৫ জানুয়ারি-পরবর্তী সময়টি একটি অনুর্বর, অন্ধকার এবং দিশেহারা উপাখ্যানের ইতিকথা হিসেবে ইতিহাসে বর্ণিত হবে।


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যেসব নেতা গত চার বছরের বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন, তারা মূলত তা করেন হয় কোনো কিছু না জেনে, নতুবা কেবল প্রতিপক্ষ এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য। অন্য দিকে ক্ষমতার বাইরে থাকা হাপিত্যেস করা বিরোধী দলের লোকজন ইতিহাসের শিক্ষা সম্পর্কে অবহিত এবং সময়ের প্রতিশোধ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বলে আমার মনে হয় না। কারণ উভয়পক্ষেই ৫ জানুয়ারির পূর্বাপর ঘটনাগুলো নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করে নিজেদের উল্লাস বা তৃপ্তির ঢেঁকুর অথবা হতাশার দীর্ঘশ্বাস রচনা করেননি। তারা যদি একটু সতর্ক হয়ে লক্ষ করেন তবে দেখবেন, ৫ জানুয়ারি পূর্ব এবং পরবর্তী প্রায় ছয় মাসের ঘটনাপ্রবাহের ওপর কারো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কেউই সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছিলেন না যে, ঘটনার পরিণতি শেষমেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত বলা যাচ্ছিল না যে, আদৌ নির্বাচন হবে- নাকি হবে না।

৫ জানুয়ারি-পরবর্তী সময়টুকু প্রায় একই অনিশ্চয়তার মধ্যে কেটে গেছে
এবং বর্তমানেও তদ্রুপ অবস্থা চলছে। বাইরে থেকে যে যাই ভাবুন না কেন, প্রকৃত অবস্থা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্নতর। শাসকদলের অভ্যন্তরে সবসময় এক ধরনের চাপ, অস্থিরতা ও অবিশ্বাস প্রবলভাবে কাজ করে বেড়ায়। তারা তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করতে পারে না। তারা কি আগামী দিনে বিগত ৫ জানুয়ারি মার্কা একটি নির্বাচন করতে পারবে, নাকি পরিস্থিতির চাপে নতি স্বীকার করে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে বাধ্য হবে? অথবা ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন হলে সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে? অথবা না হলে পরিস্থিতি তাদের জন্য কতটা সহনীয় বা ভয়াবহ হতে পারে? শাসকদল তাদের দৈনন্দিন ক্রীড়াকর্ম, হাস্যরস, হুমকি-ধামকি ইত্যাদির পাশাপাশি উপরোল্লিখিত হিসাবের খাতা যে মেলাতে চেষ্টা করেন তা আমি দিব্যি করে বলতে পারি।

এবার বিএনপি সম্পর্কে কিছু বলি! দলটি তার সর্বশক্তি এবং সর্বোচ্চ মেধা ও মননশীলতা প্রয়োগ করে আগামী নির্বাচনী যুদ্ধে জয়লাভ এবং নির্বাচন-পূর্ব জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য দেশে এবং বিদেশে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তারা খুব ভালো করেই জানে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে আসার জন্য একদিন বা এক সপ্তাহই যথেষ্ট। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ক্ষোভ-বিক্ষোভ, মানুষের চাপাকান্না এবং না বলা কথা যেমন তারা ধারণ করার চেষ্টা করছে, তেমনি রাজনীতি নিয়ে বিদেশী চাপ-তাপের কথাও তারা মাথায় রেখেছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে-বিদেশে বিএনপির কূটনৈতিক তৎপরতা ইদানীংকালে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে। সবশেষে, তারা তাদের নেত্রীর জাতীয় ইমেজকে ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে সাড়া ফেলে দেয়ার জন্য মহাকর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। যার প্রথম পর্বের পরীক্ষা করা হলো কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের নামে আলোচ্য রোডমার্চে।


উপসংহারে আমি এ কথাই বলতে চাই, প্রতিটি ঘটনার যেমন শুরু আছে, তেমনি সমাপ্তিও রয়েছে। পৃথিবীর সব পথ, নদ-নদী, পাহাড়-সমুদ্র ইত্যাদির যেমন শুরু আছে, তেমনি শেষপ্রান্তও রয়েছে। বর্তমান অবস্থারও একদিন অবসান হবে। তবে কিভাবে তার অবসান হবে তা নির্ভর করে বর্তমানের নায়ক-নায়িকাদের কর্ম, চিন্তা-চেতনা, মন-মানসিকতা ইত্যাদির ওপর। পৃথিবীতে সময়ের চেয়ে নিষ্ঠুর মীমাংসাকারী যেমন নেই, তেমনি প্রকৃতির চেয়ে নির্মম প্রতিরোধ গ্রহণকারীও নেই। মানুষ যখন তার কর্মফলের মাধ্যমে সময়কে এলোমেলো, অনিয়ন্ত্রিত ও কুয়াশাচ্ছন্ন করে দেয়, তখন তা ঠিক করার জন্য প্রকৃতি এগিয়ে আসে ভয়াবহ প্রতিশোধের বার্তা নিয়ে। আকাশে মেঘ জমলে যেমন বৃষ্টির আগমন টের পাওয়া যায়, অথবা ঝড়ের আগে বাতাসের বেগ দেখে যেমন অনুমান করা যায় ঝড়ের তাণ্ডব সম্পর্কে, তেমনি মানুষের অনাসৃষ্টির কারণে ধেয়ে আসা প্রকৃতির প্রতিশোধের অনেক নমুনা প্রকাশিত হয়ে যায় প্রকৃতিগতভাবেই, যাকে আমরা অশনি সঙ্কেত বলে থাকি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫