ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

আফ্রিকা

কেনিয়ায় নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত বাংলাদেশ এলাকা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২৭ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ১৪:২৫


প্রিন্ট
কেনিয়ায় নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত বাংলাদেশ এলাকা

কেনিয়ায় নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত বাংলাদেশ এলাকা

কেনিয়ায় পুননির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় শুক্রবার তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। দেশটির বিরোধী দল এ নির্বাচন বয়কট করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্থানে আগুন দিয়েছে বিরোধী দলীয় নেতা ওদিঙ্গার সমর্থকরা। রক্তাক্ত সংঘর্ষও হয়েছে বেশ কিছু জায়গায়। বাংলাদেশ নামক এলাকাটিতেও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

গত ৮ আগস্ট দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উহুরু কেনিয়াত্তা বিজয়ী হন। তবে ভোটে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তা বাতিল করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির নির্বাচন কমিশনের মতামতে ২৬ আগস্ট পুনরায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোট শুরু হওয়ার কিছু সময় পরই শুরু হয় ব্যাপক সংঘর্ষ।

বিকাল ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গ্রহণ শেষ করা হলেও কিছু জায়গায় তারপরও ভোট গ্রহণ করা হয়। পরে শনিবার পর্যন্ত ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

দেশটিতে ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার রয়েছে।

অনিয়মের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন বিরোধী দলীয় নেতা ওদিঙ্গা। এরপর নির্বাচনকে ঘিরে আন্দোলনের নামেন তার সমর্থকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালায় পুলিশ। শনিবার পর্যন্ত ভোট স্থগিত করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসেবে গত আগস্টে প্রথম দফা নির্বাচনের পর সৃষ্ট সহিংসতায় ৬৭ জন নিহত হয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তা দ্বিতীয় মেয়াদে আরো ৫ বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ওদিঙ্গা প্রথম দফা নির্বাচনে ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। তিনি এ নির্বাচন বয়কট করেছেন।

কেনিয়ার বাংলাদেশ এলাকা
কেনিয়ার মোম্বাসা কাউন্টির সবচেয়ে বড় বস্তির নাম বাংলাদেশ -যদিও বাংলাদেশের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র নেই। আর এই বস্তিতে বাণিজ্যিক লেনদেনের জন্য বিকল্প যে ব্যবস্থা চালু রয়েছে তার নাম বাংলা-পেসা।

গ্রাসরুটস্ ইকোনমিক্স নামে এক ওয়েবসাইটের খবর অনুযায়ী ওই বস্তির বাসিন্দারা সরকারি মুদ্রা ব্যবস্থার বাইরে বাংলা-পেসা নামে একটা বিকল্প মুদ্রা ব্যবস্থা ব্যবহার করে থাকেন, যেটা আদতে কোনো মুদ্রা নয়। এই বাংলা-পেসা গচ্ছিত রেখে তারা পণ্য কেনা বেচা করেন।

মুদ্রার মূল্যমান যেহেতু কমা-বাড়ার ঝুঁকিতে থাকে তাই এই বস্তিবাসীরা জাতীয় মুদ্রা ব্যবহার করার পাশাপাশি বাংলা-পেসা ব্যবহার করেও নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন করেন।

২০১৩ সালে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এটি ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বাণিজ্যে সাহায্য করার জন্য মুনাফা-বিহীন একটি উদ্যোগ। একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে সাহায্য করতে চালু হয়েছিল এই প্রকল্প।

সেসময় অর্থনৈতিক মন্দার বাজারে মোম্বাসার জনবহুল এই কলোনির দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে আর্থিক লেনদেনে সাহায্য করতে তৈরি হয়েছিল এই বিকল্প মুদ্রা ব্যবস্থা।

বস্তির বাসিন্দারা জার্মানিতে ছাপা কাগজের এই মুদ্রা ব্যবহার করে আসছে স্কুলের বেতন, অন্তেষ্ট্যিক্রিয়া, গির্জার চাঁদা ইত্যাদি পারিবারিক ব্যয় মেটানোর কাজেও।

এই ছাপা কাগজের ক্রেডিট নোট বিভিন্ন মূল্যমানের রয়েছে - যেমন ৫, ১০, ২০, ৪০ এবং ৫০ বাংলা-পেসা মানের।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫