ঢাকা, মঙ্গলবার,২১ নভেম্বর ২০১৭

পাঠক গ্যালারি

গণতন্ত্রের বিপন্ন ভবিষ্যৎ

তানভীর আহমেদ

২৭ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ১৯:০২


প্রিন্ট

গণতন্ত্র একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বা শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা। মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট ডাল ও সুম্পিটার বলেছেন, গণতন্ত্র কোনো আদর্শ নয়। ১৯৯৪ সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তার স্টেট অব দ্য নেশন ভাষণে বলেছিলেন, ‘পৃথিবীতে একসময় গণতন্ত্রের আবেদনও ফুরিয়ে যেতে পারে।’ গণতন্ত্রের প্রবক্তা আব্রাহাম লিংকন বলেছেন, ‘গণমানুষের শাসনের কথা, সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের রাষ্ট্র পরিচালনার কথা। গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল অ্যান্ড ফর দ্য পিপল। বর্তমান পৃথিবীতে তথা যুক্তরাষ্ট্রে যে গণতন্ত্র চলছে তাকে ‘জেফারসনীয় গণতন্ত্র’ বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের মধ্যে উইলিয়াম জেফারসন অন্যতম। তিনি আইনের শাসন ও জবাবদিহিতার কথা বলেছেন।

আধুনিক রাষ্ট্রে জনগণ হলো মূল নিয়ামক শক্তি, জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো শাসনই বৈধ নয়, তাই গণতন্ত্রের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো জনগণ ও জনসমর্থন। জনসমর্থনবিহীন ব্যবস্থাকে ‘গণতান্ত্রিক’ বলার সুযোগ নেই।

জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য, জনমতকে উপেক্ষা করার জন্য দেশে দেশে স্বৈরশাসকেরা এবং রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য নানা ধরনের ফন্দি আঁটে, ছল-চাতুরীর আশ্রয় নেয়। সেজন্য তারা নানা কৌশল অবলম্বন করে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা নয়া গণতন্ত্র, শোষিতের গণতন্ত্র, মজলুমের গণতন্ত্র, মৌলিক গণতন্ত্র, জাতীয় গণতন্ত্র, জন গণতন্ত্রসহ বিভিন্ন স্লোগানের আড়ালে জনগণকে বিভ্রান্ত করে তাদের একদলীয় শাসন, সামরিক শাসন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের আড়ালে স্বৈরশাসন চালাতে থাকে। ভোটারবিহীন নির্বাচন, আমলা ও পুলিশনির্ভর শাসন, শোষণ ও দলীয় নিপীড়ন চালাতে থাকে। জনগণকে দমনের জন্য বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দিয়ে নিপীড়ন চালায়। বিরোধী দল ও সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করে, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শাসন চালাতে থাকে। জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে। বিচার বিভাগ, পুলিশ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, মিডিয়া ও সুশীলসমাজকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে নিপীড়নমূলক শাসন চালানো হয়। জনগণের ও সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করে। গুম, খুন, হত্যা, অপহরণ করে জনগণের কণ্ঠ রোধ করে দেশের মধ্যে চালায় ত্রাসের রাজত্ব। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়। জনগণের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে দেয়। নগদ টাকা, অস্ত্র ও পেশিশক্তির মাধ্যমে সমাজে চালু করে ভীতির সংস্কৃতি। চলে পুলিশি শাসন, নিপীড়নমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় রাষ্ট্র। সহনশীলতা, উদারনৈতিকতা, আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে সমাজ পরিণত হয় বন্য সমাজে, হিংসার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। নিপীড়নমূলক অবরুদ্ধ সমাজ ও রাষ্ট্রে মানুষ বাধ্য হয় বাস করতে। সমাজের মূল্যবোধ নীতিনৈতিকতা ধ্বংস হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠিত হয় বর্বরদের শাসন, ওদের আশফালনে সামাজিক মূল্যবোধগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।

মেকি গণতন্ত্র বা ভেজাল গণতন্ত্রের স্রোতে হারিয়ে যায় মানুষের সুকোমল অনুভূতি সুকুমারবৃত্তি। খুন, ধর্ষণ, হত্যা, নিপীড়ন, দুর্নীতি, দুঃশাসন, তস্করবৃত্তি বেড়ে যায়। মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। মানুষের কান্না, আকুতি, মিনতি শাসকদের কানে পৌঁছে না এবং সমাজ ও রাষ্ট্র অন্ধকারের দিকে ধাবিত হয়। এ সবকিছু চলে গণতন্ত্রের নামে, যদিও নির্বাচনীব্যবস্থা, সংসদ বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসন থাকে। নামকাওয়াস্তের গণতন্ত্র বা নিজেদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ‘গণতন্ত্র’ চালু করা হয়। সেটাকে বলা হয়, দেশীয় গণতন্ত্র, প্রাচ্যের গণতন্ত্র, নতুন ধাঁচের গণতন্ত্র, যা সম্পূর্ণ ইউরোপ বা ব্রিটিশ প্রভাবমুক্ত। এভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়।

অনেক দেশে গণতন্ত্রের নামে যা চলছে তা নামকাওয়াস্তে গণতন্ত্র। জেমস পেট্রাস বলেছেন, মাফিয়া গণতন্ত্র কালো টাকার মালিকেরা ও তাদের সিন্ডিকেট রাজনৈতিক দলগুলোকে ও পার্লামেন্টকে নিয়ন্ত্রণ করছে। দলগুলো অর্থের বিনিময়ে তাদের মনোনয়ন দিচ্ছে। তারাও টাকা-কড়ির মাধ্যমে মনোনয়ন নিচ্ছে, সংসদ সদস্য হচ্ছে, মন্ত্রী, এমপি হচ্ছে। বাংলাদশের ৭০ শতাংশ জনগণ বাস করে গ্রামে। ৩০ শতাংশ বাস করে শহরে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ৭৫ শতাংশ কৃষক। এদের মধ্যে ধনী কৃষক, জোতদার, প্রান্তিক কৃষক, বর্গাচাষি ও ক্ষেতমজুর রয়েছে। তারা রাজনীতি নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামায় না বলে গণতন্ত্র নিয়ে তাদের খুব একটা চিন্তাভাবনা নেই।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে আছে ছোট দোকানদার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রিকশা, ভ্যানচালক, জেলে, তাঁতি, কামার, কুমার ইত্যাদি পেশার লোক। তাদেরও গণতন্ত্র নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক, উকিল, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যবসায়ীÑ এরা রাজনীতি নিয়ে কিছুটা চিন্তাভাবনা করেন। এদের সংখ্যা খুবই কম, মাত্র ২ শতাংশের মতো হতে পারে।
শহরে জনগোষ্ঠীর মধ্যে শ্রমিক, রিকশাচালক, বস্তিবাসী, হকার, ভাসমান জনগোষ্ঠী এরা রাজনীতি নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না। তাই এদের কাছে গণতন্ত্রের খুব একটা আবেদন নেই। শহরের জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা পুরনো মধ্যবিত্ত সে গোষ্ঠীটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। নব্য মধ্যবিত্তরা তাদের সামাজিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক লাভালাভের বিষয়কে প্রাধান্য দেন। তাই তারা সরকারের পক্ষে বা স্ট্যাটাসকোর পক্ষে থাকেন, তাদের আর্থিক সুবিধাকে তারা প্রাধান্য দেন।

শহরে বুদ্ধিজীবী কলেজ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাংবাদিক আইনজীবী ডাক্তার প্রকৌশলী এরা রাজনীতি নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন। এদের একটা অংশ দেশে গণতন্ত্র নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন। সুশীলসমাজের একটা অংশ সরকারসমর্থক। সুযোগ সুবিধা ও আর্থিক বিবেচনায় তারা সরকারের পক্ষে থাকেন এবং সরকারের বিরাগভাজন হতে চান না। এনজিও সৃষ্ট এলিটগোষ্ঠী এনজিও স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং জাতীয় স্বার্থ তাদের কাছে মুখ্য নয়। এনজিওদের স্বার্থ তথা পশ্চিমাদাতা গোষ্ঠীর পক্ষে তারা কাজ করেন। সুশীলসমাজের ক্ষুদ্র একটা অংশ অবশিষ্ট থাকে, তারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেন। তবে তাদের কণ্ঠ খুবই ক্ষীণ ও দুর্বল।

এলিটগোষ্ঠী ও ধনীক শ্রেণী রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করেন, তারা গণতন্ত্র নিয়ে অত ভাবেন না। প্রচলিত শাসন ও শোষণ টিকিয়ে রাখতে তারা সচেষ্ট। এলিটদের একটা অংশ ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া চলে গেছেন। একটা অংশ পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে উন্নত দেশে পাড়ি দিতে চান অথবা ইতোমধ্যে নাগরিকত্ব নিয়ে রেখেছেন। তারা দেশে গণতন্ত্র আইনের শাসন ও মানবাধিকার নিয়ে খুব একটা ভাবেন না। এ দিকে দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি করতে গিয়ে ছাত্ররাজনীতি আবেদন হারিয়ে ফেলেছে।

জাতীয় রাজনীতিতে এখন ছাত্র রাজনীতির খুব একটা প্রভাব নেই। ১৯৯০ সালের পর ডাকসু, চাকসু, রাকসু, বাকসু, ইউকসু নির্বাচন হয়নি। সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমারেও নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়, বাংলাদেশে হয় না। তাই গণতন্ত্রের জন্য ছাত্র সমাজের আন্দোলন এখন নেই। ছাত্রদের গণতন্ত্র নিয়ে খুব একটা চিন্তাভাবনা নেই।
ছাত্র রাজনীতিন দুর্বল অবস্থানের কারণে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভাটা পড়েছে। দেশের শ্রমিক শ্রেণী বা ট্রেড ইউনিয়নগুলোর মধ্যেও গণতন্ত্র নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই। শ্রমিকেরা মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন নিয়ে ব্যস্ত। ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন এখন অর্থনীতিবাদী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। পুঁজিবাদের বিকাশের সাথে সাথে শ্রমিক আন্দোলন দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আলেম সমাজ ও ইসলামি আন্দোলনের বিরাট অংশের মধ্যে গণতন্ত্রের তেমন আবেদন নেই। তারা গণতন্ত্রকে ‘পাশ্চাত্য ধারণা’ বলে মনে করেন। গণতন্ত্রের ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী সোচ্চার হলেও যুদ্ধাপরাধ ও মৌলবাদের অভিযোগ তুলে তাদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য ইসলামি দলগুলোর মাঠে নামার তেমন সুযোগও নেই। তারা বেশি সোচ্চার হলে উগ্রবাদী, জঙ্গিবাদী ও মৌলবাদী বলে চিহ্নিত করা হবে। ঠাণ্ডা করে দেয়া হবে তাদের আন্দোলন।
আন্দোলন করার মতো অবশিষ্ট থাকে নারীসমাজ। জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। নারীদের বিরাট অংশ সংসারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। নারীদের একটা অংশ তাদের পেশা নিয়ে ব্যস্ত। তাই তাদের পক্ষে রাজপথের আন্দোলনে শামিল হওয়া সম্ভব নয়। সর্বোপরি পাশ্চাত্যের মতো আমাদের নারী সমাজ সংগঠিত নয়। উচ্চবিত্ত বা এলিট নারীসমাজের একটা অংশ সরকারের সাথে আছে। তাই নারীদের মধ্যে গণতন্ত্র নিয়ে অত চিন্তাভাবনা নেই।

বাংলাদেশে তাই মনে হয়, গণতন্ত্র দলীয় স্বৈরশাসন, একদলীয় শাসন, স্বৈরশাসন ও সামরিক শাসন চক্রাকারে চলবে। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. বদরুল আলম খান তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নয়। এখানে সামরিক শাসন, স্বৈরশাসন, দলীয় স্বৈরশাসন, এক দলীয় শাসন চক্রাকারে চলবে। ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন। বর্তমানে বিশ্বে গণতন্ত্রের যে প্রবাহ চলছে এটাকে ফোর্থ ওয়েভ বা চতুর্থ প্রবাহ বলা হয়। বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের প্রথম প্রবাহ শুরু হয় ১৮৭০ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত। সে সময় পশ্চিম গোলার্ধের অনেক দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। গণতন্ত্রের দ্বিতীয় প্রবাহ ১৯০০ সাল থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত চলে। গণতন্ত্রের তৃতীয় ঢেউ আসে ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৮০ সালের দিকে, গণতন্ত্রের চতুর্থ প্রবাহ শুরু হয় ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ২০১০ সাল পর্যন্ত। এ সময় অনেক দেশে গণতন্ত্র আসে।
যুক্তরাষ্ট্রে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ ও খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে। ফ্রান্সে ডানপন্থী উগ্র জাতীয়তা দল প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জার্মানিতে নব্য নাৎসিবাদী দলের আবির্ভাব হয়েছে। এবার নির্বাচনে তারা ১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে পার্লামেন্টে ৯৪টি আসন জিতেছে।
এ ছাড়া ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ায় ডানপন্থী উগ্রবাদী দলগুলোর উত্থান ঘটছে। ইটালি ও স্পেনেও উগ্র ডানপন্থীদের উত্থানের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। খোদ ব্রিটেনে ও ওয়েস্টমিনস্টার শাসনপদ্ধতির ওপর জনগণ বিরক্ত হয়ে উঠেছে। পৃথিবীতে আবারো ফ্যাসিবাদের দ্বিতীয় বারের মতো উত্থানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পাকিস্তানে ভঙ্গুর গণতন্ত্র, মাঝে মধ্যে সামরিক শাসন গণতন্ত্রের দুর্বলতারই প্রকাশ। বার্মা, থাইল্যান্ড, মিসর, গিনিবিসাউতে সামরিক শাসন। কেনিয়া, উগান্ডা বাংলাদেশের প্রশ্নবিদ গণতন্ত্র। ভেনিজুয়েলা ও বলিভিয়া গণতন্ত্রের দুর্দশার ইঙ্গিত দেয়। পোল্যান্ড ও রুমানিয়ার সীমিত গণতন্ত্র। তুলে ধরেছে গণতন্ত্রের সঙ্কটকে।

২০১৯ সালে বাংলাদেশে যদি আবার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ধাঁচের নির্বাচন হয়, তাহলে বাংলাদেশে কার্যত একদলীয় শাসন জেঁকে বসতে পারে। স্বৈরশাসন পাকাপোক্ত হলে গণতন্ত্র হবে সুদূর পরাহত।

আগামী নির্বাচন গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিতে পারে। এ দিকে পৃথিবী ফ্যাসিজমের দিকেই ঝুঁকে পড়ছে। উদারনৈতিক গণতন্ত্র বিদায় নিচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে পৃথিবী থেকে গণতন্ত্রের আবেদন ফুরিয়ে যেতে পারে। তাহলে গণতন্ত্রের খোলসটাই শুধু থাকবে এবং গণতন্ত্রের নামে চলবে ফ্যাসিজম।

লেখক : সাংবাদিক

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫