ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

মতামত

বিশ্বপ্রগতির ধারায় একুশ শতকের চীন

সৈয়দ তোশারফ আলী

২৬ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৫:২৭ | আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ১৫:৩৭


প্রিন্ট
বিশ্বপ্রগতির ধারায় একুশ শতকের চীন

বিশ্বপ্রগতির ধারায় একুশ শতকের চীন

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সপ্তাহব্যাপী ১৯তম সম্মেলন শুরু হয়েছে গেল বুধবার। এ উপলক্ষে বেইজিংয়ে সমবেত হয়েছেন দলটির ২ হাজার ২৮৭ জন ডেলিগেট। তারা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৪৭ হাজার সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে পার্টি কংগ্রেসে কথা বলবেন। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সাধারণ সম্পাদক এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দাবি করেছেন যে, চীনা সমাজতন্ত্র নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এই যুগে চীনের লক্ষ হচ্ছে সব দিক থেকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও জাতীয় পুনরুজ্জীবন সাধন। ৬৫ পৃষ্ঠার লিখিত ভাষণে তিনি দাবি করেন, চীনা কমিউনিস্টদের আদি আকাক্সক্ষা এখনো অটুট রয়েছে। আর সে আকাক্সক্ষা হলো, চীনা জনগণের সুখী জীবন এবং চীনা জাতির নবজীবন প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি চীনা প্রেক্ষাপটে মার্কসবাদী আদর্শ অনুসরণ অব্যাহত রাখার, মার্কসবাদকে যুগোপযোগী করে কাজে লাগানোর এবং জনগণের কাছে এই ভাবাদর্শের আবেদন বাড়ানোর কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।

২০১২ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেসের পর অতিবাহিত পাঁচ বছরে অর্জিত সাফল্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে শি জিন পিং বলেন, এই সময়ের মধ্যে চীন উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে। জিডিপি ৫৪ ট্রিলিয়ন ইউনান থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০ ট্রিলিয়ন এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে এখন চীনের অবদান ৩০ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে চীনে বার্ষিক নগরায়ন ঘটেছে শতকরা ১.২ হারে এবং পাঁচ বছরে ৮ কোটি লোক গ্রাম থেকে শহরে আবাস গড়ে তুলেছে। দারিদ্র্য সীমার ওপরে উঠে এসেছে ৬ কোটি লোক। দারিদ্র্যের হার ১০.২ শতাংশ থেকে কমে ৪ শতাংশে এসেছে।

শি জিন পিং তার সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদনে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রসঙ্গে বলেছেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র ও আইনভিত্তিক শাসনব্যবস্থা জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এই পথে অগ্রগতি সাধন করে চলেছে। তিনি দাবি করেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি এখনো লেনিন প্রবর্তিত গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার নীতি অনুসরণ করে চলেছে। তিনি দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক অনুশীলন বাড়ানো এবং দুর্নীতি দমন জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, আনুষ্ঠানিকতা, আমলাতান্ত্রিকতা, আত্মপরতা, বিলাসিতা এবং সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে প্রাদেশিকপর্যায়ের সব বিভাগের, সব স্তরের দোষী কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না, কারো প্রতি দুর্বলতা দেখানো হচ্ছে না। বাঘ, মাছি, শেয়াল সবার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

চীনের প্রভাবশালী নেতা শি জিন পিং একুশ শতকের সমস্যা সঙ্কুল পৃথিবীতে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে মার্কসবাদকে যুগোপযোগী করে কাজে লাগানোর কথা বলছেন, মার্কসবাদী আদর্শ অনুসরণ করার কথা বলছেন, এই ভাবাদর্শ জনপ্রিয় করে তোলার কথাও বলছেন। লেনিনের গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার নীতি মেনে পার্টি পরিচালনার কথা বলছেন। এসব বক্তব্য সংবাদপত্রে পাঠ করার পর এ দেশের বাম ঘরানার জনবিচ্ছিন্ন হতাশাগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা কি আদৌ উজ্জীবিত বোধ করবেন? অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ইদানীং সমাজতন্ত্রের অনুকূলে কথা বলছেন। কিন্তু যে দলগুলো নেতাকর্মীরা একদা তোতা পাখির মতো বামপন্থী মুখস্ত বুলি আওড়ানো তো তাদের কোনো কর্মকাণ্ড ইদানীং আর চোখে পড়ে না। এক শ্রেণীর কমরেড তো আওয়ামী লীগের নৌকায় চড়ে ফুরফুরে মেজাজে দিনকাল পার করছেন। এদিকে দেশে তো সমস্যায় পাহাড় জমছে। দেশের প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র রাজধানীতে বিরাজ করছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শোচনীয় অবস্থা। ঢাকা শহরে কারো ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নেই। যৌন হয়রানি, সহিংসতা, ধর্ষণের ঘটনা ঢাকা শহরকে নারীদের জন্য অনিরাপদ করে তুলেছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশ দূষণ, পানি দূষণ এবং বায়ুদূষণ শহরটির বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করে বাড়িঘর নির্মাণ করার ফলে জলাবদ্ধতার সঙ্কটে ভুগছে ঢাকা মহনগরী। স্বল্পমেধার প্রকৌশলীদের দ্বারা পরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণের ফলে যানজট অসহনীয়পর্যায়ে চলে গেছে।

রাজধানী ঢাকা এখন কার্যত অচল শহর। এ কারণে ঢাকায় শারীরিক ও মানসিক চাপ ক্রমবর্ধমান। হাসপাতালগুলোয় গেলে বোঝা যায় রোগীর চাপ সামাল দিতে ডাক্তার ও নার্সরা কিভাবে হিমশিম খাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হলে ঢাকার জীবনযাত্রায় গতিসঞ্চার হবে বলে যে আশা করা হয়েছিল সে আশা মোটেই ফলবতী হয়নি। এখন এই অবস্থা থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় সব কিছুর পরিকল্পিত বিকেন্দ্রীকরণ। কিছু স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় সর্বাগ্রে দূরে সরাতে হবে। শহর থেকে দূরে পরিকল্পিত অনাবাসিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে হবে। এরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অধিদফতর ঢাকায় থাকতে পারবে না। আদেশ, নির্দেশ প্রতিবেদন সব কিছু অনলাইনে করতে হবে। গত পাঁচ বছরে যদি চীনের ৮ কোটি লোক গ্রাম থেকে শহরে এসে বসবাস করতে পারে এবং ৬ কোটি লোক দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠে আসতে পারে তাহলে আমরা কেন তা পারি না? তারা তো আলাদিনের আশ্চর্র্য প্রদীপে ঘষা দিয়ে দৈত্য হাজির করে তার মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করেনি? এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে চীনের জনগণ, নেতৃত্ব দিয়েছে শি জিন পিং এবং চীনের ঐতিহ্যবাহী সাম্যবাদী দল (সিপিসি)।

প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম পীঠস্থান চীন। বিজ্ঞান, দর্শন, শিল্প, সাহিত্য সব ক্ষেত্রে রয়েছে তার স্বকীয়তা এবং অনন্যতা। আবিষ্কার বা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তার অবদান যেমন ইতিহাস স্বীকৃত, তেমনি তার দর্শন ভাবনাও আপন মহিমায় সমুজ্জ্বল। কনফুসিয়াস থেকে তাও, মাও এবং আজকের শি জিন পিং চীনা ভাবনা-চিন্তার জগৎকে বিপুলভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। আজ আমরা যে চীনাকে দেখছি এর উদ্ভব ও বিকাশের রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। ইতিহাসের গর্ভ থেকেই আধুনিক চীনের উদ্ভব ঘটেছে। মাও সে তুং, চৌএন লাই প্রমুখের নেতৃত্বে চীন যখন স্বাধীনতা লাভ করে তখন চীন ছিল একটি আধা ঔপনিবেশিক এবং অধা সামন্তবাদী দেশ। এ রকম একটি দেশকে সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অক্লান্ত চেষ্টা করেন মাও সেতুং। তিনি সাম্রাজ্যবাদের জোয়াল থেকে চীনকে মুক্ত করেন।

চীনের পুনর্গঠনেও তিনি কৃতিত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন। কিন্তু একটি পশ্চাৎপদ দেশে বিপ্লবী পন্থায় ক্ষমতা দখল করা এবং অর্থনৈতিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করা এক কথা নয়। মার্কসের উন্নয়ন তত্ত্ব অস্বীকার করে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নামে মাও সেতুং আধা সামন্তবাদী, আধা ঔপনিবেশিক একটি দেশকে রাতারাতি সমাজতন্ত্রে উত্তরণ ঘটাতে চেয়েছিলেন। যেমন জোসেফ স্ট্যালিন চেয়েছিলেন অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে সাম্যবাদে পৌঁছে দিতে। শক্ত হাতে প্রশাসন চালিয়ে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের অর্থনীতিকে অনেক সমৃদ্ধও করেছিলেন। কিন্তু ১৯৫৩ সালের দিকে এসে তার বোধোদয় ঘটে যে প্রাকৃতিক নিয়ম যেমন বদলানো যায় না, তেমনি বদলানো যায় না অর্থনীতির নিয়মকানুন। পণ্য অর্থনীতির অবসান ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে তিনি তার দেশে তৈরি পণ্যের নাম রাখলেন ‘সমাজতান্ত্রিক পণ্য’। নামে কী যায় আসে, গোলাপকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন, গোলাপ গোলাপই থাকে।

পণ্যের বেলায়ও এ কথা সমানভাবে প্রযোজ্য। তাই সমাজতান্ত্রিক পণ্যকে সোনার পাথর বাটি বলে সমালোচনা সইতে হলো। গোঁজামিল দিয়ে, আমলাতন্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোকে শক্তিশালী করে বিশ্বের অন্যতম সুপার পাওয়ার হিসেবে ১৯৯০ পর্যন্ত স্বীয় অস্তিত্ব বজায় রাখার পর শেষ পর্যন্ত বিনা যুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেল। পুঁজিবাদের ঝড়ো হাওয়ায় পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর চালচিত্র বদলে গেল। এমনকি মজবুত করে নির্মিত বার্লিন দেয়াল পর্যন্ত উঠে গেল। রুশ নেতা মিখাইল গর্বাচেভ সময়ের ডাক শোনার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানালেন। রুশ-মার্কিন সমঝোতার কারণে ঠাণ্ডা যুদ্ধের অবসান হলো। এদিকে পূর্ব গোলার্ধ্বে চীন বিপ্লবী বুলির মৌতাত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করল। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৬ পর্যন্ত এই সময়টা চীনের মোটেও ভালো যায়নি।
তবে চীনের সাম্যবাদী দলের মস্ত বৈশিষ্ট্য হলো ভুলভ্রান্তি করা এবং তা থেকে শিক্ষা নেয়া। গোঁড়ামি কিংবা ডগমা কখনো চীনের সভ্যতায় প্রশ্রয় পায়নি। বাস্তব বুদ্ধি সবসময় তাদের সাহায্য করে এসেছে। তাই সময়ের ডাকে সাড়া দিতে চীন এ পর্যন্ত কখনো ভুল করেনি। এখন তার অর্থনীতি অনেক শক্তিশালী।


শি জিন পিংয়ের মতো একজন বিচক্ষণ ও বলিষ্ঠ নেতা পাওয়াতে চীন অনেকটা নির্বিঘ্নে এগিয়ে চলেছে। মার্কসবাদের শিক্ষাকে চীনের বাস্তবতায় প্রয়োগ করার এবং লেনিনের গণতান্ত্রিক-কেন্দ্রিকতার নীতি মেনে চলার অনুকূলে তিনি যে বক্তব্য পার্টির ১৯তম জাতীয় সম্মেলনে দিয়েছেন এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, চীন এখনো সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শে বিশ্বাস হারায়নি। তবে এ সম্পর্কে মতামত রাখতে হলে চীনা সমাজের গতি ও গন্তব্য ঠিকমতো অনুধাবন করতে হবে। চীনের সাম্যবাদী দলের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসতে শুরু করে ১৯৮০ সাল থেকে। তখনই গ্রামাঞ্চলের যূথবদ্ধ কমিউন ব্যবস্থা শিথিল করা হয়। ব্যক্তিগত খাতে চাষাবাদ হতো আগে শতকরা ৭ ভাগ, সেটা বাড়িয়ে ২০ ভাগ করা হয়। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের বাইরে উদ্বৃত্ত ফসল খোলা বাজারে বিক্রি করে লাভ তোলার সুযোগ দেয়া হয়। সুযোগ দেয়া হয় চাষিদের বাড়তি উপার্জন ব্যাংকে রেখে সুদ পাওয়ার। অন্য দিকে ভারী শিল্পে বিনিয়োগের অনুপাত কমিয়ে আনা হয়। বিনিয়োগের অনুপাত বাড়ানো হয় ভোগ্যপণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে। এর সাথে আরো একটি কাজ করা হয় আর তা হলো শিল্পকারখানায় পার্টির নজরদারি হ্রাস করা হয়।

বিদেশী পুঁজি ও প্রযুক্তির ব্যাপারে যে বিধিনিষেধ ছিল তা তুলে নেয়া হয়। আমদানি ক্ষেত্রেও একই উদারতা দেখানো হয়। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে মার্কিনি ও জাপানিদের সাথে প্রায় পাঁচ হাজার প্রযুক্তিসংক্রান্ত চুক্তি করা হয়। এর সাথে যৌথ উদ্যোগে তিন হাজারেরও বেশি শিল্পকারখানা চালু করা হয়। আর ক্রয় করা হয় বিদেশীদের কাছ থেকে ঢালাওভাবে বিভিন্ন প্রোডাক্টের পেটেন্ট। এমনকি বিদেশী ঠিকাদারদের দেয়া হয় বিভিন্ন ধরনের কাজ। হোটেল, কারখানা তদারকির দায়িত্বও বাইরের লোকেরা পেয়ে যায়। পর্যটন খাতের প্রসার ঘটানোর দায়িত্ব পেয়ে যায় বাইরের ব্যবসায়ীরা। এই পলিসি চমৎকার কাজ করে। ১৯৮০ সালে যেখানে পর্যটকদের সংখ্যা ছিল পঞ্চাশ থেকে পঞ্চান্ন লাখ সেখানে ১৯৮৮-৮৯ সালে সেই সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে যায়। এখন সেই সংখ্যা যে আরো বেড়ে গেছে সেকথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। এই রূপান্তরের পেছনে চীনের সাম্যবাদী দলের বাস্তব বুদ্ধি বিরাট ভূমিকা রেখেছে। মার্কসবাদ বলুন আর গান্ধীবাদ বলুন সব মতবাদকে কাজে লাগানোর জন্য দরকার হয় সৃজনশীলতা।

গোঁড়ামি, মৌলবাদী প্রবণতা এমনকি বিজ্ঞানও সৃজনশীলতার বিরোধী। জীবন এবং জীবনের চাহিদা সব সময় বিকাশমান। গতিশীল জীবনপ্রবাহের সাথে কোনো আদর্শ ও দর্শনকে খাপ খাওয়াতে হলে তাকে আপ্তবাক্যের মতো আওড়ালে হবে না। তার অন্তর্নিহিত সত্যের দিকে তাকাতে হবে। জীবন দর্শন গাণিতিক সত্য নয়। পদার্থের মৌলিক গুণাবলি যেখানে তাপমাত্রার ওঠানামার সাথে বদলে যাচ্ছে তখন কোনো আদর্শ কোনো প্রতিপাদ্যকে শাশ্বত, অপরিবর্তনীয় ভাবার কোনো যুক্তি দেখি না। ন্যানো প্রযুক্তির এই যুগে সব ধরনের চিন্তার পুনর্গঠন হওয়া প্রয়োজন। চীন সেই কাজটি করতে পেরেছে বলে দুর্বারগতিতে এগিয়ে চলেছে। বাঘ, মাছি, শেয়াল তার চলার পথে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। প্রশ্ন হচ্ছে, চীন যখন এগিয়ে চলছে তখন আমাদের প্রতিটি সূচক নিম্নমুখী। আমাদেরও তো লক্ষ্য ছিল দেশের সমৃদ্ধি এবং জনগণের উজ্জীবন।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫