ঢাকা, বৃহস্পতিবার,১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

উপসম্পাদকীয়

রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার চেষ্টার অন্তরালে

মিনা ফারাহ

২৪ অক্টোবর ২০১৭,মঙ্গলবার, ১৯:০১ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ১৪:২৫


মিনা ফারাহ

মিনা ফারাহ

প্রিন্ট

মাদার তেরেসা হওয়ার শতভাগ দায় বাংলাদেশীদের মাথায় চাপিয়ে, যারা রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার চেষ্টা করছে! তাদের অ্যাজেন্ডা বুঝা জরুরি। এই ক্রাইসিসের সাথে ’৭১-এর কিছু বিষয় প্রাসঙ্গিক। ৭১-এর শরণার্থী আমিও, দেখেছি সবাই পরিবার নিয়ে সুখে-শান্তিতে থাকতে চায়।

বারবার যুদ্ধ-দাঙ্গায় ক্লান্তরা অনেকেই নিরাপদ জীবনের সন্ধানে ভারতেই থেকে গেছে, এখনো যাচ্ছে। অনেকেই ফিরে এসে দখল না পেয়ে অথবা পানির দামে বেচতে বাধ্য হয়ে চলে গেছে। অন্য দিকে, ৪৬ বছরের পরিত্যক্ত বিহারিদের বেশির ভাগই স্বদেশে ফিরতে উদগ্রীব; কিন্তু স্বদেশ তাদের ত্যাগ করেছে। আরাকানজুড়ে সু চি’র যে মহাপরিকল্পনা, হলকাস্টের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পই যার একমাত্র তুলনা...। জেনেশুনে কিছুতেই মৃত্যুর মুখে ফেরত যাবে না রোহিঙ্গারা (দ্র: মানবজমিন ২৩ অক্টোবর, যুগান্তর ২২, রোহিঙ্গা সম্পর্কিত আর্টিকেল)।

ফাইন প্রিন্টগুলো পড়তে হবে। এত বেশি মানবতা দেখাতে গিয়ে যে বিরাট ভুল, ‘ভুল নাকি অন্য কিছু?’ মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের কোনো কিছুই সন্দেহ এবং ষড়যন্ত্রের বাইরে নয়। মনে হচ্ছে, ক্ষমতাসীন এবং পরাশক্তিরা মিলেমিশেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের পথের কাঁটা। প্রত্যাবর্তনকেই প্রায়রিটির বদলে ত্রাণ সহায়তাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে, সু চিকেই সমর্থন দিচ্ছে। আর ‘পাশে’ আছে বলে বন্ধুরাষ্ট্র সম্পর্কে জনগণকে ধোঁকা মারছে।

প্রথমে বলল, ঢুকতে দেবে না। হঠাৎই ভাত ভাগাভাগি করে খাওয়ার ঘোষণায় পুরো পরিস্থিতি ওলটপালট। যেন স্বজ্ঞানেই দেশটাকে আগুনের চুলার ওপর বসিয়ে দিলো। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মিয়ানমারকেই চীন-রাশিয়া-ভারতের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা হাইকমান্ড জানেন। তার পরেও ভয়ানক দুর্যোগ চাপিয়ে দিলো কেন? অরাজকতার মধ্যেই তথ্য উপদেষ্টার দাবি, মালয়েশিয়া হতে চাইলে তার মাকেই আরো অনেক দিন ক্ষমতায় রাখতে হবে। প্রশংসার বুলিকে ক্ষমতা দখলের কাজে ব্যবহার করছে। খবর, বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা ক্যাম্প বাংলাদেশে! ওয়াশিংটনে মুহিতের চিৎকার, মিয়ানমার আমাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে চায়। বিষয়টি দাঁড়াল, রোহিঙ্গার বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়ে সুখে থাকা আওয়ামী লীগ, সাপও মারবে না, লাঠিও ভাঙবে না।

টকশো স্টার সুলতানেরা সুষমার বক্তব্যের ফাইন প্রিন্ট পড়তে অক্ষম। বক্তব্যের সারমর্ম, ‘আরাকানে ইকোনমিক ডেভেলমপেমন্ট দ্রুত বাস্তবায়নের মধ্যেই সব সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।’ সুষমার গাঁজার নৌকা পাহাড় বায়। ২০০৮ থেকেই সু চির পরিস্থিতি বাংলাদেশকেও (বিতাড়ন ক্রাইসিস বাদে)। দুই দেশেরই ইকোনমিক ডেভেলমপেমন্ট, দুই বছরের শিশুর গলায় কৈ মাছের পাথালে কাঁটা। আওয়ামী লীগ মাঝপথে, সু চির যাত্রা শুরু।

ব্যবসায়ীদের নিয়ে আরাকানে অর্থনৈতিক জোন গড়ার পরিকল্পনায় সু চি এবং ব্যবসায়ীদের জমজমাট পার্টি (যুগান্তর ২২ অক্টোবর)। রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়ার অবস্থা কোথায়? আমি তো দেখছি না। সু চির উদ্দেশ্য পরিষ্কার। যাচাই-বাছাই শেষে হিটলারের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে নিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবে।
সাপ্তাহিকের সম্পাদক একেবারে উলঙ্গ করে ছাড়লেন। তার প্রশ্ন- সু চিকে ভালো মানুষ হিসেবে ‘সংবেদনশীল’ মানুষ বানানোর সার্টিফিকেট দেয়ার দায়িত্ব কেন নিল পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়? ১২-১৪ লাখ রোহিঙ্গার চাপ কাঁধে সু চির ভাবমর্যাদা উন্নয়নের দায়িত্ব পালন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। আরসার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ২৪ আগস্টের কোনো প্রমাণ বা তথ্য নেই।

নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বন্ধুত্বের নামে শত্রুর বলয়ে আবৃত্ত ক্ষমতাসীনেরাও ক্রাইসিসের অন্যতম পার্টি। উন্নয়নের পাগলামোতে অদম্য এরা, ম্যানহোলের ঢাকনাটুকু দিতে অক্ষম? শত্রু কিভাবে বন্ধু হয়? ’৭১-এ নিরাপত্তা পরিষদে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে চীনের ‘না’, রাশিয়ার ‘হ্যাঁ’ ভোট। ২০১৭তে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে উভয়ের ‘হ্যাঁ’ ভোট। দুই ক্রাইসিসেই দিল্লির বন্ধু রাশিয়া এবং বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ ও মিয়ানমারের পক্ষে চীন-রাশিয়ার ভেটো। তিন পরাশক্তির এহেন পরস্পরবিরোধী অবস্থানে জনমনে আতঙ্ক- ‘ক্ষমতাসীনেরা ভুয়া বন্ধুত্বের শিকার।’


যেখানেই খনিজসম্পদ, সেখানেই ভালচারের দল, সেখানেই ক্রাইসিস। করপোরেট ট্রায়াঙ্গেলে সর্বশেষ বলি- রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠী। উত্তর অনেক, প্রশ্নের অভাব। পুঁজিবাদ যারা বোঝে না, রোহিঙ্গা আলোচনা তাদের জন্য অসম্ভব।
মূল ক্রাইসিস ট্রানজিট, খনিজসম্পদ এবং ক্ষমতা। ভৌগোলিক কারণে আফ্রিকা থেকে এশিয়া পর্যন্ত চীনের ওয়ানবেল্ট-রোডওয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশ। পুঁজিবাদের এই রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির উদ্দেশ্য মার্কিন ব্লকের বিরুদ্ধে চীনপন্থী নতুন শক্তির অভ্যুত্থান, যার কেন্দ্রবিন্দুতে বঙ্গোপসাগার। মিয়ানমার এবং চীন যমজের মতো। চীন-ভারত চরম শত্রু। এই যুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চার মতো। আরাকানে যা ঘটছে, সব কিছুতেই ভারতপন্থী-চীনপন্থীদের অঢেল টাকা। নিষেধাজ্ঞা দিলেও কিছুই হবে না। ত্রাণ পাঠাবে কিন্তু নিষেধাজ্ঞা তারা দেবে না। সুতরাং অগণিতকাল ভাত ভাগাভাগি করে খাওয়াতেই হবে।

এজন্যই তৈরি করছে হাসপাতাল, হাজার হাজার টয়লেট, স্কুল, শিশুপল্লী, এতিমখানা, ত্রাণসামগ্রী, বাসস্থান...। বাধ্য হয়ে বিহারিদের মতোই মেইনস্ট্রিমে পৌঁছে যাচ্ছে রোহিঙ্গারাও। অর্থাৎ রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু রোহিঙ্গা নয়।


ভাত ভাগ করে খাওয়ার ঘোষণাটি শতাব্দীর সেরা উসকানিতে পরিণত হয়েছে। হাইকমান্ডের উদারতাকে রোহিঙ্গা বিতাড়নে ব্যবহার করছে হুন্তা এবং ভারতীয়রা। রোহিঙ্গাদের মধ্যে রব- চলো চলো বাংলাদেশ চলো। সুতরাং মানবতার ঘোষণাটি রীতিমতো অভিশাপে রূপ নিয়েছে। ঢল নামাচ্ছে হন্তারা, সাথে সাথে গণভবনে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মুখে মানবতার মলমথেরাপি? প্রশ্ন, তারা কেন কিছু রোহিঙ্গা অন্য দেশে পাঠাচ্ছে না?

আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারো সাথে যুদ্ধ নয়- সবার সঙ্গেই বন্ধুত্বের পররাষ্ট্রনীতি! তাহলে এত অস্ত্র কিনছে কেন? মূলত মধ্যপ্রাচ্যের শাসকেরা যা কেনে, সেগুলোই কিনে বহুবার হেডলাইন হয়েছে। ২৫৬ মিলিয়ন ডলারের দু’টি চীন-সাবমেরিন ক্রয়। ২০১৩ সালে রাশিয়ার সাথে এক বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি। ভারত এবং চীনের সাথেও রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র ক্রয়। তিন শক্তি মিলে ঋণে ডুবিয়ে অস্ত্র বিক্রির প্রতিযোগিতায় পাগলই হয়ে গেছে। প্রশ্ন, বন্ধুত্বের সংজ্ঞা কী? ১৯ বার আকাশসীমা লঙ্ঘনের পরেও শক্তি প্রদর্শনের বদলে যৌথ অভিযানের বাহানা কেন? শত্রুরা বন্ধু হলে- সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ কিনল কেন?

আরাকানে ভারতপন্থী-চীনপন্থীদের ভূমিকা এত কম জানলে চলবে? ধমক খেয়ে নাটের গুরু নিত্যানন্দ জাতিসঙ্ঘ ইতোমধ্যে লুঙ্গি পাল্টেছে। ভেটো পাওয়ারদের চাঁদা এবং নির্দেশনার শেকলে বন্দী সংস্থাটি। যখন এরা প্রশংসায় নামে, বুঝতে হবে, ডালমে কুচ কালা হ্যায়।


বন্ধুত্বের ফাইন প্রিন্ট
-এথনিক ক্লিনজিং চলাকালীন সু চি’র সাথে সাক্ষাৎ করে মিয়ানমারকে পূর্ণ সমর্থন মোদির।

-অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা না দেয়ার ঘোষণা আমেরিকার।

-মার্কিন মিডিয়াতে রোহিঙ্গা অনুপস্থিত।

-চীন-রাশিয়ার ঘোষণা, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। ত্রাণ সহায়তা দেবে কিন্তু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের পক্ষে থাকবে পরাশক্তিরা।

-এথনিক ক্লিনজিং ধামাচাপা দিয়েছিল মিয়ানমারে জাতিসঙ্ঘের প্রতিনিধি রেনেটা লক।

-ইইউ রাষ্ট্রদূতের ঘোষণা, মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে সীমাবদ্ধতা আছে।

-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের মন্ত্রীর মুখে রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টি যেন বিহারি বিষয়ে ভুট্টোর প্রত্যাবর্তন...

একনজরে কর্পোরেট ষড়যন্ত্র
২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বিবিসি নিউজের জোনাহ্ ফিশার। হন্তাদের পরামর্শে নির্যাতিত এলাকা পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে বাধা এবং দুর্ভিক্ষের খবর গোপন রেখেছিলেন জাতিসঙ্ঘের এই প্রতিনিধি।
নয়া দিগন্ত ২৯ অক্টোবর, চীন-রাশিয়ার বিরোধিতায় সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ। ১৪ অক্টোবর, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারে অবস্থিত বিদেশী কূটনীতিকেরা নীরব।
বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৪ অক্টোবর- তোফায়েল আহমেদ, ‘ইপিজেড করতেই রোহিঙ্গাদের তাড়াচ্ছে মিয়ানমার।’ (এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে? ক্ষমতাসীনদের ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ব্যাখ্যা কী?)
ইত্তেফাক ১৮ অক্টোবর- ‘একদিনেই ৫০ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ’ (অনুপ্রবেশ শব্দটি সন্ত্রাসী বা গুপ্তচর। প্রকৃত শব্দ শরণার্থী। ২০১৬ সালেও এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা ঢুকেছে কিন্তু ক্ষমতাসীনেরা চুপ)।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, ১৮ অক্টোবর- মিয়ানমারের ওপর জাতিসঙ্ঘের স্টেটমেন্ট বন্ধ করে দিয়েছে চীন-রাশিয়া। গণহত্যা চলাকালে তৈরি রিপোর্টটি ব্লক না করলে পরিস্থিতি হয়তো নিয়ন্ত্রণে থাকত।
২৯ সেপ্টেম্বর, খ্রিষ্টিয়ান সাইন্স মনিটর- রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিভক্ত নিরাপত্তা পরিষদকে চীন-রাশিয়া মিলে বলেছে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নয়, পক্ষে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র সচিবের ১০ অক্টোবরের বক্তব্য- “২০০৮-০৯তে যখন এই বিষয়ে কাজ করছিলাম, তখন বলেছিলাম, রোহিঙ্গা সমস্যা যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে... গত বছরের শেষ দিকে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে প্রতিবেদন পাঠালে প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছু সুপারিশ নাকচ করে বলেন, ‘এগুলোর সময় এখনো আসেনি।’ ... টিক চিহ্ন দিয়ে বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার নির্দেশ। ... গত বছরেই বুঝতে পারি, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে যাচ্ছে মিয়ানমার।”
১৬ অক্টোবর, গার্ডিয়ান- ‘মিয়ানমারের অনুরোধে খবর গোপন করেছে জাতিসঙ্ঘ’ (বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি লিখছে গার্ডিয়ান পত্রিকা।)
‘রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করছে ভারত’ -১৯ অক্টোবর, নয়া দিগন্ত।
ইত্তেফাক ১৭ অক্টোবর- চীনের দ্য গ্লোবাল টাইমসের বরাত দিয়ে যা লিখেছে, ষড়যন্ত্রের সূক্ষ্ম বার্তা।

ফাইন প্রিন্ট যারা পড়তে পারে না, রাজনীতি তাদের জন্য নয়। ‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টায় ভারত-চীন যৌথভাবে নেতৃত্ব দিতে পারে। বেইজিং ও নয়া দিল্লির স্বার্থ বজায় রেখে, দেশ দু’টি রাখাইনে ত্রাণ পাঠাতে, বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা শরণার্থী পুনর্বাসনে এবং মিয়ানমারের সাথে অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সহায়তা দিতে পারে।’

কন্সপিরেসির আরো নমুনা
০১. আগস্টের ঘটনা যখন অক্টোবরের বিভীষিকা, সেই অক্টোবরেই কিনা মিয়ানমার থেকে প্রায় দুই লাখ টন আতপ চাল ক্রয়?

০২. ভারতের সাথে আরো ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি (সর্বমোট ১৪ বিলিয়ন)!

০৩. চীনাদের দিয়ে পদ্মা সেতুর স্প্যান উদ্বোধন এবং বিনিয়োগ বৈঠক (সর্বমোট ৩৬ বিলিয়ন)!

০৪. বিতাড়িত প্রধান বিচারপতির পরেই হন্তাদেরকে অকুণ্ঠ সমর্থন দেয়া রাশিয়ার প্রধান বিচারপতির সুপ্রিম কোর্ট পরিদর্শন এবং সমঝোতা চুক্তি... ফাইন প্রিন্টগুলোই আসল।


হিটলারের কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের আরো প্রমাণ। বিদেশীরা করলেও ‘গণহত্যা’ শব্দটি কিছুতেই ব্যবহার করল না হাইকমান্ড। সংসদেও সু চিকে অসহায় প্রমাণের চেষ্টায় ডেসপারেট। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে সু চি’র সংবেদনশীলতার সাফাই। ‘পাশে’ থাকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো। ‘যাচাই-বাছাই’ শব্দ দু’টি বাদ দিয়ে সু চি’র ভুয়া আশ্বাসের প্রশংসা।
‘এগুলোর সময় এখনো আসেনি’- পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্যে ‘এগুলো’ বলতে কী বুঝিয়েছে? রোহিঙ্গাদের ঢল নামার আশঙ্কা থেকেই কি সুপারিশগুলোকে নাকচের ইঙ্গিত ‘এগুলো’? ২০১৬ সালেও প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার প্রবেশ।

মানবতা দেখাতে গিয়ে যে শূলে চড়ালেন হাইকমান্ড, দ্রুত এর ব্যাখ্যা প্রয়োজন। মলমথেরাপিস্টদের কেউই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে প্রমাণ করল, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে স্থায়ী করতেই মাছের মায়ের কান্নাকাটি। ১৮ অক্টোবর ইইউ দূতের দু’টি বক্তব্যে মিলিয়ন ডলারের উত্তর।
মানবজমিন ১৯ অক্টোবর- “... রোহিঙ্গা সঙ্কটে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সময় লাগবে। তার মতে, এ সঙ্কট নিরসনে রাশিয়া, চীন ও ভারতের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মিয়ানমারে চীনের বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের বিষয়টি সঙ্কট সমাধানে যেকোনো উদ্যোগের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিচ্ছে।’

নয়া দিগন্ত ১৮ অক্টোবর- মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে সীমাবদ্ধতা আছে। -ইইউ রাষ্ট্রদূত। ‘এই ভূমিকা জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে আমাদের কাছে দৃশ্যমান হয়েছে। এ জন্য আমরা রাখাইন সঙ্কট নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদে অনেক প্রস্তাবই পাস করতে পারিনি। এর সাথে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত। চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে মিয়ানমার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এসব কারণে মিয়ানমারে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ও জাতিগত নির্মূল অভিযান চলার পরেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সমন্বিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দ্বিধাগ্রস্ত।’

অতএব হিন্দু, বিহারি, রোহিঙ্গা... ক্রাইসিসের রঙ এক। প্রতিটি ঘটনাই আওয়ামী আমলে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আওয়ামী বন্ধুদের অবস্থান, ’৭১-এর পাকিস্তানের মতোই নৃশংস্য। ’৭৩-এর চুক্তি অনুযায়ী ফেরত নেয়ার আগেই প্রায় এক লাখ যুদ্ধবন্দীকে ফেরত। পররাষ্ট্রনীতি আওয়ামী লীগকে দিয়ে হবে না। হিন্দু এবং বিহারিদের পর রোহিঙ্গারাও প্রমাণ করল, আওয়ামী লীগ রাজনীতি বোঝে না।

সারমর্ম
বিহারিরা এখনো ফেরত যেতে চায়। হিন্দুদের আত্মা ভারতে, দেহ বাংলাদেশে। সু চি’র কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে কিছুতেই ধরা দেবে না রোহিঙ্গারা। বরং পরিবার-পরিজন নিয়ে বাংলাদেশেই নিরাপদে থাকতে চায়। আর সেটাই সফল করতে যেন পরাশক্তিদের সাথে হাত মিলিয়েছে আওয়ামী লীগ।

ইমেইল : farahmina@gmail.com
ওয়েবসাইট : www.minafarah.com

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫