ঢাকা, শনিবার,১৮ নভেম্বর ২০১৭

আন্তর্জাতিক সংস্থা

‘১৩ কোটির বেশি মেয়ে এখনও স্কুলে যেতে পারছে না’

বিবিসি বাংলা

২৫ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ০৯:৫৫ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ১০:০৭


প্রিন্ট
দক্ষিণ সুদান বিশ্বের মধ্যে শিশুদের শিক্ষার জন্য সবচেয়ে খারাপ দেশ বলে বিবেচিত হয়েছে।

দক্ষিণ সুদান বিশ্বের মধ্যে শিশুদের শিক্ষার জন্য সবচেয়ে খারাপ দেশ বলে বিবেচিত হয়েছে।

উন্নত আর ধনী দেশগুলোর স্কুলগুলোতে শিক্ষার বিষয়গুলোকে বেশ গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। যেমন কোন বিষয়টাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত,কোন শিক্ষার্থীর একটু আলাদা যত্ন দরকার,পড়াশোনার কোন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ব্যয় বাড়াতে হবে ইত্যাদি।
কিন্তু অসংখ্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য শিক্ষা বিষয়ক প্রশ্নগুলো অনেক বেশি মৌলিক। সেখানে বাচ্চাদের জন্য আদৌ কি কোন স্কুল আছে যাবার মতো?
জাতিসঙ্ঘের কিছু পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত দশকে বিশ্বের বেশ কিছু দরিদ্র দেশে স্কুল সঙ্কট মোকাবেলায় কোন উন্নতিই হয় নি।
পরবর্তী একটি প্রতিবেদনে শিক্ষার মাণ যাচাই করতে গিয়ে তারা বলেন যে অবস্থা বেশ সঙ্গিন- ৬০ কোটিরও বেশি শিশু স্কুলে যাচ্ছে কিন্তু শিখছে না কিছুই।
পশ্চিমা ধনী দেশগুলোতে যেখানে মেয়েরা পড়াশোনায় ছেলেদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে,সেখানে সাব-সাহারান আফ্রিকার মতো দরিদ্র দেশে স্কুলগুলোয় মেয়েদের খুঁজে পাওয়াটাই বরং দুষ্কর।

তাই আন্তর্জাতিক মেয়ে শিশু দিবস এ জাতিসঙ্ঘ একটি ক্যাম্পেইন 'ওয়ান' পরিচালনা করছে।এখানে মেয়েদের পড়াশোনা অবান্ধব ১০ টি দেশের তালিকা তৈরি করেছে তারা।

সংঘাত-পূর্ণ অঞ্চল
এই ১০ টি দেশের বেশিরভাগ স্কুলগুলোতেই মেয়েদের উপস্থিতি নগণ্য।
এই দেশগুলোর অধিকাংশ পরিবারই দারিদ্র্য,স্বাস্থ্যহানি,পুষ্টি-হীনতা এবং যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে উৎখাতের শিকার।
এখানে ধরেই নেয়া হয় মেয়েরা কাজ করবে,স্কুলে যাবার বদলে।এবং অসংখ্য মেয়ে শিশুর বিয়ে হয়ে যায়,আর এর সাথেই শেষ হয়ে যায় তার শিক্ষার্জনের সমস্ত সম্ভাবনা।
এই সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে মেয়েদের পড়াশোনা ছেড়ে দেয়ার হার অন্যান্য অঞ্চলগুলোর প্রায় দ্বিগুণ-জাতিসংঘের পরিসংখ্যান তাই বলছে।
দেশগুলো বাছাই করা হয়েছে মূলত:
•প্রাথমিক স্কুলের সুবিধা হীন মেয়েদের পরিমাণ
•মাধ্যমিক স্কুলের সুবিধা হীন মেয়েদের পরিমাণ
•প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে পারা মেয়েদের পরিমাণ
•মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা শেষ করতে পারা মেয়েদের পরিমাণ
•গড়ে কত বছর করে মেয়েরা স্কুলে যায়
•নারীদের অশিক্ষার হার
•শিক্ষক প্রশিক্ষণের পরিমাণ বা মাত্রা
•শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত
•শিক্ষায় সরকারী ব্যয়

কিছু দেশের, যেমন সিরিয়ার ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত তথ্য-পরিসংখ্যানের অভাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয় নি।

এরাই সেই ১০ টি দেশ :
১. দক্ষিণ সুদান : বিশ্বের নবীনতম স্বাধীন এই দেশটি অনেক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের মুখোমুখি হয়েছে,ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য স্কুল, পরিবারগুলো বাধ্য হয়েছে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে। এখানে তিন-চতুর্থাংশ মেয়েরাই প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডিই পার হতে পারে না।
২.মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র : ৮০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন মাত্র শিক্ষক।
৩.নিজার : ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সের মেয়েদের মধ্যে মাত্র ১৭ শতাংশ শিক্ষিত।
৪. আফগানিস্তান : তীব্র লিঙ্গ বৈষম্য আছে যেখানে স্কুলগুলোতে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের পরিমাণ বেশি।
৫. চাদ : মেয়ে শিশু এবং নারীদের শিক্ষার্জনের ক্ষেত্রে অনেক সামাজিক আর অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা কাজ করে।
৬.মালি : মাত্র ৩৮ শতাংশ মেয়েরা প্রাথমিক শিক্ষার গণ্ডি পেরোতে সক্ষম হয়।
৭.গিনি: ২৫ বছর বয়সের বেশি নারীরা পড়াশোনায় ১ ঘণ্টারও কম সময় ব্যয় করতে পারে।
৮.বুরকিনা ফাসো : এখানে মাত্র ১ শতাংশ মেয়েরা মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করতে পারে।
৯.লাইবেরিয়া : প্রাথমিক পর্যায়ের দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীই স্কুলে যায় না।

১০.ইথিওপিয়া: পাঁচ জনের মধ্যে দুই জন মেয়েরই ১৮ বছর বয়সের আগেই বিয়ে হয়ে যায়।
শিক্ষকের সঙ্কট এ দেশগুলোর একটি সাধারণ সমস্যা:
গত বছর জাতিসংঘের একটি বক্তব্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে আরও ৬৯ মিলিয়ন শিক্ষকের প্রয়োজন।
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনটি বলছে যে, মেয়েদেরকে যদি স্কুলে রাখা যায় তবে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
এবং ব্যক্তি পর্যায়েও এর প্রভাবটা বেশ সুন্দর, ফ্লোরেন্স শেপ্তোর কথাই ধরা যাক, কেনিয়ার এক দুর্গম গ্রামে বাস করা এই নারী ৬০ বছর বয়সে পড়াশোনা শিখেছেন।
ক্যাম্পেইন ওয়ান এর প্রেসিডেন্ট গেইল স্মিথ মেয়েদের পড়াশোনার এই ব্যর্থতাকে 'দারিদ্র্য উস্কে দেয়ার বৈশ্বিক সংকট' বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, " ১৩০ মিলিয়ন বা ১৩ কোটির এরও বেশি মেয়েরা এখনও স্কুলে যেতে পারছে না। অর্থাৎ সম্ভাবনাময় ১৩০ মিলিয়ন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উদ্যোক্তা, শিক্ষক আর রাজনীতিবিদ যাদের নেতৃত্ব থেকে বিশ্ব বঞ্চিত হচ্ছে"।

 

ধনী দেশে দরিদ্র শিশু
বিশ্বের ধনী দেশগুলির অন্যতম জার্মানি৷ এখানকার জনসাধারণের মোট অর্থের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন ইউরো৷ জিডিপি গোটা আফ্রিকা মহাদেশের জিডিপির দ্বিগুণ৷ কিন্তু এ দেশেও বাচ্চারা যে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত, সেটাই জানা গেছে সমীক্ষায়৷

ডন নিউজ বলা হয়, দৈনিক গরম খাবার নেই, হোমওয়ার্ক করা জন্য নেই কোনো স্থান, শুধুমাত্র এক জোড়া জুতা, ইউনিসেফ-এর একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় জার্মানির দরিদ্র শিশুদের অবস্থা এইভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে৷ অন্যান্য ধনী দেশের তুলনায় এক্ষেত্রে জার্মানি বেশ খানিকটা পিছিয়ে আছে৷ ইউনিসেফের রিপোর্ট অনুযায়ী ১,২ মিলিয়ন ছেলে-মেয়ে তুলনামূলকভাবে দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠছে৷
অনেকেই নতুন কাপড়-চোপড়ের মুখ দেখেনি, বড় ভাই-বোনদের পুরানো জামা-কাপড় পরেই চালিয়ে দিতে হচ্ছে তাদের৷ স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে অংশ গ্রহণ করাও অর্থের অভাবে সম্ভব হয় না অনেকের পক্ষে৷ ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে পড়াশোনায়৷ নেমে যাচ্ছে শিক্ষার মান৷ বাবা-মার অর্থাভাব থাকলে সন্তানদেরও এইভাবে বরণ করে নিতে হয় দারিদ্র্য৷
দরিদ্রদের দুর্দশায় ‘টাফেল'
দরিদ্র মানুষদের দুঃখ দুর্দশা কিছুটা লাঘব করার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে একটি সংস্থা, যার নাম ‘টাফেল'৷ নানা শহরে গড়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির শাখা৷ বিভিন্ন সুপার মার্কেট থেকে উদ্বৃত্ত খাদ্যদ্রব্য, যেমন ভালো অবস্থায় থাকা তরিতরকারি, রুটি, দুগ্ধজাত খাদ্য ইত্যাদি সংগ্রহ করা হয় এই সংস্থাটির জন্য৷ দান করা হয় দরিদ্র বা নিম্নআয়ের মানুষদের৷
জার্মানির গেলসেনকিয়র্শেন শহরে স্থাপিত হয়েছে ‘শিশুদের টাফেল', যা বিশেষ করে দরিদ্র বাচ্চাদের দেখভালের দিকে নজর দিচ্ছে৷ সংস্থার মুখপাত্র হার্টমুট সিমেতৎসেক জানান, ‘‘এটা সত্যি অত্যন্ত বেদনাদায়ক, যখন দেখা যায় বাচ্চারা খালি পেটে স্কুলে আসে৷ শীতকালে জুতার অভাবে শুধু স্যান্ডেলই যাদের ভরসা৷'' শহরটির শিশুদের টাফেল খাবার-দাবার ও কাপড়-চোপড় দিয়ে দুঃস্থ ছেলে-মেয়েদের সাহায্য করে থাকে৷

বছরে ১০০ টন দুগ্ধজাত খাদ্য দ্রব্য, ফলমূল ও তরিতরকারি তো হবেই৷ ‘টাফেল' প্রতিষ্ঠানটি দানের অর্থ, খাদ্য ও বস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল৷ কর্মীদের অধিকাংশই কাজ করেন অবৈতনিক৷ সিমেতৎসেক বলেন, ‘‘এটা অনেকটা সমুদ্রে বারিবিন্দুর মত৷ সমস্যার সুরাহার জন্য প্রয়োজন সরকারি সহায়তার৷''
সামাজিক ভাতার ওপর নির্ভরশীল
গেলসেনকিয়র্শেন শহরের প্রতি তিনে একজন শিশু সামাজিক ভাতার ওপর নির্ভরশীল৷ অনেকেই টাফেল-এর সাহায্য নিতে আসে৷ দীর্ঘ সময় ধরে চলা নতুন এক সমীক্ষার ফলাফলে জানা গেছে, শিশু ও কিশোরদের বিকাশে দারিদ্র্য হল সবচেয়ে বড় ঝুঁকি৷ সমাজকর্ম ও শিক্ষা ইন্সটিটিউট, সংক্ষেপে আইএসএস-এর সমাজ বিজ্ঞানী গ্যার্ডা হলৎস ‘জার্মানির মতো একটি ধনী দেশে দরিদ্র হওয়ার অর্থ কী' বিষয়টি নিয়ে ১৫ বছর ধরে গবেষণা করেছেন৷

সমীক্ষায় দরিদ্র বলতে সেই সব পরিবারকে ধরা হয়েছে, যাদের আয় সমাজের গড় আয়ের অর্ধেক৷ অর্থাৎ দারিদ্র্য নিয়ে আলোচনা করতে হলে দেশটির ঐশ্বর্যের দিকেও দৃষ্টি দিতে হয়৷ বলেন গ্যার্ডা হলৎস৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘আমাদের এখানে দারিদ্র্য বলতে বোঝায়: বাচ্চারা পরিমাণমত খাবার পায় না, নিজস্ব কোনো ঘর নেই তাদের৷ অর্থের অভাবে অবসর সময়ের কোনো কর্মসূচিতে যোগ দিতে বা বন্ধু বান্ধবের জন্মদিনে উপহার নিতে পারে না৷''
সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক সংখ্যকই আর্থিক টানাটানির মধ্যে বসবাস করে৷ এর প্রধান কারণ মা-বাবার বেকারত্ব৷ আর বেকারত্বের পেছনেও রয়েছে নানা কারণ: যেমন প্রয়োজনীয় শিক্ষার অভাব, দীর্ঘ দিনের অসুস্থতা কিংবা শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা৷ এছাড়া অভিবাসীদের সন্তানদেরও অনেক সময় পড়তে হয় দারিদ্র্যের কবলে৷
সমীক্ষার ফলাফল
৯০-এর দশকের শেষ দিকে শ্রমিককল্যাণসমিতি আভোর উদ্যোগে শুরু হয় সমীক্ষাটি৷ ছয় বছর বয়স্ক প্রায় ১০০০ ছেলেমেয়েদের নিয়ে গবেষণাটি চালানো হয়৷ কয়েক বছর ধরে এইসব ছেলে-মেয়ের সঙ্গে দেখা করে প্রশ্ন করা হয়েছে৷ ইতিমধ্যে এইসব শিশু বড় হয়ে তারুণ্য ছুঁয়েছে৷ গ্যার্ডা হলৎস ও তাঁর সহকর্মীদের জন্য দারিদ্র্যের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব জানার সুযোগও হয় এইভাবে৷

১৯৯৯ সালে সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী দরিদ্র শিশুদের প্রতি দু'জনের একজন আজও এই বেড়াজাল থেকে বের হতে পারেনি৷ এর ফলে তাদের মধ্যে আচরণগত সমস্যাও দেখা দেয়৷ লেখাপড়ায়ও পিছিয়ে পড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়৷
এই সমীক্ষা থেকে আইএসএস এবং আভো এই দুই প্রতিষ্ঠান এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, এক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন৷ অর্থাৎ মা-বাবার কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে, কিন্ডারগার্টেনের ব্যবস্থা করা, হোমটাস্কে সাহায্য করা, সারা দিনের স্কুলের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারি পদক্ষেপের প্রয়োজন৷ সমীক্ষায় দেখা গেছে, সেই সব শিশুই দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে পেরেছে, যাদের কিন্ডারগার্টেনে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল৷

আভোর প্রধান ভল্ফগাং শ্টাডলার জানান, ‘‘শক্তিশালী ইন্সটিটিউশন বাচ্চাদের সেই সুযোগটাই এনে দেয়, যা তারা বাড়িতে পায় না৷'' এমনকি সরকারি শিশু ও কিশোরসংক্রান্ত রিপোর্টেও এক্ষেত্রে ঘাটতিটা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘‘জামানির শিশুশিক্ষা ও তত্বাবধানের ক্ষেত্রে এখনও অনেক কিছু সংশোধন করার আছে ৷'' 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫