ঢাকা, শুক্রবার,১৫ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

রাজনীতির সময়-অসময়ের রোগবালাই!

গোলাম মাওলা রনি

২৬ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৭:১২ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০১৭,শুক্রবার, ১৭:২৭


গোলাম মাওলা রনি

গোলাম মাওলা রনি

প্রিন্ট

ইচ্ছে ছিল, বেগম খালেদা জিয়ার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিস্তারিত লিখব। সার্বিক বিচার-বিশ্লেষণে বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, ইঙ্গিতবহ এবং চমকপ্রদ রাজনৈতিক কৌশল বলেই মনে হয়েছে। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেগম জিয়ার লন্ডন গমন এবং সেখানে সুদীর্ঘ অবস্থান রাজনীতিসংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এক ধরনের ধাঁধার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। প্রায় সবাই পরস্পরের কাছে প্রশ্ন রেখে অধীর হয়ে জিজ্ঞেস করছিলেন যে, তিনি কবে আসবেন? এক দল বলেছে- তিনি অবশ্যই আসবেন। তবে বিরাট একটি অংশ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল তার ফিরে আসার ব্যাপারে। ক্ষমতাসীন দল অবশ্য সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না যে, বেগম জিয়া ফিরে এলে তাদের বেশি লাভ হবে নাকি প্রবাসে থাকলে তাদের লাভের পরিমাণ বাড়বে! ফলে তার ফিরে আসা নিয়ে ওই দলের মুখপাত্রদের বক্তৃতা ও বিবৃতি ছিল অনেকটা অগোছালো, এলোমেলো এবং দায়সারাগোছের।

বেগম জিয়া যখন বিদেশে ছিলেন তখন অনেক ঘটনা একের পর এক ঘটতে থাকে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে জটিলতা, প্রধানমন্ত্রীর নোবেল প্রাইজপ্রাপ্তির গুজব এবং অন্যান্য গুজবে যখন আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠল, ঠিক তখনই জানা গেল- ভারতের আলোচিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সফর করবেন এবং তার আগমনের আগেই বেগম জিয়া স্বদেশে ফিরবেন। ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের পর বেগম জিয়া তার জন্য অপেক্ষমাণ লাখো মানুষের বিপুল হর্ষধ্বনির অভ্যর্থনা পেয়ে যতটা না আশ্চর্য হয়েছেন, তার চেয়েও বেশি বিস্মিত হয়েছেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা, বিশেষত যারা ধরে নিয়েছিলেন যে, বিএনপি একটি মৃতপ্রায় দল যেটি বিগত ১০ বছরের বৈরী আবহাওয়ায় প্রায় নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। পরে সুষমা স্বরাজের সাথে বেগম জিয়ার অন্তরঙ্গ পরিবেশে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক দেশীয় রাজনীতির জটিল অঙ্কে যে নতুন মাত্রার সমীকরণের আভাস দিচ্ছে তা নিয়ে বিস্তারিত লেখা প্রয়োজন। লন্ডনপ্রবাসী প্রবীণ এক সাংবাদিক বেগম জিয়ার প্রত্যাবর্তন, আগামী সংসদ নির্বাচন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে নাতিদীর্ঘ এক নিবন্ধ লিখেছেন একটি জাতীয় দৈনিকে। অন্য দিকে সরকারি দলের এক ডক্টরেট ডিগ্রিধারী নেতা বলেছেন, বহু অনুনয় বিনয় করে সুষমা স্বরাজের সাথে বিএনপি নেত্রী বৈঠকের ব্যবস্থা করেছেন।’ কিন্তু অনলাইন পোর্টাল যারা সর্বদা অদ্ভুত অসত্য খবর বানিয়ে সরকারি রাজভোগ হাসিলের চেষ্টায় মত্ত বলে অভিযোগ, তারা একের পর এক কিম্ভূতকিমাকার গুজব ছড়িয়েই যাচ্ছেন। অন্য দিকে এগুলো মোকাবেলা করার জন্য অথবা ‘সম-অপরাধী’ মনমানসিকতার কারণে কিছু সরকারবিরোধী নিউজ পোর্টালও পাল্লা দিয়ে মারাত্মক সব গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় দেশের সার্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে গল্প-গুজব ও কল্পনার ধোঁয়াশাপূর্ণ মেঘমালা, যা নিয়ে আলোচনার জন্যই এ লেখার শিরোনামের বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজনীতির চিরায়ত বিধিমতে- সময় যেমন কারো পক্ষে থাকে, তেমনি কারো কারো জন্য সময়টা ভয়ানক দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। সময়ের সুবিধাভোগী ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠী যেমন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, বিত্ত-বৈভব, মণি-কাঞ্চন শোভিত হর্ম্যমালায় বসবাস করার পাশাপাশি মদ-মত্ত ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্য দেখাতে পারে, তেমনি অতিরিক্ত সুখ ভোগের কারণে নানাবিধ রোগ-ব্যাধি, মহামারী, মড়ক এবং পক্ষাঘাতের কবলে পড়ে তারা সীমাহীন দুর্ভোগ-দুর্দশার শিকার হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। অন্য দিকে, সময়ের উল্টো স্রোতে চলা ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দল কষ্ট সহিষ্ণুতা, ধৈর্য, স্থৈর্য অর্জনের পাশাপাশি টিকে থাকার সংগ্রামের অকুতোভয় সৈনিকে পরিণত হতে পারে। তেমনি অসময়ের নিষ্ঠুর চাবুকের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে রোগ-শোক, জরা-ব্যাধি-আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি অস্তিত্ব সঙ্কটেও পড়তে পারে। আজকের আলোচনায় আমরা কেবল রাজনীতির সুসময় আর দুঃসময়ের স্রোতে ভাসমান মানুষের রোগবালাই নিয়ে আলোচনা করব- যারা নিজেরা প্রথমে রোগাক্রান্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে মহামারীরূপে সেসব রোগবালাই পুরো দেশের সাধারণ নিরপরাধ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দেয়। এই পর্যায়ে প্রথমে সুসময়ের রোগবালাই এবং শেষে দুঃসময়ের রোগবালাই নিয়ে আলোচনা করে আজকের লেখার ইতি টানব।

রাজনীতিবিদদের জীবনে সাধারণত তিন ধরনের সুসময়ের সুবাস ম-ম করতে শুরু করে। প্রথমটির নাম অর্থবিত্ত, দ্বিতীয়টির নাম ক্ষমতা ও প্রভাব- প্রতিপত্তি এবং তৃতীয়টি হলো ভোগ-বিলাস, দম্ভ, জুলুম-অত্যাচার এবং অন্যকে দমন-শোষণ-অপমান করার প্রচণ্ড দক্ষতা। রাজনীতিবিদদের অর্থ উপার্জন প্রায়ই নীতিহীন প্রকৃতির এবং অস্বচ্ছ ধরনের হয়ে থাকে। কেউ কেউ আয় করেন রীতিমতো চোর, ডাকাত এবং দাগি আসামির উপযোগী পন্থা অবলম্বন করে। টাকা আয়ের জন্য তারা প্রায়ই পদ-পদবির মর্যাদা বিসর্জন দেয়ার পাশাপাশি নিজেদের মানবিক সত্তা, আত্মমর্যাদা এবং শিক্ষাদীক্ষাকেও জলাঞ্জলি দিয়ে থাকেন। একপর্যায়ে তারা নির্লজ্জ, বেহায়া এবং অনুভূতিহীন হয়ে পড়েন। ব্যক্তি, সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের কোনো নিয়মকানুন, মায়া-মমতা, আনুগত্য, বন্ধন ইত্যাদি অর্থলোভী রাজনীতিবিদদের তাদের কুকর্ম থেকে ফেরাতে পারে না।

অবৈধ অর্থসংক্রান্ত রোগবালাইয়ের কারণে এই কথিত রাজনীতিবিদদের চোখের পর্দা উঠে যায়। অনেকে চক্ষুষ্মান হওয়া সত্ত্বেও অন্ধের মতো আচরণ করেন। একগুঁয়েমি, বুদ্ধিনাশ, শয়তানি আচরণে আসক্তি, নিকৃষ্ট মানের নোংরামি এবং বালখিল্য আচরণের মতো ‘রোগবালাই’ তাদের পেয়ে বসে। তারা ত্যাগের পরিবর্তে ভোগ, সংগ্রামের পরিবর্তে পালিয়ে যাওয়া, সত্য বলার বদলে মিথ্যাশ্রয়ী হওয়া, দিবালোকের পরিবর্তে রাতের আঁধারের আশ্রয়ী হয়ে পড়া, পরিছন্ন থাকার পরিবর্তে আবর্জনাময় দুর্গন্ধের প্রেমিক হয়ে পড়া, ইত্যাদি রোগের দ্বারা একের পর এক আক্রান্ত হতে থাকেন। তারা একসময় মারাত্মক কৃপণ হয়ে পড়েন এবং নিজেদের ধনসম্পদ লুকিয়ে ফেলার জন্য দিনরাত ফন্দিফিকির করতে গিয়ে হারিয়ে ফেলেন মানসিক ভারসাম্য।

রাজনীতিবিদদের মধ্যে দ্বিতীয় স্তরের সুবিধাভোগীরা অর্থবিত্ত লাভের পাশাপাশি ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তির মালিক হয়ে যান। এই স্তরে আক্রান্ত রোগীরা প্রথম স্তরের চেয়ে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর ও দুর্বিষহ পরিণতি ভোগ করে থাকেন। তারা ক্ষমতালোভী, দাম্ভিক, হিংসুটে এবং মানুষকে প্রকাশ্যে অপমান করার মতো রোগবালাই দ্বারা আক্রান্ত। এদের মনমানসিকতা এবং মস্তিষ্ক সর্বদা অপরকে অত্যাচার করার মাধ্যমে পৈশাচিক আনন্দ লাভের আশায় উদগ্রীব হয়ে থাকে। উত্তেজনা, অস্থিরতা, হঠাৎ হাসি, হঠাৎ কান্না, অতিকথন এবং বিনা কারণে হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়ার মতো রোগবালাই তাদের আক্রমণ করে বসে। মানুষকে মারার জন্য তাদের ইন্দ্রিয় এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সর্বদা নিশপিশ করতে থাকে। মানুষের আর্তচিৎকার, মৃত্যুকালীন আহাজারি এবং মনুষ্যরক্তের স্রোত তাদের ভয়ানকভাবে তৃপ্তি দিয়ে থাকে। ইতিহাসের চেঙ্গিস খান, হালাকু খান, তৈমুর লং, আইভান দ্য টেরিবল প্রমুখ কুখ্যাত রাজনীতিবিদ এই শ্রেণীর রোগাক্রান্ত মানুষের জ্বলন্ত উদাহরণ।

এবার তৃতীয় স্তরের রোগাক্রান্ত রাজনীতিবিদের রোগবালাই সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। এই শ্রেণীর রোগী নিজেদের অর্থ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে অবৈধ ও উচ্ছৃঙ্খল ভোগ-বিলাসে মত্ত হয়ে পড়েন। মদ-নারী, জেনা-ব্যভিচার, মাতলামি, পরনারী হরণ, অপরের সুখ-শান্তি ও গৃহসুখ তছনছ ইত্যাদি রোগবালাইয়ের কবলে পড়ে তারা বেশির ভাগ সময় অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় দুর্গন্ধযুক্ত জীবন্ত লাশের মতো জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। এই রোগীদের দু’টি বৈশিষ্ট্য থাকে। প্রথমত, তারা প্রচণ্ড রকম নাফরমান বা অবাধ্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন এবং দ্বিতীয়ত, তারা আল্লাহ-খোদা-ভগবান-ঈশ্বর কিছুই মানেন না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেকে খোদা, কিংবা কেউ খোদার প্রতিনিধি বা অবতার বলে প্রতিষ্ঠিত করার অপচেষ্টা করেন।

ভোগ ও বিলাসের কারণে তৃতীয় স্তরের রোগীরা কার্যত অক্ষম হয়ে পড়েন। তাদের বিবেক-বুদ্ধি বলতে তেমন কিছু আর অবশিষ্ট থাকে না। স্বার্থপরতা, অলসতা এবং বিকৃত রুচির অভিনব সব কলাকৌশল খোঁজার জন্য তারা বিরাট বহরের জ্ঞানী ও বিজ্ঞানীদের ভাড়া করে এনে অদ্ভুত সব কাণ্ড ঘটাতে থাকেন। তাদের মৃত্যুভয় রহিত হয়ে যায়। কিন্তু ভূতে পেয়ে বসে। এ ধরনের রোগীরা সব কিছুতেই সর্বনাশা ক্রীড়া কৌতুকের অবতারণা করে থাকেন। তারা কোনো কিছু গড়ে তোলার পরিবর্তে ধ্বংসসাধনের মধ্যে নিজের জীবনের সার্থকতা ও আনন্দ-বিনোদনের উপাদানগুলো খুঁজে বেড়ান। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের রোগবালাইয়ের সাথে তৃতীয় স্তরের ব্যাধিগুলো যুক্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট মানুষটিকে এক দুর্বোধ্য, রহস্যজনক এবং ভয়ঙ্কর প্রাণীতে পরিণত করে ফেলে। তিনি হয়ে ওঠেন হালাকু খানের মতো বিধাতার অভিশাপ অথবা হিটলারের মতো জমিনের অভিশাপ।

সুসময়ের রোগবালাই সম্পর্কে আলোচনার এই পর্যায়ে অসময় বা দুঃসময়ের রোগবালাই সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করে ইতি টানব। রাজনীতিবিদদের জীবন যখন অসময়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়, তখনো তিনটি স্তরের রোগবালাই তাদের গ্রাস করে এবং চূড়ান্তপর্যায়ের ধ্বংস ডেকে নিয়ে আসে। প্রথম স্তরে তাদের ‘ভয় রোগে’ পেয়ে বসে। প্রচণ্ড ভয়ে তারা বিকারগ্রস্ত হয়ে যার তার কাছে মাথা নত করেন এবং কারণে-অকারণে বিভিন্নজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে দুই হাত বাড়িয়ে যাচ্ছে- তাই ভিক্ষা চাওয়া শুরু করেন। তাদের হাঁটা, চলা, কথাবার্তা, পোশাক-পরিচ্ছদ, আহার-নিদ্রা ইত্যাদিতে ভয়ের ছোঁয়া লেগে সব কিছুই এলোমেলো করে দেয়। তারা প্রচণ্ডভাবে আবেগপ্রবণ, অন্তর্মুখী এবং ভবঘুরে হয়ে যান। কথায় কথায় শিশুর মতো ছিঁচকাঁদুনে স্বভাব প্রদর্শন এবং লুকিয়ে থাকার মধ্যে নিরাপত্তা খুঁজে বেড়ান।

দ্বিতীয় স্তরের রোগীরা নিজের প্রতি যেমন বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন, তেমনি তারা কাউকে বিশ্বাস করতে পারেন না। সব সময় এক ধরনের হীনম্মন্যতা তাদের অক্টোপাসের মতো বেষ্টন করে রাখে। বেঁচে থাকার সব আশা ছেড়ে দিয়ে তারা মৃত্যুভয়ে শঙ্কিত হয়ে ওঠেন। অনেকে নিজেকে ধিক্কার জানাতে থাকেন এবং অতীতের সুসময়ের কথা স্মরণ করে আবেগে অশ্রু বিসর্জন করেন। এই পর্যায়ে এসে তারা অভিশাপ দিতে শেখেন এবং কথায় কথায় প্রতিপক্ষকে অভিশাপ দিয়ে জাহান্নামে পাঠানোর আশা ব্যক্ত করেন। তৃতীয় স্তরের রোগীরা অতিমাত্রায় নিয়তিনির্ভর হয়ে হাত-পা গুটিয়ে থাকেন। নিজের দায়িত্ব সৃষ্টিকর্তার ওপর ন্যস্ত করে তারা চোখ বন্ধ করে প্রলয় থেকে বাঁচার জন্য চুপটি করেও ঘাপটি মেরে বসে থাকেন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫