পাতালে অভিনব গবেষণা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

জার্মানির হামবুর্গ শহরে এক অভিনব বৈজ্ঞানিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভাইরাসের কাজের ধরন ও কোষের আণবিক কাঠামোর মতো রহস্য সমাধানের আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। এই গবেষণার ফলাফল নোবেল পুরস্কারও আনতে পারে।

জার্মানির উত্তরে মাটির অনেক গভীরে রয়েছে দীর্ঘ এক সুড়ঙ্গ। হামবুর্গ শহরের নিচে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার জুড়ে এই সুড়ঙ্গের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে শক্তিশালী এক্সরে লেজার রয়েছে। এই স্থাপনার পেছনে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের এক দলের অবদান রয়েছে। তাদেরই একজন অস্ট্রেলিয়ার এড্রিয়ান মানুস্কো। তিনি বলেন, ‘‘এটাই গোটা বিশ্বের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং সেকেন্ডে সবচেয়ে বেশি পাল্স-বিশিষ্ট এক্সরে লেজার। ফলে এখানে সবরকম অভিনব বৈজ্ঞানিক সুযোগ রয়েছে। আমার দলে ২২ জন রয়েছে।’’

একটি পরীক্ষার আওতায় মানুস্কো ও তার টিম বিশেষ কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন, যেমন ভাইরাস কীভাবে কাজ করে এবং কোষের আণবিক কাঠামো কী। তাদের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আল্সহাইমারের মতো দুরারোগ্য ব্যাধির জন্য নতুন ওষুধ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।

এড্রিয়ান বলেন, ‘‘এক্সরে লেজার দিয়ে আমরা বায়োমলিকিউল দেখতে পারি, যা এর আগে কোনোভাবে সম্ভব ছিল না। অর্থাৎ নতুন ধরনের আরও প্রাসঙ্গিক বস্তু পর্যবেক্ষণ করাই আমাদের লক্ষ্য।’’

এভাবে সেটা করা সম্ভব। প্রথম ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশে এক পার্টিকেল অ্যাক্সিলারেটর গুচ্ছ গুচ্ছ ইলেকট্রনকে প্রায় আলোর গতির সমান হাই এনার্জিতে পরিণত করে। সেগুলো অসংখ্য চুম্বকের মধ্য দিয়ে ধেয়ে চলে। চুম্বক সেগুলোকে আঁকাবাঁকা পথে চলতে বাধ্য করে।

এই প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রন লেজারের মতো বিকিরণ ঘটায়। কিন্তু এ সবের উপযোগিতা কী? প্রত্যেক ফ্ল্যাশ একটি ছবি সৃষ্টি করে। সেগুলো জোড়া দিলে একটি চলচ্চিত্র সৃষ্টি হয়। সেটি ব্যবহার করে অতি দ্রুত প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলোকে কম্পিউটারে থ্রিডি সিমুলেশনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা যায়। এ ক্ষেত্রে ফ্ল্যাশের মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পের আর এক বিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান ব্রেসলার বলেন, ‘‘আগে যা সম্পূর্ণ অসম্ভব মনে হতো, এখন আমরা সেই সব পরীক্ষা করতে পারি।’’

এই প্রক্রিয়া ন্যানো প্রযুক্তি, ফটোভল্টায়িকস ও গ্রহ নিয়ে গবেষণার কাজে আরো অগ্রগতি আনতে পারে। এই কেন্দ্রের জন্য কমপক্ষে ১২০ কোটি ইউরো ব্যয় হয়েছে। জার্মানি এর অর্ধেকের বেশি বহন করছে। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এই অর্থ ভালো কাজেই ব্যয় করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানী হারাল্ড সিন বলেন, ‘‘আমরা অবশ্যই নোবেল পুরস্কারের আশা করছি। এ বছর না হলেও কয়েক বছর পর সবকিছু আরো নিখুঁত করে তোলার পর এখানে গবেষণার অসাধারণ ফলাফল পাওয়া যাবে।’’

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই স্থাপনায় কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.