ঢাকা, সোমবার,২০ নভেম্বর ২০১৭

চট্টগ্রাম

মিরসরাইয়ে ভেসে গেছে কয়েক কোটি টাকার মাছ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

২৩ অক্টোবর ২০১৭,সোমবার, ১৭:০৭


প্রিন্ট
ভেঙ্গে যাওয়া প্রকল্পের বাঁধ মেরামত করছেন মৎস্য চাষীরা

ভেঙ্গে যাওয়া প্রকল্পের বাঁধ মেরামত করছেন মৎস্য চাষীরা

টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ফেনী নদীর জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে কয়েক কোটি টাকার মাছ। চট্টগ্রামের মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত মিরসরাইয়ের মুহুরী প্রজেক্ট এলাকার প্রায় ৯০ একর মৎস্য প্রকল্প থেকে এসব মাছ চলে গেছে। এতে করে ক্ষতি হয়েছে প্রায় শতাধিক মৎস্য চাষীর।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওছমানপুর ও ইছাখালী ইউনিয়নে অবস্থিত বিভিন্ন মৎস্য প্রকল্পের বাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে। অনেক চাষী বাঁধ মেরামতের আপ্রাণ চেষ্টা করেও পানির স্রোতের কারণে পেরে উঠছে না। ওছমানপুর ইউনিয়নের বাঁশখালী মৌজায় অবিস্থত আবুল খায়ের হেঞ্জু, নুরন্নবী, আবুল কাশেম, আলম মিয়া, তাহের মুন্সি, ফারুক, কাঙ্গাল জলদাশ, বাসু দেব, আবুল হাশেম, আনোয়ার হোসেন হেঞ্জু, ইউসুফসহ ৫৫ জন মৎস্য চাষীর চাষকৃত প্রায় ১৩ একর প্রকল্পের মাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে।

মৎষ্য চাষী আবুল খায়ের হেঞ্জু ও নুরন্নবী জানান, কয়েক মাস পূর্বে আমাদের ৫৫ জনের মালিকানাধীন ১৩ একর প্রকল্পে চিংড়ি, তেলাপিয়া, মৃগেল, কাতাল, রুই, পাঙ্গাস, গ্লাস কার্প, শিং, মাগুর সহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছের পোনা দিয়েছি। খাদ্য মেডিসিন সহ প্রায় ৭০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এবারের ভারি বর্ষনে প্রকল্পের বাঁধ ভেঙ্গে ফেনী নদীর জোয়ারের পানি প্রবেশ করে সব মাছ চলে যায়। তারা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ফেনী নদীতে নির্মিত মুহুরী প্রজেক্ট সেচ প্রকল্পের গেইট বন্ধ রাখার কারণে জোয়ারের পানি প্রকল্পে ঢুকে আমাদের সর্বনাশ করেছে। এছাড়া মুহুরী প্রকল্প এলাকায় চাষকৃত আনোয়ার এগ্রোর প্রায় ৮ একর প্রকল্প থেকে মাছ ভেসে যায়।

মৎস্য চাষী আনোয়ার হোসেন বলেন, জোয়ারের পানিতে বাঁধ ভেঙ্গে প্রকল্প থেকে বড় সাইজের তেলাপিয়া, মৃগেল, রুই সহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। এতে করে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হয়েছি আমি। ইছাখালী এলাকায় চাষ করা কামাল উদ্দিনের ১০ একর, আবছারের ২৫ একর, সাব্বিরের ১৫ একর, ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ৮ একর, মিজানুর রহমানের ১০ একর মৎস্য প্রকল্প থেকে প্রায় কোটি টাকা মাছ ভেসে গেছে বলে দাবী করেছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

মৎস্য চাষী কামাল উদ্দিন বলেন, আমার ১০ একর প্রকল্পে মাছ চাষ করেছি। নিয়মিত প্রকল্পে কঠোর পরিশ্রম করছি। কিন্তু যখন মাছ বাজারে বিক্রি করবো ঠিক তখনি জোয়ারের পানিতে বাঁধ ভেঙ্গে সব মাছ চলে গেছে।

মৎস্য চাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশের ৬ষ্ঠ সেচ প্রকল্প মুহুরী প্রজেক্টের গেইটগুলো বন্ধ করে রাখার কারণে তাদের এমন ক্ষতি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে আঁতাত করে ফেনী নদীতে অবৈধভাবে মাছ চাষ করছে কিছু লোক। তাদের সুবিধা দিতে গিয়ে আমাদের ক্ষতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এই বিষয়ে সুইসগেইটের দায়িত্ব থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুরুল আবছার জানান, ৪০টি গেইটের মধ্যে ২০টি গেইট সব সময় খোলা থাকে। বন্ধ গেইটগুলো বিদ্যুৎ না থাকায় রবিবার দুপর পর্যন্ত খুলে দেয়া সম্ভব হয়নি। পরে জোয়ার আসা মাত্র গেইটগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। অসাধু মৎস্য চাষীদের সাথে আতাতের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।

এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, মুহুরী প্রজেক্ট এলাকায় জোয়ারের পানিতে মাছ ভেসে যাওয়ার বিষয়টি কোনো চাষী আমাকে জানায়নি। তারপরও আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫