ঢাকা, রবিবার,১৯ নভেম্বর ২০১৭

মিউজিক

চলন্ত ট্রেনে যৌন লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলেন এই গায়িকা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২৫ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ১৫:২৭


প্রিন্ট
সোনা মহাপাত্র

সোনা মহাপাত্র

চলন্ত ট্রেনে সবাই তখন শুয়ে পড়েছে। মিডল বার্থে শুয়েছিলেন সোনা মহাপাত্র। মধ্যরাতে আচমকাই টের পেলেন আপার বার্থ থেকে একটি হাত নেমে এসে তার জিনসের প্যান্টের ভিতরে ঘোরা-ফেরা করছে। আতঙ্কে ঘৃণায় সিঁটিয়ে গিয়েছিলেন সোনা। তখন তার বয়স মাত্র এগারো বছর। পরিবারের সকলের সঙ্গে ঘুরতে যাচ্ছিলেন। এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন যে ঘেমে-নেয়ে একসা। কিন্তু, মুখ ফুটে একটা শব্দও বের করতে পারেননি। চিৎকার করে বলতে পারেননি ‘এটা কী হচ্ছে?’ কারণ, সেদিন যে সোনা মহাপাত্র-র জিনসের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছিল সে তার প্রতিবেশী এক কাকা। মালায়ালি এই কাকা সোনাদের প্রতিবেশী ছিলেন।

‘মি টু’ ক্যাম্পেইনে এই তথ্য সামনে এনেছেন সোনা মহাপাত্র। মেয়েদের যৌন লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার কাহিনি নিয়ে চলছে এই ‘মি টু’ ক্যাম্পেন। আর সেখানেই অন্য মহিলাদের মতোই মুখ খুলেছেন সোনা।

বলিউডে প্লে-ব্যাক সিংগিং-এর জগতে এক পরিচিত নাম তিনি। বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় সেলিব্রিটি সোনা। কিন্তু, এখানে যে কাহিনি তিনি শেয়ার করেছেন তা তার সেলিব্রিটি হওয়ার আগে। সোনা তার কলমে জানিয়েছেন, ছোট থেকেই নানাভাবে মেয়েদের যৌন লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। তিনি নিজেই হাড়ে হাড়ে সেটা টের পেয়েছেন। লেখনির ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে যৌন লাঞ্ছনা তার শৈশবে কতটা প্রভাব ফেলেছিল।

আতঙ্কে অন্ধকার ঘরে থাকতে চাইতেন না সোনা। তার লেখায় বলিউডের এই শিল্পী জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তার প্রিয় খেলা ছিল ‘ডার্ক রুম’। এতে শুধু তার বয়সী মেয়েরাই নয় ছেলেরাও অংশ নিত। কিন্তু, একটা সময় আতঙ্কে এই ‘ডার্ক রুম’ খেলায় অংশ নিতে চাইতেন না সোনা মহাপাত্র। বাবা-মা জোর করতেন খেলার জন্য। কিন্তু, অন্ধকার ঘরের পরিবেশ যেন ট্রেনে প্রতিবেশী কাকার হাতে যৌন লাঞ্ছনার স্মৃতি ফিরে আসত তার মনে।

এমনকী, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে থেকে যখন বাড়ি ফিরতেন সে সময়ও নাকি ট্রেনে ঘুমোতে পারতেন না সোনা মহাপাত্র। এমনও কিছু ট্রেন সফর গিয়েছে যেখানে টানা ৩৬ ঘণ্টা চোখের পাতা বন্ধ করতে পারেননি সোনা। তার নাকি মনে হত এই বুঝি ফিরে এল ছোটবেলার ট্রেন সফরের সেই দুঃস্বপ্ন।

সোনা জানিয়েছেন, একবার দিল্লিতে বাসে করে তিনি যাচ্ছিলেন। পাশের পুরুষ সহযাত্রী অসভ্যতা করার চেষ্টা করছিল। প্রতিবাদ করেছিলেন সোনা। কিন্তু, উল্টে লোকটা এমন কথা বলেছিলেন যে তাতে সোনাকে নিয়ে বাসের অন্য যাত্রীরা হাসাহাসি করেছিল। অপমানিত সোনা এরপর বাস থেকেই নেমে গিয়েছিলেন।

বলিউডের এই শিল্পী জানিয়েছেন, ‘মি টু’ হ্যাশট্যাগে সকলেই কর্মস্থলে যৌন লাঞ্ছনার কাহিনি শেয়ার করছেন। তবে, কর্মস্থলে তাকে কোনো যৌন লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়নি বলেই জানিয়েছেন সোনা। বরং তিনি কর্মস্থলে যে সম্মান পেয়েছেন তাতে তিনি অভিভূত বলেই জানিয়েছেন। যেভাবে দেশে-বিদেশে একজন মহিলা শিল্পী হিসাবে সম্মান পয়েছেন তা তাকে অনুপ্রাণিত করে।

সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫