ঢাকা, শনিবার,১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

পেট্রোডলার না পেট্রোইউয়ান?

আলমগীর মহিউদ্দিন

২৮ অক্টোবর ২০১৭,শনিবার, ১৯:১০ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০১৭,রবিবার, ১৬:২৫


আলমগীর মহিউদ্দিন

আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রিন্ট

ক্ষমতা ও অর্থ প্রায় সব অবস্থাকে প্রধানত প্রভাবিত করে, এমনকি নিয়ন্ত্রণও করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বিশ্বব্যবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল প্রভাব ও উপস্থিতি অনস্বীকার্য। কারণ তাদের মুদ্রা এবং ক্ষমতাকে বিশ্বের সব দেশ বিশ্বের ‘রিজার্ভ কারেন্সি’ এবং ‘ক্ষমতার মোড়ল’ হিসেবে গ্রহণ করেছে। অবশ্য এর সাথে তাদের সামরিক শক্তিকেও মনে রাখতে হবে।

এ বিষয়ে চমৎকার মন্তব্য করেছেন এক মার্কিন লেখক- ফেডারিকো পিয়ারসিনি। তিনি বলেছেন, ‘মার্কিনিদের বিশ্ব মোড়লিপনার শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস হলো তাদের মুদ্রা বা ডলার।’ তিনটি কারণে এই মুদ্রা (ডলার) বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছে। তা হলো (১) পেট্রোডলার, (২) বিশ্বের রিজার্ভ কারেন্সি হওয়া এবং (৩) ১৯৭১ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা।
পেট্রোডলার হিসেবে অভিহিত হওয়ার কারণ, তেল মূলত ডলারেই কেনাবেচা হয়। তাই বাজারে বেশির ভাগ ডলারের অবস্থান এ বাণিজ্যের কারণে হওয়ার জন্য নাম হলো পেট্রোডলার।
বিশ্বের মাত্র কয়েকটি দেশ ছাড়া সবাই তাদের সব বৈদেশিক বাণিজ্য, ডলারের মাধ্যমে করে থাকে এবং তারা দেশের রিজার্ভ হিসেবেও ডলারকে গ্রহণ করেছে।

১৯৭১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ঘোষণা করেন ‘দেশের মুদ্রার সমর্থনে (ব্যাকিং) কোনো স্বর্ণের প্রয়োজন পড়বে না। ডলার নিজেই রিজার্ভ হিসেবে অবস্থান করবে।’ এর দুই বছর পর (১৯৭৩), ওপেক (তেল রফতানিকারক ১৪টি দেশের সংস্থা), সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেল শুধু ডলারে কেনাবেচা হবে বলে এক চুক্তিও করে। সৌদি আরবের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও পৃথক চুক্তিতে বিশ্বের এই বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশকে বাধ্য করে এ ধরনের অপর একটি চুক্তি করতে। অসুন্ধানকারীরা বলেছেন, ‘এর পেছনে ছিল এক গোপন সতর্কবাণী। তা হলো, এ চুক্তি স্বাক্ষর না করলে স্বাধীনতা থাকবে না, সার্বভৌমত্ব লুণ্ঠিত হবে।’ তখন সৌদি আরবের পক্ষে অন্য মুদ্রা বা নিজের মুদ্রায় তেল কেনাবেচার পথ বন্ধ হলো। ফলে সৌদি আরবকে বিশাল পরিমাণের মার্কিন ট্রেজারি বিল কিনতে হলো। কারণ তাদের বিপুল পরিমাণের উদ্বৃত্ত ডলার বিনিয়োগের আর কোনো পথ খোলা ছিল না। ফলে রাতারাতি মার্কিন সরকারের তহবিলে জমা পড়ল বিশাল অঙ্কের ডলার। অন্য কথায় এভাবে ডলার ফিরে গেল নিজের দেশে।

ডলারকে চলমান শক্তিশালী মুদ্রা হিসেবে রাখার জন্য সৃষ্টি হলো ৪৪ সদস্যের বিশ্বের অর্থনৈতিক মোড়ল, যা আইএমএফ (ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড) নামে পরিচিত। এ সংস্থাও সৃষ্টি করে নিজস্ব মুদ্রা, যা এসডিআর (স্পেশাল ড্রইং রাইটস) বলে পরিচিত। চারটি মুদ্রা দিয়ে এটা গঠিত (ডলার, ইউরো, ইয়েন ও পাউন্ড), যার আকার হলো ২০৪ বিলিয়ন (২৮৩ বিলিয়ন ডলারের সমান)। প্রয়োজন অনুসারে সদস্যরাষ্ট্রগুলো ওই এসডিআরের সাহায্যে তাদের মুদ্রার ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। তবে এখানেও ডলারের উপস্থিতি প্রবল।

মুদ্রার সমর্থনে সোনা মজুদের প্রয়োজনের নিয়মটি রহিত করার পর কাগুজে ডলার ছাপানোর আর কোনো বাধা রইল না। আগে যে কেউ ডলারকে রাখতে না চাইলে স্বর্ণে রূপান্তরিত করতে পারত। যেহেতু কত ডলার ছাপানো হলো তার জবাবদিহিতার প্রয়োজন থাকল না, আর বিশ্ব কারেন্সি রিজার্ভের অবস্থানে থাকায় জবাবদিহিতার বিষয়টি আর্থিক জগতে খানিকটা গৌণ হয়ে পড়ল।
এখন ৪৩ বছর পর এ অবস্থায় ফাটল ধরতে শুরু করেছে বলে বিশেষজ্ঞ ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা সতর্কবাণী উচ্চারণ করছেন। ডলারের ওপর বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আস্থা শিথিল হয়ে পড়ছে। এই অবস্থা বিশ্লেষণের আগে আবার একটু পেছনে ফিরতে হবে। কারণ কোনো বিশ্বমানের মুদ্রার মৃত্যু হওয়ার জন্য একটু লম্বা সময়ের প্রয়োজন হয়। রাজনীতি, উৎপাদন, বিপণন প্রভৃতি এর সাথে জড়িত। যেমন বিংশ শতাব্দীতে এসে ব্রিটিশ পাউন্ডের পরিবর্তে ডলার আন্তর্জাতিক লেনদেনের বাহন হলো। কারণ তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে আর বাণিজ্য, উৎপাদন ও প্রযুক্তিতে মার্কিনিরা নেতৃত্বে এসেছে। ১৯১৪ সালে এসে ব্রিটেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে তখন পাউন্ডকে কেউ নিতে চাইত না। তখন শুধুই স্বর্ণের আদর ছিল। যুদ্ধাস্ত্র কিনতে ব্রিটেনকে স্বর্ণ দিতে হতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। ব্রিটেন মার্কিন ব্যাংকার রথচাইল্ড ও জ্যাক মরগানের কাছ থেকে বিরাট ধার নিতে বাধ্য হয় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য। (মরগান ইহুদি, আজকের বিশ্বের পাঁচজন ধনীর একজন, যারা বিশ্বের অর্ধেকের বেশি অর্থের অধিকারী)। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলোÑ ইহুদি মার্কিন ব্যাংকাররা এই ধার দেয়ার শর্ত হিসেবে ইসরাইল রাষ্ট্র সৃষ্টির দাবি করে এবং তা বাস্তবায়নের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী রথচাইল্ডের সব সমর্থন ব্রিটেন পায়।

যেসব দেশ মার্কিনবিরোধী তারাও মার্কিন ডলার তাদের বৈদেশিক বাণিজ্যের বাহন হিসেবে ব্যবহার করত। একটি উদাহরণ দেয়া যায়। বলিভিয়া তাদের কলা নরওয়ের কাছে বিক্রি করে ডলারের মাধ্যমে। তখন নরওয়ের কাছে ডলার থাকতে হবে। না থাকলে, তাকে ধার করে এই মূল্য দিতে হবে। আবার বলিভিয়া যে ডলার আয় করল, তা দিয়ে তাদের সব কর্মকাণ্ডে ব্যয় করত। এভাবেই পেট্রোডলার বিশ্বমুদ্রায় পরিণত হয়। তবে এর মূলে ছিল সামরিক শক্তি।

রাশিয়া এবং চীন সর্বদাই এ মার্কিন মোড়লিপনার রাশ টানার চেষ্টা করেছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অফুরন্ত ডলার ব্যয় করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কিনতে পারে। ঋণ নিতে পারে (মার্কিন সরকারের বর্তমান ঋণ ২১ ট্রিলিয়ন ডলার বা ২১ লাখ কোটি ডলার)। তাদের এই ঋণের ভার নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। কারণ বিশ্বের সব দেশই ডলার চাইছে এবং ধার নিচ্ছে তাদের তথাকথিত বৈদেশিক মুদ্রাভাণ্ডার হিসেবেও সব আন্তর্জাতিক মূল্য দেয়ার জন্য। এর সাথে বিশ্বের নানা প্রতিষ্ঠান তাদের অর্থের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবেও ডলারকে ব্যবহার করে। তবে স্মরণযোগ্য, ডলারের মূল শক্তি তেলের কেনাবেচার মাধ্যমে এবং এর সমর্থনে স্বর্ণের প্রয়োজন নেই বলে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে এবং সঙ্ঘাত সংঘটন বা নিবারণে এটা প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে।
ডলারের সমস্যা শুরু হয় ১৯৯০ সালের দিকে এক বিশাল সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে। তা হলো সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন। এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে (যারা নিজেদের অসাধারণ ও ব্যতিক্রমী একসেপশনালিভাবে) সারা বিশ্বের মোড়ল করবে বলে ভাবা হয়েছিল এবং সে নিরিখে তখন কর্মকাণ্ড চলছিল। এমনকি চীন-রাশিয়াসহ সবাই ডলারের মাধ্যমে তাদের সব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল। চীনও বিশাল অঙ্কের অর্থাৎ ১.১৭ ট্রিলিয়ন ডলারের। মার্কিন ট্রেজারি বিল কিনেছে তাদের নানা উৎপাদনের বুনিয়াদ হিসেবে। সাথে সাথে তারা কিনতে থাকল স্বর্ণ এবং গড়ে তুলল এক বিশাল ভাণ্ডার। চীন এখন ডলারের দ্বিতীয় আবাসস্থল। এ দিকে এই সুযোগকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করতে থাকল চীন-রাশিয়া-ইরানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাববলয়কে সীমিত করার জন্য।

রাশিয়ায় পুতিনের আবির্ভাবের পরে তাদের অর্থনৈতিক চাকা ঘুরল। তারা সব ডলারনির্ভর ঋণ শোধ করল তাদের জমানো ডলার দিয়ে। ঋণমুক্ত হয়ে রাশিয়া ডলারনির্ভর সব চাপকে সরিয়ে ফেলল। এমনকি রাশিয়ার বন্দরগুলোতে কোনো লেনদেন ডলারে হবে না বলে আইন জারি করল। ইরানের জন্য এটা কোনো সমস্যাই হলো না। কারণ দেশটি আগে থেকেই অনুমোদনের (স্যাংকশন) আওতায় ছিল। তারা ডলারকে পাশ কাটিয়ে অন্য মুদ্রা ও দ্রব্য বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বৈদেশিক লেনদেন করত।
এভাবে বিশ্ব রাজনৈতিক ঘটনাগুলো ধীরে ধীরে ডলারের প্রভাবের বলয়কে সঙ্কুচিত করে চলেছে। যেমন ২০০৪ এর বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট, যুগোশ্লাভিয়ার ঘটনাবলি বা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধগুলো। এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নানা সামরিক অভিযানে বিফল হয়। যেমন আফগানিস্তান, জর্জিয়া, ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, ডনবাস, উত্তর কোরিয়া, মিসর, তিউনিসিয়া, ইয়েমেন ও ভেনিজুয়েলা সম্পূর্ণ দখল বা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। এ দেশগুলোতে অবিরাম নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্যও তাদের অভিযুক্ত করা হয়। ফলে বিশ্বব্যাপী মার্কিন সামরিক ক্ষমতা সম্পর্কে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। লিবিয়ার গাদ্দাফিকে প্রাণ দিতে হয়, যখন সে ডলারের প্রভাব থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
মার্কিন বিশ্বের প্রচারেও সত্য ঢাকা যাচ্ছিল না। এ দিকে এসব সঙ্ঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে শুরু করেছে। তারা ভাবছে এবং কিছু কিছু কর্মকাণ্ড শুরু করেছে ডলারের বলয়মুক্ত হতে।

এর ফলে কিছু অস্ত্রের দৌড় যে চলছে না তা নয়। এই জটিল অবস্থায় যে বাহনটি সব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল, তা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে বলে গবেষকেরা বলছেন। তারা বলছেন, এই বাহনটি হলো ডলার, যা তেল বেচাকেনার বাহন। বিশ্বে প্রধান তেল আমদানিকারক চীন এবং রফতানিকারক প্রধান দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া, সৌদি আরব ও ভেনিজুয়েলা। এর মধ্যে ভেনিজুয়েলাতে আছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেলের রিজার্ভ। এখন রাশিয়া, চীন ও ভারতসহ প্রায় ২০টি দেশ তেল কেনাবেচার জন্য ডলারের সাথে অন্য মুদ্রা ব্যবহার শুরু করেছে। এর বহু কারণের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সুইফটস (সোসাইটি ফর দ্যা ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন যা ব্রাসেলসে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়) সিস্টেমের মাধ্যমে ইরানসহ কয়েকটি দেশের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা জারি। তবে এই কর্মকাণ্ডের ফলে চীন এবং রাশিয়া স্বর্ণের খনি এবং স্বর্ণ আহরণ জোরদার করে। এ দুটি দেশ বরাবর বলে আসছিল, তারা কোনো মুদ্রা স্বর্ণসমর্থিত (ব্যাকিং) না হলে, তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবে। ঠিক এ সময়ে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ঘোষণা করে, তাদের স্বর্ণের ভাণ্ডার শূন্যের কোঠায় এবং তারা ডলারের পরিবর্তে স্বর্ণ দেবে না।

ডলার ছাপানোর কোনো জবাবদিহিতা না থাকায় মার্কিন সরকার বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযানে বিশাল খরচ করে। গবেষকেরা বলছেন, শুধু ইরাক এবং আফগানিস্তানে দুই যুগব্যাপী সামরিক অভিযানে খরচ হয়েছে ছয় ট্রিলিয়ন ডলার। এর তুলনায় চীন ও রাশিয়ার অবস্থান পঞ্চম ও দশমে। অর্থাৎ অবাধ ডলার ব্যবহার সংঘর্ষ ও সঙ্ঘাতের কর্মকাণ্ড চালু রাখে। ডলারের ওপর শেষ ধাক্কা এসেছে ভেনিজুয়েলা থেকে। তারা ডলারে তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের জমানো ডলারের বিপরীতে স্বর্ণ চাইছে। তার সাথে যোগ দিয়েছে চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরান। বিপদে পড়েছে সৌদি আরব। কারণ সে ওয়াশিংটনের সাথে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে শুধু ডলারে তেল বিক্রি করবে। চীন সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান তেলের ক্রেতা। চীন বলছে, তেলের মূল্য তাদের মুদ্রা অর্থাৎ ইউয়ানে দেবে। তা না গ্রহণ করলে তারা তেল নাইজেরিয়া-ভেনিজুয়েলা থেকে কিনবে এবং এর মধ্যে তাদের সাথে চুক্তিও করেছে।

এ দিকে, চীন বলছেÑ তাদের মুদ্রার পরিবর্তে সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এক্সচেঞ্জ থেকে স্বর্ণ পাওয়া যাবে। এর মধ্যেই ইউয়ান দিয়ে চীন রাশিয়া থেকে গ্যাস কিনছে। উল্লেখযোগ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৭ সালে যখন ডলার সঙ্কট হয়, তখন তারা সুইস ফ্রাংক ঋণ নিয়ে ট্রেজারি বিল ছেড়েছিল। এমন ঘটনা আরো দুইবার ঘটে।

এখন চীন স্বর্ণসমর্থিত ইউয়ানে তেলের মূল্য নির্ধারণ করেছে। এটা ব্রেল্ট ও ডব্লিউটিআই পশ্চিম টেক্সাসের ইন্টারমিডিয়েট, যারা সাধারণত ৪০ বছর ধরে এ কাজটি করে আসছে। প্রতিপক্ষ বলা যায়। এখন প্রতিদিন ৪৫ মিলিয়ন (চার কোটি পঞ্চাশ লাখ) ব্যারেল তেল বিশ্বে কেনাবেচা হয়।
এর মধ্যে চীন কেনে আট মিলিয়ন (৮০ লাখ) ব্যারেল। তবে ‘বাজারের কেনাবেচা’ হিসেবে (যাকে ফিউচার ট্রেডিং বলা হয়) আরো বেশি। যেমন ডব্লিউটিআই (ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট) প্রতিদিন ১০ লাখ চুক্তি লেনদেন করে এবং ব্রেন্ট করে তার অর্র্ধেক। প্রতিটি চুক্তিতে থাকে এক হাজার ব্যারেল তেল। এ হিসাবে বিশ্বে প্রতিদিন ১৫০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল কেনাবেচার চুক্তি হয়।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি হলো ১৬.২ এবং ১৬.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। পার্থক্য খুব সামান্য। অর্থাৎ চীন দ্বিতীয় বিশ্বশক্তি। ডেইলি রেকনিং লিয়াম হালিগান মন্তব্যে বলেছেন, ‘পার্থক্যটি খুরের ধারের মতো। যেন আগামীকালকেরটা আজকেই।’

সারা বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো গভীর মনোযোগের সাথে এ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে এবং নানা ব্যবস্থাও নিচ্ছে। তিনটি প্রতিষ্ঠান আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড অরগানাইজেশনের সাথে শত শত প্রতিষ্ঠান আছে যারা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর নজর রাখে। এরা নানাভাবে শঙ্কা প্রকাশ করছে, বিশ্ব অর্থব্যবস্থার আর একটি নতুন অবয়ব আসছে এবং তার সাথে নানা রাজনৈতিক পরিবর্তন। এর চিত্র আঁকা এখনি সম্ভব নয়। তবে একটি বক্তব্য সবার মুখে মুখে। তা হলোÑ বিশ্ব কি এখন পেট্রোডলারের পরিবর্তে পেট্রোইউয়ানের জন্য প্রস্তুত? 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫