ঢাকা, বুধবার,১৭ জানুয়ারি ২০১৮

উপসম্পাদকীয়

অপরাধীদের প্রণোদনা

জসিম উদ্দিন

০১ নভেম্বর ২০১৭,বুধবার, ১৭:১৭ | আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৪:৩৯


জসিম উদ্দিন

জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট

আওয়ামী লীগ সরকারের দুই টার্মই আদালত অঙ্গন সবচেয়ে মুখর রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাওয়ার ইন্ডিকেটর এটি নয়। বিচারপ্রার্থীরা বেশি করে আদালত প্রাঙ্গণে আসছেন বিষয়টি এমন নয়, বরং এই সময়ে নাগরিকদের অনেকে বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন। অনেকে রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থা নিয়ে নিরাশ বোধ করেন। তারা বাধ্য না হলে বিচারব্যবস্থাকে এড়িয়ে চলেন। সরকার নিজেই অনেক কিছুকে আদালতে নিয়ে হাজির করেছে এবং করছে। একটার পর একটা ইস্যু এমনভাবে এসেছে সবসময় সরকার জয় পেয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকায় সরকার উৎফুল্ল হয়ে নিজেদের মতো করে দেশ শাসন করেছে। বিচারকদের সাথে চলতি সরকারের সম্পর্ক অত্যন্ত সম্মানজনক বলে ওপর থেকে দৃশ্যমান হয়েছে। পছন্দ মতো বিচারক নিয়োগ পদোন্নতি পোস্টিং চলেছে। ক্ষমতার শেষের দিকে এসে বিচার বিভাগের অভিভাবক প্রধান বিচারপতির সাথে সরকারের দৃষ্টিকটু ঝগড়াঝাটির হিসেব মেলাতে পারছেন না অনেকে। 

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কথা জনগণ জানতে পারল। অথচ এই বিচারপতি দারুণভাবে সরকারের সাথে মানিয়ে কাজ করেছেন বা সরকার তার সাথে দারুণভাবে মানিয়ে কাজ করেছে। শেষে প্রধান বিচারপতি ও সরকারের মধ্যে এমন কী ঘটল একে অপরের চোখে দুশমন হয়ে গেল। এই প্রশ্নটির উত্তর মানুষ খুঁজতে চাইবে। এখানে রহস্য রয়েছে ক্লু রয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য। এই প্রথম এমন একটি ইস্যু হাজির হলো যেটাতে সরকার আর খুশি হতে পারেনি। তবে সব কিছু ছাপিয়ে যাওয়া ইস্যুটি হলো মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক নাগরিকের বাংলাদেশে প্রবেশ। এই ইস্যু অবশ্য গণহত্যা ধর্ষণ জাতিগত নির্মূলের খবর হিসেবে সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। জাতীয় অনৈক্য ও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কারণে বিষয়টিকে সরকার কাজে লাগাতে পারেনি। ফলে বাইরের শক্তি দরিদ্র মিয়ানমার বাংলাদেশ সরকারের ওপর লিড নিয়েছে। অন্যায়-অবিচার করেও মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে।

জাতিসঙ্ঘ অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পরে অভিমান করে বলেছেন, ‘ষোলো কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে আমরা কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে খাওয়াতে পারবো না কেন। তাদের সাথে আমরা খাওয়ার ভাগ করে খাবো।’ যদিও বিশ্বাসীরা রিজিকের ব্যাপারটি ওপর থেকে বণ্টিত হয় বলে মনে করে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আছে। এমন কি খোদ তাদের শত্রুরাষ্ট্র রাশিয়া ট্রাম্পের পক্ষে কারচুপিতে সহায়তা করেছে বলে কেলেঙ্কারি আছে। তবে তিনি বাংলাদেশে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ব্যাপারে জানেন কি না, আমরা জানি না। ট্রাম্প সম্ভবত নিজেকে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে গণ্য করছেন। অন্য দিকে অর্ধেকের বেশি সংসদীয় আসনের প্রতিনিধি জনগণের ভোট ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশে। অন্য আসনগুলোতেও দেখা গেছে, জনগণ ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত হয়নি। ফলে একতরফা প্রায় বিনা ভোটে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার কায়েম হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার মতো জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসেননি। ঠিক এ দৃষ্টিকোণ থেকে ট্রাম্প তার আহ্বানে হয়তো সাড়া দেননি।

অপহরণের সোনালি মওসুম
রাষ্ট্র নিজে যদি অপহরণকারী সেজে বসে সেখানে একই কাজ অনেকের জন্য সহজ হয়ে যায়। রাষ্ট্র মূলত কিছুই করতে পারে না, কারণ তার নিজের কোনো হাত-পা নেই। যারা এর পরিচালনার দায়িত্ব নেন, তারা প্রায় সব কিছু পারেন। তারা চাইলে সবার কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গও করতে পারেন। বাংলাদেশের সরকারগুলো উল্টো দিকে যাত্রা করেছে। এখানে একের পর এক যেন কেবল জনবিচ্ছিন্নরা ক্ষমতা গ্রহণ করছে। অন্তত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে খুন গুম অপহরণের যতগুলো অভিযোগ আছে, তা এ কথার প্রমাণ দেয়। সরকার যদি জনগণের সেবক হতো তাহলে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত হতো। সত্যিকার অর্থে সরকারি বাহিনী নিষ্পাপ হলে তদন্তে তা বেরিয়ে আসত। এর পরের পদক্ষেপ হতো প্রকৃতপক্ষে কারা জনগণকে অপহরণ গুম খুন করছে তা শনাক্ত করা। এসব যেহেতু কমছে না বরং বেড়ে চলেছে তখন সরকার ও তার বাহিনী কেউ অভিযোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।

অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের কিছু ঘটনা উদঘাটিত হচ্ছে। তাতে বোঝা যাচ্ছে এমন অপরাধের সাথে নতুন করে অনেকে জড়িয়ে পড়ছে। এর মূল কারণ হলো এমন অপরাধ করা সহজ হয়ে গেছে। এ থেকে বিনা পুঁজিতে অনেক বেশি আয় করা যায়! অনেকে তাই অপহরণচক্র গঠন করছে। সাম্প্রতিক উদঘাটিত কয়েকটা ঘটনায় এ প্রমাণ মিলছে। অন্য দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নৈতিক মনোবল কমে গেছে। নিজেরা অভিযোগের মধ্য থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার প্রেরণা জোরালোভাবে তারা পাচ্ছে না। কোনো একজন অপরাধী বিচারের আওতায় আসবে কি না সেটা পুরোপুরি নির্ভর করে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও সম্পর্ক থেকে। সাধারণত সরকারি দলের কেউ অপরাধ করলে তার ক্ষেত্রে বিচার এক ধরনের। অনেক ক্ষেত্রে তার অপরাধের কোনো ধরনের বিচার হয় না। বিচারের প্রসঙ্গটি এখন শুধু সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যদি তারা অপরাধ করে। তবে তারাও যদি অপরাধ করে রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে পারে সে অনেক সময় দায়মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে।

আগস্টের শেষ সপ্তাহে রাজধানী থেকে ছয়জন নিখোঁজ হন। এর মধ্যে একজন ফিরে এলেও বাকিদের কোনো হদিস নেই। এরা একেবারে সাধারণ মানুষ নন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ সাদাত, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আমিনুর রহমান, বেলারুশের অনারারি কনসাল অনিরুদ্ধ রায়, কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইশরাক আহমেদ ও ঢাকা ওয়াসার কর্মচারী সাইদুল হক। সরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে একজন সাধারণ কর্মচারীর হাতে প্রচুর অর্থ আসার সুযোগ রয়েছে। অপহরণের শ্রেণী-বৈশিষ্ট্য থেকে বোঝা যায়, এর উদ্দেশ্য রাজনৈতিক কিংবা আর্থিক হতে পারে। কাউকে অদৃশ্য করে দিলে রাজনৈতিক ফায়দা হবে। আর কারো থেকে অর্থ আদায় করা যেতে পারে। প্রত্যেকটি ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে থানায়। এসব ঘটনা তদন্তের জন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। উদ্বিগ্ন আত্মীয়স্বজন যখন তার সাথে দেখা করছেন, তিনি একই কথা রিপিট করছেন, ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’

বাংলাদেশকে অপহরণের এই রোগে বেশি করে পেয়ে বসেছে বর্তমান সরকারে সময়ে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের ঘটনায় ‘খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না’ বলে জানিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করছেন। এই প্রশ্ন ওঠা সঙ্গত যে, রাষ্ট্রের ভেতর এতটা শক্তিশালী আর কোনো শক্তির আবির্ভাব ঘটেছে যারা দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চেয়ে চৌকস ও প্রশিক্ষিত? নিশ্চই এই ধরনের বড় অপরাধ সংগঠনের জন্য তাদের সেই প্রশিক্ষণ কৌশল এবং আনুষঙ্গিক সমর্থন রয়েছে। অন্যথায় অপহরণ গুম ও খুনের ঘটনা বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধূলি দিয়ে বছরের পর বছর অব্যাহত রাখা সম্ভব হতো না। একটি স্বাধীন দেশের জন্য এর চেয়ে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় আর কিছু হতে পারে না। দুর্ভাগ্য হচ্ছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে এ নিয়ে কোনো ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেই। বিষয়টি আরো রহস্যজনক হয়ে ওঠে যখন এই গুম খুনের ঘটনার শিকার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিরোধী রাজনৈতিক দলের লোকেরা হয়ে থাকে।

এই ধরনের অপহরণের আরেকটি ভিন্নরূপ দেখা গেল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের বেলায়। সরকারবিরোধী আন্দোলনে তিনি জোরালো ভূমিকা রাখছিলেন। হঠাৎ করে তিনি গুম হয়ে গেলেন। বেশ কিছুদিন পর তাকে পাওয়া গেল ভারতের শিলংয়ে। প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটল মামলার একজন সাক্ষী সুখরঞ্জন বালির ব্যাপারে। তাকে পাওয়া গেল একেবারে ভারতের কারাগারে। বালিকে বাংলাদেশের আদালত প্রাঙ্গণ থেকে অপহরণ করা হয়। তিনিও একটি রাজনৈতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত মামলায় সাক্ষী ছিলেন।

গুমের ঘটনা রহস্য আরো ঘনীভূত হয় তখন, যখন দেখা গেল বিশেষ ঘটনার সময় বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিরা গুম হয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ডলারের বেশি ফিলিপাইনে পাচার হয়ে যাওয়ার পর ২০১৬ সালে মার্চে তানভীর হাসান জোহা নামের একজন আইটি স্পেশালিস্ট সংবাদমাধ্যমকে জানালেন বাংলাদেশ ব্যংকের ভেতর থেকে জড়িতরা এ কাজ করেছে। এর পরপরই তিনি হাওয়া হয়ে গেলেন। অবশ্য ছয় দিন অদৃশ্য থাকার পর তিনি আপনজনদের কাছে ফিরে আসতে পেরেছিলেন।

২০০৯ সালে নতুন সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর গুম খুন ও অপহরণের নতুন লক্ষণ দেখা দেয়। প্রধানত বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণের মাধ্যমে এর সূচনা হয়। এরপর দেখা যায় পরিকল্পিত গুম। এই ক্ষেত্রে সক্ষম সম্ভাবনাময় পার্টির নেতাকর্মীরা টার্গেট হন। প্রথম শিকার হন বিএনপির ঢাকা মহানগরীর নেতা চৌধুরী আলম। ২০১০ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর থেকে এখনো তিনি নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন। ২০১২ সালে এসে দেখা গেল বিএনপির আরেক চৌকস নেতা ইলিয়াস আলি গুমের ঘটনা। জামায়াতের সাবেক নেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আজমি, বিএনপির সাবেক নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও জামায়াতের সাবেক নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে মীর আহমেদ বিন কাসেম গুম হয়ে গেলেন। এরমধ্যে হুম্মাম কাদের দীর্ঘ দিন নিরুদ্দেশ থাকার পর ফিরে এসেছেন।

২০১৬ সালে ৯০ জন গুম হন বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়। গোপন আস্থানায় দীর্ঘ দিন রাখার পর এদের বেশির ভাগকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এদের মধ্যে ২১ জন হত্যার শিকার হন, ৯ জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে কেউ জানে না। চলতি বছর প্রথম পাঁচ মাসে ৪৮টি গুমের ঘটনা ঘটেছে। মানবাধিকার সংগঠনটির পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয় নাগরিকদের আটকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক স্বাধীনতা ভোগ করে। অপরাধী দোষী না নির্দোষ এটা তারাই নির্ধারণ করছে। এমন কি শাস্তিও তারা নির্ধারণ করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সিদ্ধান্তও তারা নিচ্ছে।

খুন এখন একমাত্র সমাধান
পরকীয়া প্রেমে দিশাহারা চাচীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় কিশোরীকে প্রাণ দিতে হলো। প্রাণ হরণের নৃশংসতা ও ভয়াবহতা বাংলাদেশের মানুষের মনে অপরাধের কতটা বিকৃত রূপান্তর ঘটিয়েছে মেয়েটি যেন তারই সাক্ষী দিলো। নরসিংদীর ওই ঘটনায় চাচী বিউটি পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়েটির বিরুদ্ধে মোবাইল চুরি করার অভিযোগ আনে। এ জন্য তার কাছে দলিল প্রমাণও হাজির। কারণ, গণক তাকে জানিয়েছে দুই বোন এই চুরির কাজটি করেছে। তার মতে, আজিজার সাথে তার ছোট বোনও এই কাজে জড়িত। আজিজাকে ডেকে নিয়ে চাচী বিউটি আট দিনের আলটিমেটাম দেয়। এর মধ্যে মোবাইল হাজির না করলে তাকে হত্যা করা হবে। আজিজা এই হুমকির মর্ম বুঝতে পারেনি। কারণ, যেই মোবাইলটি সে নেয়নি সেটা কিভাবে সে ফেরত দেবে। এই অভিযোগ আরোপ ও সময় বেঁধে দেয়া যে তার মৃত্যুকে জায়েজ করার জন্য দেয়া হয়েছে শিশুটি মোটেও বুঝতে পারেনি। অপরাধ দু’জনে মিলে করলেও হত্যার টার্গেট কিন্তু একজন, যে অশ্লীল কাজটি দেখে ফেলেছে।

হত্যাকাণ্ডের কৌশলের মধ্যে কোনো ধরনের ভুল রাখা হয়নি। কিছু বোঝার আগে প্রথমেই মুখ বেঁধে ফেলা হয়। তারপর যেভাবে গরু জবাই করা হয় সেভাবে হাত-পাকে গুটিয়ে বাঁধা হয়। এরপর কেরোসিন দিয়ে চুপচুপ করে ভিজিয়ে দেয়া হয় মেয়েটির পুরো শরীর। যাতে আগুন দেয়ার সাথে সাথে পুড়তে বেশি সময় না নেয়। তাদের পরিকল্পনা শতভাগ সফল। জনপদের মাঝে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। আশপাশের মানুষ কিছু বোঝার আগেই মেয়েটির শরীরের ৯৪ শতাংশ পুড়ে যায়। বিউটি সফল হয়েছে, কারণ তার পরকীয়া প্রেমের আপত্তিকর দৃশ্যের আর সাক্ষী থাকল না অন্তত মানুষের মধ্যে কেউ। সমাজে সামান্য কারণে খুন করে ফেলার একটা রেওয়াজ দারুণভাবে চালু হয়েছে। এটা ‘উত্তম’ ও ‘নিরাপদ’ বিকল্প হিসেবে দেখছে অনেকে! সমাজের এমন ভয়াবহ রূপান্তর নিয়ে গবেষক চিন্তাবিদ ও মানবাধিকার কর্মীদের খুব একটা উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে এই নৃশংসতার আরো ভয়াবহ বিকৃতির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের কাছে আপাতত কোনো উত্তম বিকল্প দেখা যাচ্ছে না। 

jjshim146@yahoo.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫