ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৮ জানুয়ারি ২০১৮

উপসম্পাদকীয়

কর্তৃত্ববাদীদের কপটতা ভণ্ডামি

জসিম উদ্দিন

২৫ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ১৮:৫৮ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ২০:১২


জসিম উদ্দিন

জসিম উদ্দিন

প্রিন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ভারত সফরকে সামনে রেখে চীনের কড়া সমালোচনা করেছেন। আন্তর্জাতিক স্থিতির জন্য যে মূল্যবোধ রয়েছে, সেগুলোতে চ্যালেঞ্জ করার জন্য চীনকে তিনি অভিযুক্ত করেন। অন্য দিকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার জন্য ভারতের উচ্চ প্রশংসা করেছেন। তার ঘোষণা হচ্ছে- বিশ্বের স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্র-ভারত শক্তিশালী অংশীদারিত্ব দরকার। টিলারসন দুই সপ্তাহ আগে চীনে গিয়ে দেশটির ভূয়সী প্রশংসা করে আসেন। আগের উচ্চারণ করা বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে পরে দেয়া বক্তব্যটি মিথ্যা। সাধারণ মানুষ এই অবস্থায় কর্তৃত্ববানদের কোন কথাটি বিশ্বাস করবে বুঝে উঠতে পারে না। 

আন্তর্জাতিক স্থিতির জন্য হুমকি এমন মূল্যবোধ ভাঙার জন্য চীনের বিরুদ্ধে যখন টিলারসন অভিযোগ করছেন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার মানতে চাইছে না। নিজেরা জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে এসে খুব সমালোচিত হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধির যে কথা বলা হচ্ছে- তার জন্য প্রধানত যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। সবচেয়ে ধনী ও নেতৃস্থানীয় দেশ হিসেবে আরো যেসব দায়িত্ব বহন করার কথা, সেগুলো থেকেও তারা সরে আসছে। দাতব্য কাজে আন্তর্জাতিক তহবিল সরবরাহে তারা অস্বীকার করছে। জাতিসঙ্ঘের প্রাপ্য তহবিলও তারা কাটছাঁট করছে। এ অবস্থায় চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কতটুকু অধিকার যুক্তরাষ্ট্র সংরক্ষণ করে?

চীনা রাজনীতি নিয়ে রহস্য ও সমালোচনা রয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম কংগ্রেস উপলক্ষে পশ্চিমা মিডিয়ায় এর নানামাত্রিক বিশ্লেষণ হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ‘দুর্নীতির খড়গ’। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে ব্যাপক আকারে দুর্নীতি রয়েছে। তবে অনেক নেতার ক্যারিয়ার শেষ করে দেয়ার জন্য এ দুর্নীতির খড়গ ব্যবহার হয়েছে। পশ্চিমাদের সাথে চীনা ভণ্ডামির একটা পার্থক্য রয়েছে। পশ্চিমারা গণতন্ত্র ও উন্নত মানবাধিকারের কথা বলে। নিজেদের চাপিয়ে দেয়া দায় থেকে পশ্চিমারা মানবাধিকারের জন্য অনেক ক্ষেত্রে অবস্থান নেয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যেমনটা আমরা দেখছি। কিন্তু এ ধরনের অবস্থান নেয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভণ্ডামি রয়েছে। চীন ও এর নেতারা মানবাধিকারের কোনো ধার ধারে না। নিজের দেশে হোক, কি বিদেশে হোক।

রোহিঙ্গা সঙ্কটে চীনা মানসিকতার উলঙ্গ প্রকাশ ঘটেছে। গণহত্যাকারী ও ধর্ষণকারী মিয়ানমার সরকারের প্রতি তারা জোরালো সমর্থন দিয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের অমানবিক অবস্থান দেশটির কমিউনিস্ট নেতৃত্বের নিষ্ঠুর মনোভাবের পরিচয় দিচ্ছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির উপপ্রধান গো ইয়েঝুর বক্তব্য প্রতারণাপূর্ণ। তিনি বলেছেন, অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে- সঙ্কটে বিদেশীদের হস্তক্ষেপ কোনো কাজে আসেনি। চীন বরং স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিয়ানমার সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। চীন বিশ্বাস করে, মিয়ানমার নিজে তার সমস্যা মোকাবেলা করতে পারবে।’ গণহত্যা ও ধর্ষণের বিষয়টি সারা বিশ্ব যখন জানছে, একই সাথে ছয় লাখের বেশি রাখাইনবাসী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে এদের কোনোভাবে বাংলাদেশের ওপর বর্তানোর প্রশ্ন আসে না। সে ক্ষেত্রে কিভাবে এটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে? চীনের এমন অবস্থান বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশ হিসেবে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মিথ্যাচার ও কপটতার একটা সীমা আছে, কিন্তু তাদের এমন অন্যায় অবস্থান এ ব্যাপারে যেন সব সীমা ছাড়িয়ে গেল।

ইরানের সাথে করা চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে আসতে চাইছে। যেখানে তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের এমন অপরিণামদর্শী চিন্তাভাবনার সমালোচনা করছে। ইরানের প্রতি এমন মনোভাব নেয়ার অজুহাত খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসন, যাতে অচিরেই পৃথিবীতে নতুন করে অস্থিরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। নতুন এই অস্থিরতা শুরু হওয়ার আলামত মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে অনীহা থেকে উদ্ভূত হতে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে একজন অপরিণামদর্শী হিসেবে অনেকে মন্তব্য করছেন। তবে এ ব্যাপারে ট্রাম্পের কোনো ধরনের পরোয়া নেই।

যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চয়ই দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন ভাঙার যুক্তি হিসেবে দেখাতে চাইছে। এ ধরনের নিয়মকানুন রক্ষার চেয়ে ভাঙার বহু নজির আমেরিকা নিজেই সৃষ্টি করেছে। ইরাকের ওপর আক্রমণের দায়িত্ব কোথা থেকে এরা পেয়েছিল? আফগানিস্তানে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনকানুন মানার কথা কি তাদের মনে ছিল? শক্তির জোরে এরা এমন দানবীয় হামলা চালিয়ে শেষ পর্যন্ত পৃথিবীতে লাখ লাখ মানুষের প্রাণপাত করেছে। দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত দ্বীপগুলোতে চীনের কর্তৃত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হলে তা এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার কাজে আসবে। ওই এলাকাটি এখনো পরিপূর্ণ চীনা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শক্তি প্রদর্শন করে যুক্তরাষ্ট্র যদি ওই অঞ্চলের ছোট দেশগুলোকে উসকানি দেয়া অব্যাহত রাখে, তাহলে সেখানে উত্তেজনা কখনো প্রশমন হবে না। চীন তার অবস্থানে অটল থাকার জন্য সবসময় তার সামরিক শক্তি প্রদর্শন করেই যাবে।

ভারতের প্রশংসা করার জন্য টিলারসন যুক্তি দেখাচ্ছেন তাদের রয়েছে ‘উন্নত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ’। এখানে অনেক প্রশ্ন এসে যাবে। কাশ্মিরি মানুষের স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারতের মূল্যবোধটি আসলে কী? তাদের ওপর যে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে সেটা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো আইনের অনুসরণে করা হচ্ছে? ভারতে চমৎকার একটি ভোটব্যবস্থা কায়েম হয়েছে এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভোট প্রশ্নে উদার উন্নত গণতন্ত্রচর্চার সহিষ্ণুতা দেখা যায়। কিন্তু গণতন্ত্রের যে ব্যাপকভিত্তিক চর্চা সেটা ভারতে গড়ে ওঠেনি। সংখ্যালঘুরা গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাদ নিতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রেই তারা বঞ্চিত রয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্রের চর্চার সুফলের কথা যদি বলা হয় তাহলে সেটা সংখ্যাগুরু ধর্মীয় গোষ্ঠী ভোগ করছে পুরোদমে। একটি বহুত্ববাদী সমাজের উদারতা দেশটিতে এখন আদৌ নেই। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপির সরকার গঠনের পর থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন বেড়েছে। টিলারসন যে আদর্শবাদের কথা বলছেন, সেটা আসলে বাস্তবে ভারতে নেই। নিপীড়িত ও উৎখাত হওয়া রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে গণতান্ত্রিক ভারত এমন নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তাতে তাদের অনুদারতা সঙ্কীর্ণ মানসিকতার পরিচয় বেশি পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে আশপাশের বন্ধু রাষ্ট্রের প্রতি তাদের উন্নত কোনো অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি পূরণের চেষ্টা দেখা যায় না।

গণতন্ত্রকে এরা দেবতার আসনে উঠালেও প্রতিবেশী বাংলাদেশের জন্য সেটা এরা পছন্দ করেনি। অর্থাৎ যে উন্নত মূল্যবোধকে নিজেদের জন্য সঠিক মনে করছে, বন্ধুদের জন্য সেটা উপযুক্ত মনে করছে না। একটি গোলযোগপূর্ণ বিশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশ পতিত হলে সেই অবস্থায় থাকাকেই ভারত সমর্থন করেছে। একটি জনবিচ্ছিন্ন নির্বাচনকে তারা জোরালোভাবে সমর্থন দিয়ে অনেকটাই একক দায়িত্বে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জনগণ বুঝতে পেরেছে যেই উন্নত গণতন্ত্র নিজেরা চর্চা করছে, ভারত সেটা বাংলাদেশী জনগণের কল্যাণার্থে পছন্দ করছে না। বরং তারা গণতন্ত্র চর্চার বদলে এ দেশে তাদের পছন্দনীয় একটি সরকারকে চাপিয়ে দিয়েছে।

সফরে সুষমা স্বরাজ একবারও রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেননি। মিয়ানমার রোহিঙ্গা নামটি স্বীকার করতে চায় না। কোনো জাতিগোষ্ঠীকে স্বীকার না করলে সে জাতিগোষ্ঠী পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় না। এর মধ্যে দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জাতিগত পরিচয় বিশ্বে একটা বাস্তবতা। যত দিন তারা নিশ্চিন্ন হয়ে না যচ্ছে, তত দিন রোহিঙ্গা অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকছে। কেউ তাদের স্বীকৃতি দিক আর না দিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের নীতি অনুসরণে নিপীড়নের শিকার এই জাতিগোষ্ঠীর নামও মুখে নিতে চাইলেন না। তিনি এই সফরে তার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্ধৃত করেন। মোদি মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে পরামর্শ দিয়েছেন, তার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে সুনাম ও সুখ্যাতি রয়েছে তা যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়, সে দিকে লক্ষ রাখতে। এই মন্তব্যটি মানবতা রক্ষার জন্য উচ্চ অঙ্গীকারপ্রাপ্ত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য কোনোভাবেই মানায় না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেটি বাংলাদেশ সফরে উল্লেখ করে রোহিঙ্গা কমিউনিটি ও তাদের আশ্রয় দেয়া বাংলাদেশীদের প্রতি আরেকটি ঘা দিলেন। রাখাইনে নৃশংসভাবে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। নিকৃষ্টভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে নারীদের। মানবতা রক্ষার চেয়ে কোনোভাবেই সু চির ‘সুনাম’ ও ‘সুখ্যাতি’ গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর আসলেই যদি সু চি মানবদরদি হতেন, যার জন্য বিশ্বে তার সুনাম সুখ্যাতি, তাহলে বহু আগেই তিনি রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতেন। ফলে তার মতো হাজার হাজার নারী নারকীয় কায়দায় ধর্ষণের শিকার হয়তো হতেন না। তেমন করা তো দূরের কথা, তিনি নিপীড়নকারী সামরিক বাহিনীর সহযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়ায় তিনি ভীত নন। অর্থাৎ সামরিক বাহিনী যে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণ চালাচ্ছে তাতে আন্তর্জাতিক মহল সঙ্গত কারণে যে সহমর্মিতা প্রকাশ করছে, তাতে তিনি কিছু মনে করেন না। নরেন্দ্র মোদির মানবতা ভারতে বহু আগে থেকে পরীক্ষিত। এখন দেখা যাচ্ছে সিভিল সোসাইটির সদস্য সুষমা স্বরাজও তার সমর্থক।

রেক্স টিলারসন একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি তেল কোম্পানি এক্সনমোবিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। এই ধরনের জায়ান্ট তেল কোম্পানিগুলো নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক ইতিহাসে বড় বিপর্যয়গুলোর জন্য অনেকে আমেরিকান এই কোম্পানিগুলোকে দায়ী মনে করেন। এর আগে ইরাক আক্রমণকারী বুশও তেল কোম্পানির সুহৃদ ছিলেন। এখন তেল কোম্পানির একেবারে প্রধান নির্বাহী এই কর্মকর্তাকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ করেছেন। দেশ পরিচালনায় যুক্ত হয়ে তার বক্তব্য থেকেও রাজনৈতিক নেতাদের মতো প্রবঞ্চনামূলক কথা শোনা যাচ্ছে। অন্তরালে তিনি বিশ্ববাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে কী করছেন তা সৃষ্টিকর্তা জানেন। 

উত্তর কোরিয়ার সাথে সংলাপ শুরুর চেষ্টা হিসেবে তিনি চীন যান। ওই সফরে টিলারসন চীনের প্রশংসা করেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে উচ্চ আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই দুই নেতার মধ্যে সম্পর্ক বিকশিত হচ্ছে এ সম্পর্ক পরিপক্ব এবং শক্তিশালী হচ্ছে।’ তিনি এই ক্ষেত্রে ইংরেজি শব্দ ম্যাচিউর এবং স্ট্রং ব্যবহার করেন। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনের আগে থেকে চীনের কঠোর সমালোচক। কারচুপি করে আমেরিকান অর্থনীতিকে ফতুর এবং চীনা অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য চীনা নেতৃত্বকে তিনি গালাগালিও দেন।
চীনা প্রেসিডেন্ট আরো বাড়িয়ে ট্রাম্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। টিলারসনের সাথে সাক্ষাতে তিনি তার চমৎকারভাবে প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের সাথে কয়েকবার ফোনালাপের বিষয়টি টিলারসনের কাছে শি উল্লেখ করেন। ফ্লোরিডার অবকাশ যাপন কেন্দ্র এবং জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে হামবুর্গে উভয়ের মধ্যে চমৎকার বৈঠক হওয়ার বিষয় তিনি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্রত্যেকবার তার (ট্রাম্প) সাথে মিলিত হওয়াকে আমি উপভোগ করেছি। আমরা উভয়ে চীন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক উন্নয়নে সর্বোত্তম চেষ্টা করেছি। আমাদের উভয়ের মধ্যে চমৎকার ওয়ার্কিং রিলেশন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। সবশেষে তিনি টিলারসনকে বলেন, আমি বিশ্বাস করি ট্রাম্পের চীন সফর হবে অসাধারণ বিশিষ্ট এবং সফল একটি সফর হবে। এই বিশেষ সফরটি চলতি বছরের নভেম্বরে হওয়ার কথা রয়েছে।

চীন সফরে টিলারসন এবং শি’র তেল মাখামাখি ১৫ দিনের ব্যবধানে পুরো উল্টে গেল। ভারত সফরকে সামনে রেখে টিলারসন ওয়াশিংটনে এবার ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। রাজনৈতিক নেতাদের এমন সুর পাল্টানো খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। এরা উপস্থিত অনেক কথাই বলেন। কার্যক্ষেত্রে দেখা যায়, একে-ওপরের ব্যাপারে প্রকৃতপক্ষে সেই ধরনের মনোভাব পোষণ করেন না। অনেক ক্ষেত্রে বলা কথার সম্পূর্ণ বিরোধী মনোভাব তারা একে-ওপরের বিরুদ্ধে পোষণ করেন। অনেক ক্ষেত্রে উপস্থিত কথাগুলো সবই ডাহা মিথ্যা হয়। যেমন সুষমা স্বরাজ বলছেন, বাংলাদেশ আমাদের সবার আগে। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে তারা আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এর বাস্তবতা কী। আমাদের যখন পানির দরকার তখন আমরা পানি পাচ্ছি না। আমাদের যখন রোহিঙ্গা ক্রাইসিস তখন তাদের সমর্থন নেই। তবে আসে বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি। এবার অবশ্য সুষমা বলেছেন, সব প্রতিশ্রুতি ঈমানদারির সাথে প্রতিপালিত হবে। তাহলে অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন- আগে সেটা কি ঈমানদারির সাথে হয়নি?

jjshim146@yahoo.com

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
সকল সংবাদ

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫